মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০০৯

আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্টের জন্য ন্যাশনাল কংগ্রেস আয়োজনে বিজ্ঞান প্রতিমন্ত্রীর সহায়তার আশ্বাস

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৬:০৬ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

বিজিডব্লিউসিআইডি প্রতিনিধি দলের সাাৎ

বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্র“প ফর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্টের (বিজিডব্লিউসিআইডি) উপদেষ্টা সংসদ সদস্য আকরাম হোসেন চৌধুরী ২৩ মার্চ এক প্রতিনিধি দল নিয়ে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সাথে বৈঠক করেছেন। আকরাম হোসেন মন্ত্রীকে ডব্লিউসিআইডি এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্র“প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। বিজিডব্লিউসিআইডি’র পে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতার হোসেন চীনে আগামী ২-৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ডব্লিউসিআইডি ২০০৯ বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং ওয়ার্কিং গ্র“প গঠন এবং উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। এসময় তিনি চীনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশী অংশগ্রহনকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য মন্ত্রীকে আহবান জানান। প্রতিনিধি দলের প থেকে ডব্লিউসিআইডি ২০০৯-এ অংশ নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের নিবিড় সহযোগিতায় ন্যাশনাল কংগ্রেসের আয়োজন করতে মন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়।
ইয়াফেস ওসমান এ ব্যাপারে তার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বিজিডব্লিউসিআইডি’র কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবহিত বলে জানান। তিনি তার মন্ত্রণালয়ের প থেকে এ ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। ন্যাশনাল কংগ্রেস আয়োজনেও তার সর্বাত্মক সহায়তা থাকবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
বাংলাদেশ এনজিও’স নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিএনএনআরসি) সিইও এএইচএম বজলুর রহমান এবং মাসিক কমপিউটার জগৎ-এর সহকারি সম্পাদক এম. এ. হক অনু এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্র“পের অপর সদস্যরা হলেন আপলোড ইয়োর সেলফ লিমিটেডের সিইও এবং চেয়ারপার্সন ফারহানা এ রহমান ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক এ এ মুনির হাসান।

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০০৯

টেলিমেডিসিনের জন্য ৮শ পয়েন্টে ওয়ারলেস ইন্টারনেট দেয়া হবে

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৬:১২ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

টেলিমেডিসিনের জন্য ৮শ পয়েন্টে ওয়ারলেস ইন্টারনেট দেয়া হবে

ঢাকা, ২৯ মার্চ (মিডিয়া ফর মিডিয়া)- চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে টেলিমেডিসিনের কথা সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এজন্য আগামী মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্য খাতের প্রায় ৮শ’টি পয়েন্টে ওয়ারলেস ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হবে।

সংযোগের আওতায় আসবে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্প বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অফিস, সিভিল সার্জন অফিস, সকল মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ, সকল মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, সকল ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, সকল ম্যাটস ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির দু’দিনব্যাপী ২২তম বৈজ্ঞানিক কংগ্রেসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা জনানা।

তিনি বলেছেন, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা ও জীবনের গতিময়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতা চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তাই অর্থোপেডিক ও ট্রমা চিকিৎসা এবং অর্থোপেডিক সার্জারি চিকিৎসা সুবিধার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ের বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসক ও চিকিৎসা খাতের ব্যবস্থাপকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, ইতোমধ্যে সকল জেলা সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সাধারণ সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও চিকিৎসকদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক ও সচেষ্ট। চিকিৎসকদের প্রতিটি পদোন্নতির জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মুখোমুখী হতে হয়, অন্য সার্ভিসের কর্মকর্তাদের তেমনটি করতে হয় না, এটি বড় ধরনের বৈষম্য। এ বৈষম্য নিরসনের জন্য সক্রিয়ভাবে চিন্তা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক শেখ নূরুল আলম এবং সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বক্তৃতা করেন ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তিন'শ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৬:১০ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

বৃহষ্পতিবার প্রায় তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে ন্যাশনাল আইপি ব্যাকবন তৈরির লক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিক সমূহের মধ্যে রয়েছে নতুন অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিদ্যমান অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করে উচ্চমতা সম্পন্ন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে আইপি ভিত্তিক বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য একসেস নেটওয়ার্ক স্থাপন।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট একসেস স্পিড ২৫৬ কেবিপিএস বা তার অধিক থাকবে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিপিএন, পয়েন্ট টু মালটি পয়েন্ট ট্রিপল প্লে বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট আইপি ফোন, আইপিটি ভুক্ত এবং ভবিষ্যতে আইপি ভিত্তিক যেকোন সেবা সুবিধা পাওয়া যাবে।

মেসার্স কেটি কর্পোরেশন কোরিয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রকল্পবাস্তবায়নকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেটি কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।সরকারের পক্ষে বিটিসিএল এমডি এসএম খাবিরুজ্জামান এবং মেসার্স কে টি কর্পোরেশন, কোরিয়ার পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাং সু হো চুক্তি স্বাক্ষর করেন।ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বলেছেন, দেশের ৬টি বিভাগীয় শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে ইন্টারনেট ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে আরো একধাপ অগ্রগতি সূচিত হলো।

তিনি ঢাকায় টেলিযোগাযোগ ভবন সম্মেলন কক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীল কান্তি বোস, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ, বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সুক বাম পার্ক এবং বিটিসিএল এর এমডি এস এম খাবিরুজ্জামান বক্তৃতা করেন।মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইন্টারনেট ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক এক্সপানশন (ইনফোবাহন) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে তথ্য প্রযুক্তি বিকাশে এক যুগান্তকারী ইতিহাসের সূচনা হবে। ছাত্র ছাত্রীরা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞান বিকাশের অবারিত সুযোগ পাবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কোরীয় সহযোগিতা কামনা

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৬:০৩ AM 1 মন্তব্য(গুলি)
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কোরীয় সহযোগিতা চেয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সুক বাম পার্ক আজ সোমবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাত করতে এলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহায়তাসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কোরীয় সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে কোরীয় ইপিজেড, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা ছাড়াও বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কের বিস্তারিত দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ডাঃ দীপু মনি বাংলাদেশের চামড়া শিল্প, পর্যটন, শিক্ষা, সার, কম্পোজিট টেক্সটাইল, পাট ও পাটভিত্তিক শিল্প, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতে কোরীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ইপিএস এর আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ হতে জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টি দ্রুততর করার জন্য তিনি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ট, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতার সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন। উলে¬খ করা যেতে পারে বৈদেশিক বিনিয়োগকারী হিসেবে ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোরীয় দূত বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় ডাঃ দীপু মনিকে অভিনন্দন জানান। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক কোন সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন তবে তার সরকার ও সেদেশের জনগণ অধিকতর খুশি হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৫:৪১ AM 1 মন্তব্য(গুলি)
একটি সকাল: “কলিংবেলের শব্দে একটু আলসেমি নিয়েই ঘুম থেকে উঠল পুলক, গতকাল সারাদিন খুব ব্যস্ততার মধ্যে সময় কেটেছে, সারাদিন ধরে আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে আসা ইলেকট্রনিক রিপোর্টগুলোর সারসংপে তৈরী করে সেটা নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত হেড অফিসের সাথে ভিডিও কন্ফারেন্সিং শেষ করার পর ঘুমুতে যেতে পেরেছে। যা হোক, দরজা খুলতেই পুলক দেখতে পেল যে গতকাল অন্লাইনে অর্ডার দেয়া শাড়িটি সুন্দরভাবে প্যাকেট করে হাসিমুখে ডেলিভারীম্যান আনিস ভাই দাঁড়িয়ে আছে। আচ্ছা, প্যাকেটের উপরের স্বচ্ছ অংশ দিয়ে দেখে শাড়ির রংটা বেশ গাঢ় গোলাপী মনে হচ্ছে কেন! অথচ ওদের ওয়েবসাইটে তো শাড়িটির রং সুন্দর হালকা গোলাপী মনে হয়েছিল! অন্লাইনে জিনিসপত্র কেনার এই এক সমস্যা। লতাকে মানাবে তো এই গাঢ় রং! আসলে পুলকের পছন্দ হয়েছিল অন্য একটি সাইটের হালকা নীল রংয়ের শাড়িটি, যদিও ওটার দাম সামান্যই বেশী ছিল, কিন্তু গতকালই বাসার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলগুলো পুলকের ক্রেডিট কার্ড থেকে অটোমেটিক্যালি কেটে নেওয়ায় কার্ডে ব্যালান্স বেশী ছিল না। কি আর করা! যা হোক, তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে বাড়ী যাবার জন্য ট্রেন ধরতে যেতে হবে। এই ট্রেনে এত ভীড় হয় আজকাল যে টিকেট পাওয়াই মুশকিল! ভাগ্যিস পরশু রাতেই পুলক ঘুমুতে যাবার আগে ইন্টারনেটে ‘সিল্কসিটি ইন্টারসিটির’ রিজার্ভেশনটা করে রেখেছে। ... .. .. ” - এটিই হচ্ছে আমাদের স্বপ্নের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ একটি খন্ডিত চিত্র।

ভূমিকা: আমরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ডিজিটাল প্রোডাক্টের নাম শুনে থাকি, যেমন, ডিজিটাল ক্যামেরা, ডিজিটাল ঘড়ি, ডিজিটাল ফোন, ইত্যাদি, ইত্যাদি। এরই সাথে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে
আরেকটি নাম, “ডিজিটাল বাংলাদেশ”, সন্দেহ নেই যে এই নতুন নামটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে! এই ডিজিটাল বাংলাদেশ ও এটি বাস্তবায়নের েেত্র প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহের ব্যপারে একটি ছোট ও সাধারণ ধারণা দেয়াটাই এই লেখাটির ুদ্র প্রয়াস।

প্রাথমিক ধারণা: প্রথমে ডিজিটাল সিস্টেম সম্পর্কে একটি ধারণা নেয়া যাক। ডিজিটাল সিস্টেম হচ্ছে এমন একটা সিস্টেম যেখানে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত ধেকে শুরু করে যে কোন ধরনের একটা ডকুমেন্ট কিংবা ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিসমূকে গাণিতিকভাবে ‘১’ ও ‘০’ দিয়ে প্রকাশ করা হয় ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাপনায় সংরণ করা হয়,
যাদের বলা হয় “ডিজিটাল ডাটা’। একটা উদহারণ দেয়া যাক, ‘ক’ কে যদি ‘০১০০’ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তেমনি ‘ল’ ও ‘ম’ কে যদি যথাক্রমে ‘০১০১’ ও ‘০১১০’ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাহলে, ‘কলম’ কে প্রকাশ করা হবে ’০১০০০১০১০১১০’ দিয়ে। এই ডিজিটাল ডাটার প্রধান সুবিধা হল যে ডিজিটাল ডাটাকে যে কোন প্রয়োজন অনুসারে অনেক সহজে প্রক্রিয়াকরণ করা যায়। তা ছাড়াও, ডিজিটাল ডাটার এক স্থান হতে অন্য স্থানে আদান-প্রদান পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনাও অনেক বেশী নির্ভরযোগ্য ও ত্র“টিমুক্ত। এই কারণেই আজকাল মোবাইল ফোনসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডিজিটাল ডাটা ব্যবহার করা হয়।
আগেই বলেছি যে ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি নতুন শব্দ, একটি নতুন ধারণা, একটি নতুন স্বপ্ন। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আমি যেটা বুঝেছি তা হল, বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী অফিস, শিা, গবেষণা ও সেবামূলক এবং বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ে দাপ্তরিক, শিা-গবেষণামূলক, সেবামূলক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজন অনুসারে যাবতীয় তথ্য, উপাত্ত, ডকুমেন্ট, ইত্যাদি সংগ্রহ, সংরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও আদান-প্রদান ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হবে। কম্পিউটার ও কম্পিউটারের সহযোগী যন্ত্রপাতিসমূহ, যেমন, স্ক্যানার, প্রিন্টার, ক্যামেরা, ইত্যাদি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাদি ও সর্বোপরি ইন্টারনেট ও সাপোর্টিং সফট্ওয়্যার হচ্ছে এই ডিজিটাল বাংাদেশ গড়ে তোলার জন্য মূল কারিগরি ভিত্তি।

প্রায়োগিক ত্রে: ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাকে প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, ইলেকট্রনিক-প্রশাসন বা সরকারী েেত্র এটাকে ইলেকট্রনিক-গভর্ণমেন্ট বলা যেতে পারে, ইলেকট্রনিক-সেবা এবং ইলেকট্রনিক-ব্যবসা-বাণিজ্য। এই তিনটিরই ত্রে অনেক ব্যাপক হওয়ায় এসব নিয়ে এই স্বল্পপরিসরে সম্পূর্ণ আলোচনা করা অসম্ভব, সেজন্য আমি দূু-একটি বিষয়ের উপর সামান্য আলোকপাত করার চেষ্টা করব।
আনন্দের কথা এই যে এই ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ, বাংলাদেশের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের একটি ডাটাবেস প্রস্তুতকরণ, গত জাতীয় নির্বচনের পূর্বে সম্পন্ন করা হয়েছে - যেটা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।

ইলেকট্রনিক-গভর্ণমেন্ট হচ্ছে এমন এক ব্যবস্থা যেখানে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের, সরকারের সাথে সাধারণ নাগরিকের, সরকারের সাথে সরকারী-বেসরকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ও সরকারের সাথে তার নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগাযোগ, তথ্য ও নির্দেশনা সংগ্রহ ও আদান-প্রদানসহ যাবতীয় কর্মকান্ড ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে করা হবে। যেমন, একজন নাগরিক তার পাসপোর্ট, নাগরিক সনদপত্র, সরকারী চাকুরী, পেনশন ইত্যাদির জন্য ঘরে বসেই ইন্টারনেট বা কোন কোন েেত্র এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে। আবার যেমন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশের সকল থানা সমূহকে কম্পিউটারাইজ্ড করণপূর্বক সেটাকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে, থানার সকল কাজকর্ম, অপরাধের ধরন ও অপরাধীদের ছবি ও তথ্যসহ সকল বিষয় কম্পিউটারে সংরণ করে এমন একটা ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যেখানে বালাদেশের যেকোন স্থান থেকেই ঐ সংরতি তথ্য সমূহ দেখা ও ব্যবহার করা যাবে, এমনকি স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বা আইজিপি নিজেই নিজ কার্যালয়ে বসেই এ সকল কাজকর্ম পর্যবেণ করতে পারবেন, সবার সাথে মিটিং করতে পারবেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবেন। এর ফলে কাজকর্মের গতিও যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি দতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। একইভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন আঞ্চলিক ও স্থানীয় দপ্তর থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কৃষি উৎপাদন, কৃষি উপকরণ, কৃষি-বাজার ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য, উপাত্ত, সমস্যা ও পরামর্শ প্রণয়ন সমূহ ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে। তবে ত্রেবিশেষে কিছু বিষয় ল্য রাখতে হবে, যেমন, উত্তরবঙ্গ মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা, তাই ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনা চালু করলে এই এলাকা উপকৃত হবে বেশী তাতে সন্দেহ নেই। তবে যেহেতু এই এলাকার মাথাপিছু আয় দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় কম এবং এখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেশ কম, তাই ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনাটা সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ভিত্তিক করার চাইতে, মোবাইল ফোন বা এসএমএস ভিত্তিক করতে পারলে এই এলাকার মানুয়ের হাতে হাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল বেশী পৌছাবে ।
যা হোক, একইভাবে শিা মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল দপ্তরসমূহের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা ও কর্মকান্ড পর্যবেণ, নির্দেশনা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরকরণ ছাড়াও বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিা ও গবেষণামূলক তথ্য, উপাত্ত, ইলেকট্রনিক-বই সমূহ আদানপ্রদানও ডিজিটাল ব্যবস্থার অধীন হতে পারে। এইভাবে বাংলাদেশের প্রতিটা মন্ত্রণালয়ই ডিজিটাল বাংলাদেশের একেকটি অংশ হতে পারে।

টেলি-মেডিসিন এবং অনলাইনে আইনী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ইলেকট্রনিক-সেবা প্রদানের আরো কয়েকটি উদহারণ। এই টেলি-মেডিসিনে দূরবর্তী চিকিৎসকের পরামর্শ ও সেবা নেওয়া সম্ভব। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পৌছে দেয়া সম্ভব হবে। এছাড়াও সরকারী ও বেসরকারকারী সেবাখাতসমূহের বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধাও যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি সময় ও অর্থেরও সাশ্রয় হবে।

ইলেকট্রনিক-ব্যবসা বা ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা হচ্ছে এই সময়ের সবচেয়ে অগ্রসরমাণ ব্যবসা পদ্ধতি। ইন্টারনেট ভিত্তিক এই বাজারের পরিধি আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ঘরে বসে ২৪ ঘন্টাই যেকোন পণ্যের অর্ডার দেয়া যেতে পারে ও অনেক ব্যবসায়িক কাজকর্ম করা যেতে পারে। এইসব পণ্যের তালিকায় বাস-ট্রেনের টিকেট থেকে শুরু করে গান, সিনেমা, বই, জামা-কাপড়, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, গাড়ী, বাড়ি, জমি সবই হতে পারে। ব্যবসায়িক কাজকর্মের মধ্যে ঘরে বসে ২৪ ঘন্টাই ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন থেকে শুরু করে শেয়ার কেনাবেচা, নিলামে অংশগ্রহণ সবই হতে পারে। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা করা যায়।

মৌলিক শর্তাবলী: প্রথমেই দেখা যাক যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটি বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত ও কার্যকরী পদপেগুলো কি ধরণের হতে পারে।
যেহেতু ডিজিটাল পদ্ধতির প্রধান কারিগরি উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার ও কম্পিউটারের সহযোগী যন্ত্রপাতিসমূহ, টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান সংক্রান্ত অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থাসমূহ, সুতরাং শুরুতেই বলা যায় যে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবস্থাপনা ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শর্ত। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ, এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ২০ শতাংশ মানুষও এই সুবিধার আওতায় নেই। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ, লো-ভোল্টেজ ছাড়াও লোডশেডিং মাঝে মধ্যে দিনে ১০ ঘন্টারও বেশী হয়। সুতরাং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবস্থাপনার এই মৌলিক শর্তটি পূরণ না করে সার্থক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্নটি শেষপর্যন্ত একটি দিবাস্বপ্ন হয়ে যেতে পারে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান সংক্রান্ত উন্নত ও দ্রুতগতিসম্পন্ন যোগাযোগ কাঠামো নিশ্চিত করা, এই যোগাযোগ কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানত “ফাইবার অপটিক” ব্যবহার করা হয়, এবং এটা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা ছাড়াও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যবস্যা গড়ে তোলার জন্য অন্যতম প্রধান কারিগরি পূর্বশর্ত। বর্তমানে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হলেও, আভ্যন্তরিক-দ্রুতগতিসম্পন্ন তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার অভাবে এই সংযোগের পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে, এখন দরকার, দেশের আভ্যন্তরিক-দ্রুতগতিসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতে বড় বড় কর্পোরেট থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়েও দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা যায়। এটা ব্রডব্যান্ড হতে পারে কিংবা অপটিক ফাইবার হতে পারে কিংবা ওয়াই-ম্যাক্সও হতে পারে। বেসরকারকারী টেলি-অপারেটরদের নিজস্ব অপটিক ফাইবারের নেটওয়ার্ক যদিও দেশের অনেকটা জুড়ে রয়েছে, কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন যে সেটা খুবই ব্যয়বহুল, বলতে গেলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে, ফলে এটা ব্যাপকভিত্তিক জনগণের জন্যে বা বানিজ্যিক পর্যায়ে ব্যবহারের উপোযোগী নয়। অন্যদিকে সরকারী প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের এইধরনের যোগাযোগ কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যদিও রয়েছে, তবে তার বাস্তবায়নের হার খুবই ধীরগতিসম্পন্ন । সুতরাং দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে তা হল সস্তায় সাধারণ মানুষের হাতে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সুবিধাদি পৌছে দেয়া।

তৃতীয়ত যে বিষয়টা ল রাখা যেতে পারে সেটা হল, যেহেতু বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ও ব্যবহার করার সামর্থ্য এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পৌছে নাই, তারচেয়ে বরং মোবাইল ফোন সাধারণ মানুয়ের অনেক কাছাকছি পৌছেছে, সেই কারণে ডিজিটাল বাংলদেশের বাস্তবায়নের সময় এটাকে ইন্টারনেট ভিত্তিক করার পাশাপাশি, যতটুকু সম্ভব, এসএমএস ভিত্তিক করার চেষ্টা করতে হবে যাতে এটা সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যেতে পারে।

আইনী কাঠামো: ডিজিটাল ডকুমেন্টগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা আইনী দৃষ্টিকোণ থেকে নিশ্চিত করতে হবে। উদহারণ দেয়া যাক, দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য হার্ডকপি ছাড়াই কোন্ কোন্ ধরণের ইলেক্ট্রনিক ডকুমেন্ট প্রহণ করা হবে বা হবে না, কোন্ কোন্ অপরাধকে সাইবার অপরাধ বলা হবে ও তার জন্যে শাস্তির বিধান কেমন হবে, ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদির গ্রহণযোগ্যতা কোন্্ কোন্ েেত্র থাকবে বা থাকবে না, এইসব বআপারে সুনির্দিষ্ট আইনী কাঠামো থাকা প্রয়োজন। এই আইনী কাঠামো কিভাবে নির্ধারিত হচ্ছে তার উপর নির্ভর করবে ডিজিটাল বাংলাদেশে ব্র্যপ্তি কতটুকু হবে।

পূনর্বাসনকরণ: ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার অর্থই হবে যে অফিস, আদালত, ব্যাংক ইত্যাদিতে অনেক অল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অনেক দভাবে কাজকর্ম পরিচালনা করা সম্ভব হবে, ফলে এইসব স্থানে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের হার কমে যাবে, তেমনি অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন পড়বে। এইকারণে এই ব্যাপারে আগে থেকেই পূনর্বাসন পরিকল্পনা হাতে নেয়া উচিৎ যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সময় সাধারণ জনগণের মনে এই নিয়ে কোন ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরীর অবকাশ না থাকে।

সাধারণ কারিগরি কাঠামো: বাংলাদেশের সকল সরকারী ও বেসরকারকারী প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক-প্রশাসন চালুর েেত্র একটি কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডার্ড থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই অনেক সরকারী ও বেসরকারকারী প্রতিষ্ঠানে আংশিকভাব নিজস্ব ইলেকট্রনিক-প্রশাসন চালু করেছে বা চালুর প্রক্রিয়াধীন আছে। এইসব প্রতিষ্ঠানে চালুকৃত এই ইলেকট্রনিক-প্রশাসন যদি একটি কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে যখন এইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আ:ন্তযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, সেইসময় গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এইজন্যে ডিডিটাল বাংলাদেশ তৈরীর শুরুতেই এই কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডার্ড নির্দিষ্ট করে দেয়া উচিং।

বানিজ্যিক সম্ভাবনা: আসল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজটি ভীষণ ব্যাপক । এর জন্য প্রয়োজন পড়বে নতুন নতুন অনেক সফটওয়্যার ও অনেক হার্ডওয়্যার স্থাপনকরণ, আর স্থানীয়ভাবে এগুলো ডেভেলপ করতে চাইলে, সেটা হবে একটা বিশাল কর্মত্রে ও বিশাল বাজার, এরজন্য যেমন দরকার ব্যাপক বিনিয়োগের, তেমনি দরকার পড়বে দ পেশাজীবী ও জনশক্তির। এদুটোই বর্তমানে চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পড়বে নতুন নতুন আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপন, এছাড়াও ব্যবহারকারীদের প্রশিণ দেয়া ও রনাবেণ কাজের প্রয়োজনে দ জনশক্তি তৈরীর জন্য দরকার পড়বে অনেক প্রশিণ কেন্দ্রের। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় এই চাহিদা মেটানোর জন্য আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপন করা হলে, সেখানে কর্মরত পেশাজীবীদের পেশাগত দতা যখন দৃদ্ধি পাবে, তখন একসময় তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আস্থা অর্জন ও তাদের আকৃষ্ট করতে সম হবে বা আন্তর্জাতিক আইটি বাজারে সফটওয়্যার রপ্তানীর সুযোগ করে দিতে পারে।

বাংলা-ভাষাভিত্তিক সফটওয়্যার: সাধালণ মানুষের হাতে বাংলাদেশের সুফল কার্য়কর ও ফলপ্রসুভাবে পৌছে দিতে চাইলে কম্পিউটারের সফট্ওয়্যার ও মোবাইল ফোনের মেন্যূগুলো বাংলা ভায়ায় রুপান্তর করতে হবে। উন্নতবিশ্বে, যেমন, জাপান, কোরিয়া, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশে তাদের নিজস্ব ভাষায় কম্পিউটারের সফট্ওয়্যার ও মোবাইল ফোনের মেন্যূগুলো রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ বা অল্পশিতি মানুষের পে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার আয়ত্ব করা বেশ সহজসাধ্য হয়েছে, এইকারণে সেইসব দেশে দৈনন্দিন নাগরিক জীবনে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়াও এর ব্যাপক বানিজ্যিক ব্যবহারও রয়েছে। তাই আমাদেরকেও বাংলা ভাষাভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরীর ব্যাপারে অবশ্যই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

আইটি-ভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা: ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সময় সম্ভাবনাময় যে বিশাল বাজারের কথা বলা হয়েছে, সেই বাজার যেন দেশীয় আইটি ভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ত্বে থাকতে পারে সেজন্যে তাদের যথাযত: প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। এইজন্য তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্য-প্রযুক্তিতে দ পেশাজীবীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ছাড়াও সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তেরীর জন্য স্বীকৃত ও মানসম্মত নিয়মপদ্ধতি অনুসরণ করার অনুশীলন করা উচিং, যেটা এখন পর্যন্ত অধিকাংশ সফটওয়্যার ডেভেলপকারী কোম্পানীগুলোতে অনুপস্থিত। এই সীমাবদ্ধতা এখন থেকেই কাটিয়ে উঠতে না পারলে, এই বিশাল বাজার বিদেশী কোম্পানীগুগোর নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, এতে একদিকে যেমন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হবে, অন্যদিকে তথ্য-প্রযুক্তিতে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও দপেশাজীবী তৈরীর সুযোগ হারানো হবে। এছাড়াও আরেকটা ব্যাপার হল, স্বীকৃত ও মানসম্মত নিয়মপদ্ধতি অনুসরণ করে, একবার ব্যবহারিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরী করতে পারলে সেটা পেশাগত দতাকে প্রমাণ করবে যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরকেও আকৃষ্ট করতে পারে, ফলে এই েেত্র আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরী হবে। আসলে আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলো সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরীর কাজ দেবার আগে যাচাই করে দেখতে চায় যে এইসব তৈরীর ব্যপারে কোম্পনীগুলোর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা কতটুকু আছে। আর স্থানীয় বাজার তৈরী ও সেখানে কাজ করা ব্যতিরেক এই ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও কম থাকে।

বিশ্ববিদ্যায়গুলোর ভূমিকা: উন্নত প্রতিটি দেশে যেকোন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের সময় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় থাকে বা যৌথ উদ্যোগও থাকে, যেটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদেশে অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে বিদেশী প্রতিষ্টানের উপর থেকে যেমন নির্ভশীলতা কমে যায়, তেমনি ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রজীবন থেকেই পেশাগত দতা অর্জনের সুযোগ পায়। এইসব কারণে বিদেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যৌথ গবেষণাপ্রকল্প বাস্তবায়ন কিংবা, সরকারের নিজস্ব কোন প্রকল্প সরকারী সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা ছাড়াও, সরকালী দপ্তর ও সরকারী-বেসকোরী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম কাশ নিয়ে থাকেন। এর ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাবহারিক ও গবেষণামুলক কর্মকান্ডের প্রসার ঘটে, অন্যদিকে তেমনি ছাত্র-ছাত্রীরা ছাত্রজীবন থেকেই ব্যাবহারিক ও পেশাগত জীবনের প্রস্তুতি নিতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের েেত্র এদেশের বিশ্ববিদ্যায়লগুলো প্রয়োজনীয় দ মানবসম্পদ ও পেশাজীবী তৈরী করা ছাড়াও, বাস্তবায়নের সময় যেসব ব্যবহারিক সমস্যা তৈরী হতে পারে, সেসব সমস্যার ব্যপারে গবেষণাপূর্বক সমাধান দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। এছাড়াও কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডাড তৈরী, বা বাংলা ভাষাভিত্তিক সফট্ওয়্যার তৈরীর মত মৌলিক েেত্র বিশ্ববিদ্যালয়গুরো অবদান রাখতে পারে।

প্রশিণ: শুধু দ পেশাজীবী তৈরীর ব্যাপারেই নজর দিলে হবে না, ডিজিটাল বাংালাদেশের সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এর ব্যবহারকারীরা। তবে বাস্তবতা এই যে, এদেশ এখনও তথ্য-প্রযুক্তিতে অনগ্রসর, দেশের অধিকাংশ মানুষই স্বল্পশিতি বা অশিতি, তথ্য-প্রযুক্তির উপকারিতা ও ব্যবহার সম্পর্কে তাদের সামান্যই জ্ঞান রয়েছে, এবং তাদের ব্যাপক অংশকে এই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা ও ব্যবহার করার েেত্রর সাথে সম্পৃক্ত করার উপরই নির্ভর করবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মূল সার্থকতা। এই ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারনা ও ব্যবহারিক দিকের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য যথাযত প্রশিণের ব্যবস্থা এবং কমপে নিম্নমাধ্যমিক স্তর থেকে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক পাঠ্যক্রম বাধ্যতামূলক করা দরকার, এই লে এইসব শিাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিকের নিয়োগের ব্যবস্থাকরণ ছাড়াও বর্তমান শিকদের প্রশিণের ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি এই ব্যাপারে এনজিও-গুলোও ভূমিকা রাখেতে পারে।

জনরাধারণের প্রস্তুতি: ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধাগুলো যারা ফলপ্রসুভাবে পেতে চাইবেন, অথবা অন্য কথায়, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধাগুলো বাংলাদেশের দ্বারে দ্বারে পৌছে দিতে চাইলে, সকল নাগরিকের ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা দরকার। বাংলাদেশে বর্তমানে সারতার ৪৫ শতাংশ, ইংরেজী ভাষার উপর ন্যূনতম জ্ঞান আছে এমন নাগরিকের সংখ্যা খুবই কম, ফলে যেহেতু কম্পিউটারের অধিকাংশ সফট্ওয়্যার ও মোবাইল ফোনের মেন্যূগুলো ইংরেজীতে লেখা, সেহেতু এই ধরনের অল্পশিতি নাগরিকদের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল কার্য়কর ও ফলপ্রসুভাবে পৌছে দেয়া প্রায় অসম্ভব। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল কার্য়কর ও ফলপ্রসুভাবে পেতে নাগরিকদের ন্যূনতম শিতি ও প্রশিতি হওয়ার চেষ্টা করতে হবে এক্ষং এব্যাপারে সরকারকেও উদ্যোগী হতে হবে।
আঞ্চলিক উন্নয়ন: বাংলদেশের উন্নয়নের েেত্র যেসব আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে, বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসংস্থান তৈরীর েেত্র, যেখানে অনেকেেত্র কাচামাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলার কারণে ভারী বা মাঝারী শিল্পস্থাপন বাস্তবসম্মতও হয়না, সেইসব অঞ্চলে এই আইটি ভিত্তিক শিল্পষ্থাপন করা যেতে পারে। যেমন, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরের মত অঞ্চল, যেগুলো মূলত বেশ শান্ত শহর। তবে, প্রাকৃতিক গ্যাসের অভাব ও সামুদ্রিক বন্দর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় কারণে এবং স্থানীয় চাহিদা বা বাজারের পরিধি বেশ ছোট হওয়ায়, ভারী ও মাঝারী শিল্পস্থাপনা এখানে খুব একটা লাভজনক হয়না। কিন্তু আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপনার জন্য গ্যাসও লাগেনা, স্থানীয় বাজারের পরিধি কতটা, তাতেও তেমন যায় আসেনা, ট্রাকে বা ট্রেনে সামুদ্রিক বন্দরে মালামাল পৌছাতে কত খরচ পড়বে বা সময় লাগবে, সেটাও ভাবতে হয়না। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রাথমিক শর্তপূরণ করলেই রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরে আইটি নির্ভর শিল্প গড়ে তোলা লাভজনক হবে, কেননা, এসব শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় রাজধানী ঢাকার তুলনায় অনেক কম, ফলে ঢাকার চেয়ে অর্ধেক আয় করেও তা দিয়ে সবাই বেশ স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারে, এইসব কারণে এখানে সাশ্রয়ী পারিশ্রমিকে ডেভেলপার পাওয়া যাবে, যারফলে উৎপাদন ব্যয়ও কমে যাবে। আবার, বাংলদেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এইসব অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেক বেশী। ভৌগলিকভাবে এইসব অঞ্চল কিছুটা উচুভূমির হওয়ায় কারণে এইসব অঞ্চলে বন্যার প্রাদূর্ভাবও তুলনামূলক ভাবে কম। ফলে এখানে শিল্প উৎপাদনও ব্যাহত হবে কম। এইভাবে সরকারী উদ্যোগে এইসব অঞ্চলে আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপনের মাধ্যমে দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।

বিসিএস আইটি সার্ভিস ক্যাডার: সরকারী কর্মকান্ডে ও দপ্তরসমূহে তথ্য-প্রযুক্তিতে সত্যিকারের দ মানবসস্পদ ও পেশাজীবী নিশ্চিত করতে চাইলে স্বতন্ত্র বিসিএস সার্ভিস ক্যাডার বা তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির সার্ভিস চালূ করা প্রয়োজন। এটা চালু করা হলে দেশের তরুণ সমাজ যেমন এই পেশায় ক্যারিয়ার তৈরী করতে আগ্রহী হবে, ফলে দেশে এই পেশায় দ মানবসস্পদ ও পেশাজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, আবার অন্যদিকে তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নও সহজ হবে, ডেপুটেশনে অন্য বিষয়ের বিশেষজ্ঞ দিয়ে তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দরকার পড়বেনা বা সুযোগও থাকবেনা।

সতর্কীকরণ: ডিজিটাল বাংলাদেশ মানেই একদিকে যেমন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, নাগরিক সেবা উন্নতকরণ ও বৃদ্ধিকরণ, অন্যদিকে তেমন, দূনীতির রাস্তাগুলো বন্ধকরণ। এই কারনেই, আমাদের অভিজ্ঞতা এটাই বলে যে দেশের রাজনীতিবিদ ও সরকারী আমলাদের দুর্নীতিগ্রস্ত অংশটি এই্ ডিজিটার বাংলাদেশ তেরী এবং সঠিক, কার্যকর ও ফলপ্রসুভাবে বাস্তবায়নের েেত্র প্রধান বাধা হয়ে দাড়াতে পারে। এই দুর্নীতিগ্রস্ত অংশটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নামে বিপুল পরিমাণ সরকারী অর্থের অপচয় ও লোপাট করার চেষ্টা করতে পারে। এছাড়াও, সরকার যদি ডিজিটাল বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য অল্পসুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে পারে, সেেেত্র একদিকে যেমন ল রাখা প্রয়োজন যাতে সঠিক উদ্যোক্তারা বঞ্চিত বা ভোগান্তির শিকার না হয়, অন্যদিকে ভূয়া প্রকল্প নিয়ে কেও যেন অর্থের অপচয় ও লোপাট করতে না পারে, সেব্যপারেও সতর্ক দৃুষ্টি রাখতে হবে। এইসব বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

শেষকথা: ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হোক, উন্নয়ণের ছোয়া লাগুক তথ্য-প্রযুক্তিতে অনগ্রসর এই দেশটিতে। দূর্নীতিতে নয়, তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বাবহারেও আমাদের দেশ যেন শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে থাকতে পারে, এরকম একটি সুন্দর সকালের জন্য আমাদের সকলের অপো।


----------------
০৮/০৩/২০০৯, রাজশাহী।

ড: শামীম আহমদ
সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক
কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

'Telephone ladies' connect Bangladesh

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৫:১৫ AM 0 মন্তব্য(গুলি)
The Commonwealth Heads of Government are meeting this weekend in Malta.
One of the issues they will be discussing is how to bridge the so-called digital divide - the gap between those in the industrialised world who have access to information technology, and those in the developing world who do not.

Mobile phones are seen as key in countries with poor landline networks, but the question is how to get them into the hands of the poor.

One pioneering scheme in Bangladesh has become famous for its "telephone ladies".

Kalimajani is a typical Bangladeshi village.

It is surrounded by paddy fields and the only way to get here is by walking along pathways. People live in huts made of corrugated iron.



Like much of rural Bangladesh there's no fixed line telephone service. In fact, the country has one of the world's least developed networks.

So Kalimajani was largely cut off from the world.

Until, that is, Roshinara Begum got her mobile phone.

Selling calls

She was helped to buy it by Grameen bank. It has long been a leader in micro credit, giving small loans to help the poor set up businesses.

Now it is bringing technology to rural areas. Roshinara Begum sells calls. She's become one of Bangladesh's telephone ladies.

"Before I got the phone nobody respected me," she said as she sat in the tin hut she uses as her office, clutching the phone that has changed her life.

"Now I've been given a loan from Grameen bank, even the chairman and the members of the local council know me and respect me."

Roshinara Begum makes a good living selling calls, earning $60 to $70 a month.

Recently she was able to buy her son a bicycle to ride to school.

Some of Roshinara Begum's customers use the service to keep in touch with loved ones far away.

Many have to leave rural areas in search of work, going to one of Bangladesh's big cities or further afield to countries in the Middle East.

Others, though, are farmers like Mohammed Abul Kashem. He runs a fish farm of 10 man-made ponds.

He uses the phone service to order food and other supplies from the capital.

"If the phone wasn't here then I'd have to travel to Dhaka," he says. "It's a very long and unpleasant journey.

"Now I can use the phone I am saving time and it makes my business more competitive."

'Win-win'

Grameen has given loans to 180,000 telephone ladies so far, and 10,000 more are being signed up each month.

The key to the success of the scheme is that it is not charity - every month Grameen gets $10m in revenue.

"This is a good business, for the Grameen phone and a good business for the rural women, poor women, Grameen bank borrowers," says Dipal Chandra Barua, the deputy managing director of Grameen bank.

"At the same time customers are also benefiting because, even though they don't have a phone, they are getting a phone service at cost price, at a market price.

"So this is good - a win-win situation for the broader customer, our telephone ladies and Grameen phone also."

Grameen is now hoping to bring the web to rural areas too.

It has given loans to set up three experimental internet cafes, connected wirelessly.

If successful, they will be expanded nationwide. Thanks to innovative finance, Bangladesh's villages are joining the digital age.
By Roland Buerk
BBC News, Dhaka
Source:http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/4471348.stm

ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ১:১২ AM 0 মন্তব্য(গুলি)
ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা: জনগণের দ্বারপ্রান্তে নাগরিক সেবা
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে 'বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯'-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক। এতে সরকার ও দেশের নীতি নির্ধারকরা অংশগ্রহণ করছেন। এসসবের মধ্যে ‘ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা: জনগণের দ্বারপ্রান্তে নাগরিক সেবা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটি আজ ২৭ মার্চ সকালে অনুষ্ঠিত হয় ।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকগুলোতে ইউএনডিপি বাংলাদেশ কৌশলগত সহযোগী হিসেবে সহায়তা প্রদান করছে।অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠক-এর প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব জনাব মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব ইকবাল মাহমুদ।







বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মিডিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি জনাব মোস্তাফা জব্বার। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব কে এ এম মোর্শেদ। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য ড. আকরাম চৌধুরী, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক জনাব মাহফুজুর রহমান, নারী নেত্রী মিসেস শিরিন আখতার, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি জনাব মোঃ সবুর খান ও জনাব মোঃ ফয়েজউল্যাহ্ খান, সাবেক মহাসচিব জনাব আলী আশফাক, ডাটাসফট সিস্টেমস লি:-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাহবুব জামান, ইউএডিপি’র নন্দিতা দত্ত, ড. মতিউর রহমান, ড. আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

গোলটেবিল বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে 'বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯'-এর সেমিনার উপ-কমিটির সদস্য সচিব জনাব টি আই এম নূরুল কবির সম্মানিত অতিথিদের জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিসিএস আয়োজিত ডিজিটাল এক্সপোতে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সকালের এই সেমিনারটি ছাড়াও আজ বিকাল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে ‘শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি: ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি’ এবং আগামীকাল সকাল ১০:৩০ মি:-এ ‘জনগণের সংযুক্তি: ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি অবহিত করেন। তিনি আরো জানান, গোলটেবিল বৈঠকগুলোতে গোটা আলোচনার বিষয়বস্তু রেকর্ড করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বেড়িয়ে আসা বিষয়গুলো সরকারের নিকট সুপারিশ করা হবে এবং পরবর্তীতে এসবের অনুসরণ করে ধারাবাহিক অনুষ্ঠান (ফলোআপ প্রোগ্রাম) আয়োজন করা হবে।

গোল বৈঠকের মডারেটর জনাব মোস্তাফা জব্বার বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো আয়োজনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করার পাশাপাশি বলেন, সরকারের ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’-এর অন্যতম কর্মসূচি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখনও ঢাকার বাইরের সরকারী উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ তথ্যপ্রযুক্তিকে নিজেদের সকল কাজে ব্যবহার করছেন না। এছাড়া দেশের তৃণমূলে যেকোন তথ্য পেতে হলে তাদের দ্বারস্থ হয়েও কোন ফলাফল পাওয়া যায় না। এরপর তিনি আজকের গোলটেবিল বৈঠকের মুখ্য আলোচক ইউএনডিপি বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব কে এ এম মোর্শেদকে তাঁর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

মুখ্য উপস্থাপক জনাব কে এ এম মোর্শেদ তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন পুরণে প্রথমেই সব ধরনের সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে অবিলম্বে ই-গভর্ণনেন্স চালু করতে হবে। এজন্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। এই সুবিধাগুলো জনগণের যেভাবে কাজে লাগে সেভাবেই দিতে হবে। যাতে তারা সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারে তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এই সুবিধাগুলো শুধুমাত্র যে ইন্টারনেটভিত্তিক হতে হবে তা নয়, এগুলো বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার আলোকেই দিতে হবে। যেমন- যেখানে মোবাইল ফোন আছে সেখানে মোবাইল ফোনের মাধ্যেমে এগুলো দেওয়াই উত্তম।

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের মূল ওয়েব পোর্টাল তৈরী হচ্ছে যাতে জনগণের জন্য সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করার ব্যবস্থা থাকবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, এই সুযোগ-সুবিধাগুলো উপভোগের অন্যতম মূল অন্তরায় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের অভাব। এর সূচনা হিসাবে ইতিমধ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, ওয়াসা ও গ্যাস বিল দেওয়ার সুবিধাদি সরকার অনুমোদন করেছে। আশা করা যায় খুব শীগগিরই অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ ধরনের সুবিধা অবিলম্বে প্রচলিত হবে।

মূল প্রবন্ধের উপস্থাপনায় জনাব মোর্শেদ আরও বলেন, তৃণমূলে ব্যবহার বাড়াতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দিতে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে উৎসাহ দিতে হবে, বিদ্যমান অবকাঠামোগত সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে হবে, জেলা প্রশাসকদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা দিতে হবে এবং বার্ষিক গোপন প্রতিবেদনে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য পৃথক প্রণোদন দিতে হবে। কে এ এম মোর্শেদের মূল প্রবন্ধ এতদ্সঙ্গে যুক্ত করা হল।

গোলটেবিল বৈঠকের প্রধান অতিথি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমাম আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বলেন, এ পর্যন্ত যেসব উদ্যোগের কথা জানা গেছে, তা সবই হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। বিচ্ছিন্ন কোন উদ্যোগ বড় কোন পরিবর্তন আনতে পারে না। এ জন্য এসব উদ্যোগের সমন্বয় সাধন করা দরকার। প্রয়োজন পুরণো ও নতুন প্রজন্ম, আইটি বিশেষজ্ঞ, সরকার সবাই মিলে সমন্বিত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা ও সমন্বিতভাবে তা পরিচালনা করা। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোল’ এমন একটি আন্দোলন দরকার। যে আন্দোলনে সব মানুষের, সব ক্ষেত্রের, সব শ্রেণীর, সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা থাকবে। যদি এটা করা যায়, সরকার সকলের পাশেই আছে, অবশ্যই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন করতে পারব বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংসদ সদস্য ড. আকরাম চৌধুরী আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ কোন সমস্যা সংসদে উপস্থাপন করতে গেলে জনপ্রতিনিধি বিধি-৭১-তে তা উপস্থাপন করতে হয়। এতে মাত্র ৩টি বিষয় উপস্থাপন করা যায়, ১৫ জন কথা বলতে পারেন মাত্র দু’ মিনিট করে। ফলে সে সব নোটিশ নোটিশ হিসেবেই থেকে যায়। যদি সংসদ ও সংসদ সদস্যদের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর এমন ডিজিটাল সম্পর্ক স্থাপন করা যায়, যাতে ওই নোটিশের সবকিছু তাকে আগাম জানানো যেতে পারে। এটি করা গেলে জনসমস্যাগুলো বস্তুনিষ্টভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এজন্য একটি সমন্বিত প্রয়াস ও ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তিনি এছাড়াও টেলিকনফারেন্স, টেলিমেডিসিন, প্রতিগ্রামে তথ্য কেন্দ্র তৈরি এবং সর্বপরি ই-গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা প্রচলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ক্যাবিনেট ডিভিশন সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জনাব আব্দুল আজিজ বলেন, যারা ই-গভনেন্স চালুর আন্দোলন করছে, যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন তাদের উদ্যোগ ও আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু যাদের জন্য এ উদ্যোগ তারা এ বিষয়ে কতটুকু সচেতন তা জানা দরকার। এদেরকেও তেমনিই সচেতন ও তৎপর করে তোলা জরুরি। এ দু’টি ক্ষেত্রে জোর প্রতিষ্ঠা হলে যারা এটি বাস্তবায়ন করবে, অর্থাৎ সরকারের জন্য এটি আরও সহজতর হবে। আগামী প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে চিন্তাধারা আনতে হবে। এজন্য শিক্ষাক্রমেও এ বিষয়ে কার্যকর পাঠ্যসূচি ও ব্যবস্থাপনা চাই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদে বার্ষিক গোপন প্রতিবেদনে আইটি জ্ঞান ও ব্যবহারকে যোগ করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি অবহিত করেন।

নারী নেত্রী শিরিন আখতার আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বলেন, অটোমেশন পরবর্তী সংকটগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা যায় সে বিষয়ে আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে। আদম ব্যবসা, বিভিন্ন দালাল ও ফড়িয়া এবং এ ধরনের অন্যান্য শ্রেণীর লোকজনের খপ্পর থেকে বাঁচতে ইন্টারনেট ভিত্তিক তথ্য কেন্দ্র থাকতে হবে। তিনি অবিলম্বে ই-কমার্স ও ই-ব্যাংকিং চালুর আহ্বান জানান। নারীরা যেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে থানা, আদালতে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারে তার ব্যবস্থা করার উপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিসিএস-এর সাবেক সভাপতি জনাব মোঃ সবুর খান বলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে অবশ্যই সরকারি চাকুরিতে আইটি ক্যাডার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিসিএস-এর অপর সাবেক সভাপতি জনাব মোঃ ফয়েজউল্যাহ্ খান প্রত্যেক গ্রামগঞ্জে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাইবার কিয়স্ক স্থাপনের আহবান জানান। সংগঠনের সাবেক মহাসচিব জনাব মোঃ আলী আশফাক অবিলম্বে জবাবদিহিতামূলক ই-গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা চালুর অনুরোধ জানান। ডাটা সফট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাহবুব জামান সরকারি প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে চট্রগ্রাম কাস্টমস হাউস অটোমেশনে বাধাগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন অটোমেশন করলে কাজের গতি বাড়বে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

বিশ-একুশে ডিজিটাল বাংলাদেশ চাই

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ১:০৭ AM 1 মন্তব্য(গুলি)

ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে সেই সুখী, সমৃদ্ধ, শিক্ষিত এবং দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ যা ডিজিটাল ডিভাইডসহ সকল প্রকারের বৈষম্যহীন জনগণের রাষ্ট্র, যার মুখ্য চালিকা শক্তি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। এটি বাঙ্গালীর উন্নত জীবনের আকাক্সক্ষা। এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর প্রকৃষ্ট পন্থা। এটি একাত্তরের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপকল্প। এটি বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত বা দরিদ্র দেশ থেকে সমৃদ্ধ ও ধনী দেশে রূপান্তরের জন্য মাথাপিছু আয় বা জাতীয় আয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা।

এই কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য হলো:

ক. তথ্য যুগ বা ডিজিটাল যুগ যে নামেই আমরা ডাকিনা কেন, কৃষি ও শিল্প যুগের পর মানব সভ্যতার জন্য চলমান ডিজিটাল বা তথ্য যুগের সার্বিক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি উন্নত দেশ হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করবে ও জনগণের মাঝে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করবে, বৈষম্য ও দারিদ্রমুক্ত করবে এবং রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করবে।
খ. এই কর্মসূচী দেশের সকল মানুষের জন্য ডিজিটাল লাইফস্টাইল গড়ে তোলার মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মান সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা গড়ে তুলে পুরো জাতির জন্য একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
গ. ডিজিটাল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা। একাত্তরে এই জাতি যে স্বপ্ন নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে নেমেছিলো সেই স্বপ্ন পূরণ করার পাশাপাশি ডিজিটাল যুগের বাস্তবতা অনুযায়ী দেশের কর্মক্ষম জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করা হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য। এই জনেগোষ্ঠী হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের সৈনিক।
ঘ. ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে সর্বপ্রকারের ডিজিটাল প্রযুক্তি সহজলভ্য করা ও এর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
ঙ. ডিজিটাল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সম্পদ ও সরকার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বস্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
চ. ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রকে সর্বপ্রকারের ধর্ম-নিরপেক্ষ করে বাঙালীর ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ সাধনের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিস্বত্ত্বার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সংরক্ষণ, বিকাশ ও তাদের সর্বপ্রকারের অধিকার নিশ্চিত করা।
ছ. ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে ব্যক্তিগত, পাবিারিক ও সামাজিক সম্পর্ক, উৎপাদন ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ডিজিটাল যুগের পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে নাগরিকদেরকে শিক্ষিত করা ও এই যুগের ভালো দিকটির বিকাশ ঘটিয়ে মন্দ দিকটিকে প্রতিরোধ করা।
জ. ডিজিটাল যুগের অন্যতম লক্ষ্য হলো অধিকতর মেধাসম্পদ তৈরী, সংরক্ষণ ও বিকাশ করা।

নিচে ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা বর্ণিত হলো:

ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা
১. কেন ডিজিটাল বাংলাদেশ: যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের দখলদারিত্ব থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং যেহেতু এই জনগণ স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা ও উন্নত জীবন গড়ার অধিকার রাখে, সেহেতু ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জাতির সকল মানুষের আশা আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির নিরঙ্কুশ বিজয় এই কর্মসূচী যথাযথভাবে বাস্তবায়নের এক অপূর্ব সুযোগ তৈরী করেছে। আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশটিকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করা।
২. অগ্রাধিকার: ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত আছে আমাদের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনেক বিষয়। এসবের মাঝ থেকে আমি শেখ হাসিনার চলতি মেয়াদের সরকারের জন্য কয়েকটি অগ্রাধিকার বাছাই করেছি।

২.১ জাতীয় অগ্রাধিকার
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম জাতীয় অঙ্গীকার হবে দেশ থেকে দারিদ্র ও বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা।
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত অগ্রাধিকার থাকতে হবে সারা দেশের সকল ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারা। একই সাথে প্রতিটি ঘরকে তার বা বেতার ব্যবস্থায় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে। এ ছাড়াও মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, ডিজিটাল ডিভাইড দূর করা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হতে হবে।

২.২ জাতীয় লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রসমূহ
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম অগ্রাধিকারটি হলো ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এক অর্থে বলা যায়, সরকারকে হতে হবে পেপারলেস গভর্নমেন্ট। সচিবালয় থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত সরকার কাজ করবে ডিজিটাল, নেটওয়ার্ক ও অনলাইন পদ্ধতিতে। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে ডিজিটাল। সরকারের তথ্য সংরক্ষিত হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। জনগণের সরকারের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হবে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টার‌্যাক্টিভ পদ্ধতিতে। ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় জনগণকে সেবাদান একটি অগ্রাধিকার খাত হবে।
ক্স স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগ করতে হবে এবং এর সহায়তায় স্থানীয় সরকারের সাথে সরকারের সকল শাখাকে যুক্ত করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিত্তিতে ইন্টার‌্যাক্টিভ পদ্ধতিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও সেবাগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ক্স জাতীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচন পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে।
ক্স ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগের পরের অগ্রাধিকারটি হতে হবে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা। এই কর্মসূচীতে স্কুল পর্যায়ে কেবলমাত্র বাধ্যতামূলক কম্পিউটার শিক্ষাই অন্তর্ভুক্ত নয়, এতে থাকতে হবে শিশুশ্রেণী থেকে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত সকল পাঠ্য বিষয়কে ইন্টার‌্যাক্টিভ মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যারে রূপান্তর করা। প্রতি শিশুর হাতে কম্পিউটার প্রদান এবং প্রতি ঘরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রদান এই কর্মসূচীর আওতায় থাকবে।
ক্স এর পরের অগ্রাধিকারটি হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এজন্য আর্থিক প্রশাসন, রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল কমার্স-এর জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে। অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্প সর্বত্র লেন-দেন থেকে যন্ত্রপাতিতে থাকতে হবে ডিজিটাল পদ্ধতি।
ক্স অন্যতম অগ্রাধিকার হতে হবে ডিজিটাল ভূমিব্যবস্থা। ভূমির সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি এর ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে করতে হবে।
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মসূচীর সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার পাশাপাশি আইনশৃক্সক্ষলা রক্ষা করা, জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধান করা ও অপরাধ দমন করার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সকল মেধাসম্পদ সুরক্ষা করতে হবে।
ক্স সকল নাগরিকের ধর্মচর্চার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধর্ম সংক্রান্ত সকল তথ্য পাবার ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ শীর্ষক অন্যান্য কর্মসূচী বাস্তবায়ন ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকে নিশ্চিত করবে।

৩. এক নজরে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী

নীচে ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর সংক্ষিপ্ত কর্মসূচী প্রদত্ত হলো। এতে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোর উল্লেখ আছে। বোল্ড ও ইটালিক করা বিষয়গুলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

৩.১ জনগণের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য রাষ্ট্র তথা সরকারকে পরিপূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণ রাষ্ট্রকে কর দেবে কিন্তু রাষ্ট্র জনগণের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান বা চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাবেনা-এটি হতে পারেনা। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সরকার আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে পেতে চাইনি। এজন্য টাকার অঙ্কে লাভ লোকসানের সরকার এবং মানুষের মৌলিক চাহিদাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা থেকে এই রাষ্ট্রের গতি ফেরাতে হবে। আমি নিশ্চিতভাবেই মনে করি যে রাষ্ট্রকে জনগণের ন্যূনতম চিকিৎসা, আশ্রয়, পরিধেয়, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রকে সকল নাগরিকের জন্য সমসুযোগের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ধনিক ও লুটেরা শ্রেণীর ক্রমাগত ও অপ্রতিরোধ্য একতরফা জন্ম নেয়া বন্ধ করতে হবে। দারিদ্র দূরীকরণ ও ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য নিরসনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ডিভাইড দূর করতে হবে। রাষ্ট্রকে অক্ষম, কর্মহীন, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীন নাগরিক, যুদ্ধাহত, বিধবা ও সমাজের সকল স্তরের অনগ্রসর অংশকে ন্যূনতম জীবনধারনের উপযোগী ভাতা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করতে হবে।
জনগোষ্ঠীর সকল অংশের কাছে, বিশেষতঃ গ্রামে ও শহরসহ অন্যত্র বসবাসকারী দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের কাছে ডিজিটাল প্রযুক্তি সহজলভ্যভাবে পৌঁছাতে হবে। দরিদ্র জনগণকে জ্ঞানকর্মী বা ডিজিটাল প্রযুক্তি কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং গ্রামে গ্রামে ডিজিটাল শিল্প-বাণিজ্যসহ কৃষি, শিক্ষা, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সরকার প্রদত্ত সকল সহায়তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। দেশের সকল নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় থাকতে হবে যাতে সরকার সময়মতো সকল প্রকারের সহায়তা প্রদান করতে পারে। সকল প্রকারের ডিজিটাল ডিভাইড দূর করতে হবে।

৩.২ রাষ্ট্রটি হবে সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকমী জনগণ তথা মুজিবনগর সরকার কর্তৃক ঘোষিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সাথে সমিলতাপূর্ণ। এটি হবে গণতান্ত্রিক, বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী, ধর্ম নিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক। এর অর্থনৈতিক নীতি হবে বৈষম্যহীন ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবি, ছাত্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অনুকূলের।
ডিজিটাল মাধ্যমসহ সকল মিডিয়ায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই সংক্রান্ত সকল তথ্য প্রকাশ করতে হবে যা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণ অনায়াসে পাবে। রাষ্ট্রের ভিত্তিসমূহের যৌক্তিকতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩.৩ শাসনতন্ত্রের গণবিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িক ধারাসমূহ সংশোধন করতে হবে এবং বিচারবিভাগ, কর্ম কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলসমূহ বিধিবদ্ধ ও জবাবদিহিতামূলকভাবে স্বচ্ছতাসহ গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে।
সকল রাজনৈতিক কর্মকা- ও ব্যবস্থার সকল তথ্য জনগণের কাছে প্রাপ্ত হবার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। সংসদের কার্যাবলসিহ সকল রাজনৈতিক কর্মসূচী, রাজনৈতিক বক্তব্য, কর্মকা- ও রাজনীতিকদের জীবনাচার সংক্রান্ত সকল তথ্য উন্মুক্তভাবে সকল জনগণের জন্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৩.৪ প্রচলিত পদ্ধতির ফাইলভিত্তিক প্রশাসন বদলে ফেলতে হবে। অর্ধ শতাধিক স্বাক্ষর-ফাইল ওপরে ওঠা এবং নীচে নামার বিদ্যমান পদ্ধতি বদল করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ওয়ান স্টপ পদ্ধতি এবং পুরো সরকারের জন্য একটি নেটওয়ার্ক চালু করতে হবে। দেশ পরিচালনা করবে যে সরকার সেটি হবে ডিজিটাল সরকার।
ডিজিটাল সরকারের কাজ করার প্রক্রিয়া হবে ডিজিটাল। প্রচলিত কাগজভিত্তিক, ফাইল ও ফিতাভিত্তিক সরকার ব্যবস্থার বদলে সরকার কাজ করবে নেটওয়ার্ক, ইন্টার‌্যাক্টিভ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে। সরকারের সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হতে হবে এবং জনগণকে ডিজিটাল পদ্ধতিসহ অন্যান্য পদ্ধতিতে সেবা প্রদানের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণের জন্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
৩.৫ রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব জনগণের ওপর ন্যস্ত করার জন্য একটি কার্যকর ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা থাকতে হবে। গ্রাম-ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় সরকারের সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারাই দেশটি পরিচালিত হতে হবে। দেশে একটি নির্বাচিত জাতীয় সংসদ থাকতে হবে। জাতীয় সংসদই একমাত্র আইন প্রণয়ণ করবে এবং সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে সরকার গঠিত হতে হবে। এর সাথে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হিসেবে জেলা-নগর সরকার, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ (পশ্চিমবঙ্গের মতো গ্রাম পঞ্চায়েত হতে পারে) থাকতে হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদকে সহায়তা ও পরামর্শদানের জন্য পেশাজীবীদের নির্বাচিত একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে। দেশের জনপ্রশাসন ও আইনশৃক্সক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রিয় ও স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধীনে থেকে কাজ করবে ও জনগণকে সেবা প্রদান করবে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। কেন্দ্রিয় সরকারের সাথে যোগাযোগসহ জনগণকে সেবা প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ডিজিটাল হবে। স্থানীয় সরকারের সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হবে।
৩.৬ দেশের ভূমিব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। ভূমির মালিকানা ব্যবস্থার সংস্কার করে ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষদেরকে ভূমির মালিকানা দিতে হবে। ভূমির অপব্যবহার বা যথেচ্ছা ব্যবহার রোধ করে পরিকল্পিত উপায়ে ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করে এই খাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। উচ্চফলনশীল শস্য উৎপাদনের জন্য উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার-বীজ-কীটনাশক ন্যায্য/ভর্তুকিমূল্যে পাবার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি অর্থকরী ও রপ্তানীমুখী কৃষিপণ্য উৎপাদন করতে হবে। কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের সকল কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সমবায়-সামাজিক পদ্ধতির মাধ্যমে চাষাবাদ করতে হবে। কৃষিখাতের গবেষণাকে সরকারকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিতে হবে। ধান-সব্জিসহ খাদ্য, ফলমূল, মাছ-হাস-মুরগি-গবাদি পশু এবং অর্থকরী-রপ্তানীমুখী কৃষিপণ্যের জন্য ব্যাপকহারে গবেষণা করতে হবে এবং গবেষণার ফলাফলকে যথাশীঘ্রসম্ভব মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে হবে। বিল-জলাশয়ের বিদ্যমান ইজারাপ্রথা বাতিল করে সমাজবদ্ধতার মাধ্যমে বিল-জলাশয়গুলোতে সামাজিক মৎস্য চাষ করতে হবে। কোনভাবেই প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করা যাবেনা। এজন্য যথাযথ পর্যায়ে মৎস্য, পাখী ও অন্যান্য প্রাণীর অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে হবে। কৃষি ও কৃষিনির্ভর শিল্পসহ কৃষিপণ্যের বাজারদর ও চাষাবাদ সম্পর্কিত সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সহজলভ্য হতে হবে।
ভূমি সংক্রান্ত সকল তথ্য, মালিকানা ও নিবন্ধন ডিজিটাল পদ্ধতিতে করতে হবে। এসব বিষয়ের সকল তথ্য অনলাইনে প্রাপ্ত হতে হবে। খাসজমি বরাদ্দ, দখলপ্রদান, ভূমি সংক্রান্ত মামলা ও বিরোধসহ সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত এবং জনগণের কাছে প্রাপ্য হতে হবে। ডিজিটাল তথ্য ও উপাত্ত অনুসারে ভূমি ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি গবেষণা ও কৃষি, পশুসম্পদ, মৎস্যসহ সকল পর্যায়ের উপকরণ, সহায়তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

৩.৭ দেশে ইংরেজী-বাংলা-মাদ্রাসা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে একই ধারার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকতে হবে এবং শিশুশ্রেণী থেকে কম্পিউটারসহ অন্যান্য বিজ্ঞান বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পাঠ করার ব্যবস্থাসহ কম্পিউটারকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল যুগ বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেয়া হবে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব হবে। দেশের প্রতিটি শিশুর হাতে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার প্রদান করতে হবে। প্রতি ঘরে ও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিতে হবে স্বল্প বা বিণামূল্যের দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। দেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গা থেকে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে প্রবেশ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৩.৮ সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক ও আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনীকে তথ্যপ্রযুক্তিসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করতে হবে। দেশের সীমারেখা, ধনসম্পদসহ সকল কিছুর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হতে হবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপত্তা বিধান করা। একই সাথে রাষ্ট্রকে ব্যক্তির প্রাইভেসি বজায় রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালিত আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য ডিজিটাল অস্ত্র ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করার জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়নসহ ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির বিষয়টি অনলাইন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

৩.৯ প্রচলিত আইনসমূহ পরিবর্তন করতে হবে এবং নতুন আইনসমূহ ডিজিটাল বাংলাদেশ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের কথা চিন্তা করেই প্রণীত হতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকারের সকল তথ্য ও উপাত্ত ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করতে হবে এবং মেধাসম্পদ সুরক্ষার জন্য কার্যকর আইন প্রণয়নসহ প্রয়োগ করতে হবে।
পরিবর্তিত অবস্থার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট নতুন ধরনের অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সাইবার কম্যুনিকেশন, অনলাইন আদানপ্রদান, নিউ মিডিয়া, ডিজিটাল কমার্স, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং মেধাসম্পদ ইত্যাদি সকল বিষয়কে পর্যালোচনা করে অপরাধ সংক্রান্ত ফৌজদারী কার্যবিধিসহ অন্যান্য আইন পরিবর্তন করতে হবে। অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডিজিটালসহ নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনমতো বায়োমেট্রিক জিন পরীক্ষা, অপরাধীর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম, অপরাধীর ড্যাটাবেজ তৈরী করা ছাড়াও বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে হবে। আইনসমূহ অনলাইনে পাবার পাশাপাশি, ডিএলআর ও অন্যান্য আইন প্রকাশনা ডিজিটাল ও অনলাইনে প্রাপ্য হতে হবে। বিচারপ্রার্থী অনলাইনে বিচার প্রার্থনা করার পাশাপাশি তার মামলা কোথায় কি অবস্থায় আছে তা যেন অনলাইনে জানতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। আইনজীবীগণ যাতে অনলাইনে তাদের বক্তব্য পেশ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের সহায়তায় বাদী-বিবাদীর বক্তব্য বা সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩.১০ নিউ ইকোনমি (নতুন অর্থনীতি) বা নলেজ ইকোনমি (জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি) ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। এটি বিদ্যমান পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে প্রতিস্থাপিত করবে। নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ পুঁজিবাদী হবেনা- আবার সম্পূর্ন সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মতো পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিতও হবেনা। অর্থনীতি প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করলেও প্রয়োজনে সরকার অর্থনীতির ক্ষেত্রবিশেষে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। এতে রাষ্ট্রীয় মালিকানার পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানা থাকবে, তবে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই জনগণের অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়ে বিকশিত হতে হবে। সরকার বেসরকারী খাতের কাছে লাভজনক নয়, অথচ জনকল্যাণমূলক - এমন খাতে সরাসরি বা বাধ্যতামূলক বিনিয়োগ করবে। রপ্তানী, জনকল্যাণমূলক, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিসহ জরুরী সেবাখাতে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনমতো ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থনীতির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অবশ্যই দুই ডিজিটের বা শতকরা ১০ ভাগের বেশী করতে হবে।
২০২১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু বার্ষিক আয় দুই হাজার ডলারে উন্নীত করতে হবে। ধীরে ধীরে জিডিপি’র বৃহৎ অংশ মেধাজাত সম্পদ থেকে উৎপন্ন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তিসহ, প্রযুক্তি পণ্য ও সেবা, কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, গার্মেন্টস এবং সেবাখাতের রপ্তানীকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে এইসব খাতে অর্থের যোগান দিতে হবে এবং রপ্তানী সহায়তাও করতে হবে। সকল প্রকার ব্যবসা বাণিজ্য হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে, এক কথায় ডিজিটাল কমার্স। বাণিজ্যিক লেনদেন ও যোগাযোগ হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। শিল্প কলকারখানায় প্রয়োগ করতে হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি।
৩.১১ বাংলাদেশের শিল্পসমূহ কৃষিভিত্তিক, ভোক্তা বা লাইফ স্টাইলভিত্তিক এবং জ্ঞানভিত্তিক হিসেবে বিবেচিত হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রধানতম উদ্দেশ্য হবে দেশের কৃষিসম্পদের উন্নয়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ, দেশবাসীর খাদ্যের যোগান দেয়া এবং উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য রপ্তানী করা। ভোক্তা বা লাইফস্টাইল ভিত্তিক শিল্প মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন, জীবন যাপনের মানবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধি ও সহায়তার জন্য গড়ে উঠবে। শিল্প কারখানাকে রাজধানী বা মেট্রোসিটির বদলে জেলা, উপজেলা এবং গ্রামে স্থাপন করতে হবে। কৃষি ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্প স্থাপনে গ্রামই হবে আদর্শ স্থান। দৈনন্দিন ভোক্তা পণ্য গ্রামেই উৎপাদিত হবে। প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য একটি করে ক্ষুদ্র শিল্প প্লট থাকতে হবে। উপজেলা ও জেলায় একটি শিল্প এলাকা থাকতে হবে। সরকার শিল্পখাতে ব্যাপক সহায়তা প্রদান করবে। শিল্পের বিকাশের অনুকূল শিল্পনীতি থাকা ছাড়াও সরকার শিল্প স্থাপনে জমি, সরঞ্জামাদি এবং অর্থের যোগান দেবে। দেশে উপযুক্ত স্থানে হাইটেক পার্ক, শিল্প পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, গার্মেন্টস পল্লী, চামড়া পল্লী ইত্যাদি স্থাপন করা হবে। ভেনচার ক্যাপিটাল ও ইক্যুইটি এন্টারপ্রনেরশিপ ফান্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে রপ্তানী সহায়তা ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তা তহবিল গড়ে তুলে সরাসরি উদ্যোক্তাকে সহায়তা করতে হবে।
জ্ঞানভিত্তিক শিল্প ও সেবার ভিত্তি হবে মেধাভিত্তিক। পূর্বোক্ত খাতসমূহে প্রযুক্তি সরবরাহ, উচ্চতর প্রযুক্তির জন্য গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিরোধ ছাড়াও রপ্তানী আয় এই খাতের অন্যতম লক্ষ্য হবে।

৩.১২ বর্তমানের কাগজভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবা, চিকিৎসা ও হাসপাতালে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করার পাশাপাশি ঔষধ প্রশাসন ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করতে হবে। উপযুক্ত পর্যায়ে টেলিমেডিসিন সেবা চালুু করতে হবে।

৩.১৩ বাংলাদেশ বিশ্বের নিপীড়িত, শোষিত, দরিদ্র জনগণের পক্ষে থাকবে। একই সাথে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি বৃহত্তর ইউনিয়ন বা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেবে। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃযাতায়াত এবং তথ্যপ্রযুক্তিগত যোগাযোগকে সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করতে হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের দেশকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে ।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রহণ ও প্রদান করতে হবে। আন্তঃদেশীয় যােগাযোগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হতে হবে।

৩.১৪ দেশের গণবাহন বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাকে দ্রুতগতির, আরামদায়ক, নিরাপদ এবং স্বল্পব্যয়ী করতে হবে। জাতীয় রুটে দ্রুতগামী ট্রেন সার্ভিস চালু করার পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য মহানগরীতে পরিকল্পিত নগর রেল, চক্রাকারে রেল, উপশহর রেল, আকাশ রেল বা পাতাল রেল স্থাপন করতে হবে। ঢাকাসহ বড় বড় মহানগরীতে ক্রসরোড, লেবেল ক্রসিং-এ ফাইওভার-সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণ করতে হবে। সিগন্যালিংসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। সারাদেশে জাতীয় সড়ক ব্যবস্থাকে প্রশস্ত, আধুনিক ও নিরাপদ করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের, আঞ্চলিক মহসড়ক নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করতে হবে। যেসব এলাকায় স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা যাবেনা সেইসব জায়গায় ডুবোসড়ক নির্মাণ করতে হবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌপথকে কেবল নাব্য করা নয়, এতে আরামদায়ক নৌযান চালু করাসহ স্পীডবোট, সীট্রাক ও হোভার ক্রাফ্টসহ দ্রুতগামীর যানবাহন চালু করতে হবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আকাশ চলাচল সুসংহত, উন্নত ও আধুনিক করতে হবে।
যানবাহনের নিবন্ধনসহ, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ডিজিটাল হবে। সকল গণবাহনের সময়সূচী ও চলাচলের তথ্য, বুকিং, অবস্থান ইন্টারনেটে-মোবাইল নেটওয়ার্কে সার্বক্ষণিকভাবে পাবার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩.১৫ রাষ্ট্রকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙ্গালীর সংস্কৃতিসহ দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিস্বত্ত্বার ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মেধাসম্পদ রক্ষার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ডিজিটাল দুনিয়াতে রাষ্ট্রভাষাসহ বাংলাদেশের সকল ভাষার প্রচার, প্রকাশ ও বিকাশসহ বাঙালী ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সার্বিক সমৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রকে ডিজিটাল তথ্যভা-ার গড়ে তোলা ছাড়াও ডিজিটাল প্রকাশনাকে সর্বপ্রকারে উৎসাহিত ও সহায়তা করতে হবে।

৩.১৬ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রধর্ম নামক কিছু থাকবেনা। এক্ষেত্রে মূলমন্ত্র হবে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। তবে রাষ্ট্রকে জনগণের ধর্ম পালনের সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ এসবের ব্যয় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। চাঁদা বা দানের টাকায় বা খাসজমিতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রথা বন্ধ করে রাষ্ট্রের বাজেটে এজন্য সুষ্পষ্ট বরাদ্দ থাকতে হবে। মসজিদ, মন্দির গীর্জার যাবতীয় ব্যয়সহ এইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন ও ভাতা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্র বহন করবে।
ধর্মচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও উপাত্ত ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করে তা অনলাইনে বিণামূল্যে সহজলভ্য করতে হবে। মসজিদ-মন্দির-মক্তব ও মাদ্রাসার মাঝে এমনভাবে তথ্যকেন্দ্র বা ইনফরমেশন কিয়স্ক স্থাপন করতে হবে যাতে ধর্ম সংক্রান্ত তথ্যগুলো টাচ স্ক্রিণ-এর সহায়তায় খুব সহজেই যে কেউ পেতে পারে।

কামনা করি, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা করবে এবং রাজনীতিবিদরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মসূচী বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন। বিশেষ করে এখন যখন শেখ হাসিনা সরকারের এজেন্ডা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা, তখন পুরো দেশটিরই লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ কি সেটি বুঝেন না বা বুঝতে চেষ্টা করেন না, বরং কিছুটা ব্যঙ্গ করেন, তারা এই লেখাগুলো থেকে কিছুটা দিকনির্দেশনা পেয়ে থাকবেন।

৪. করণীয়: ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান সরকারকে এই মুহূর্তেই পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের এই মুহূর্তের করণীয় হচ্ছে:
* ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালাসহ সকল নীতিমালা হালনাগাদ, সংশোধন বা প্রণয়ন করা।
* ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তুত করা এবং সেই রোডম্যাপ অনুসারে সকল কার্যক্রম গ্রহণ করা।

সেই লক্ষ্যটি হলো ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর একটি উন্নত জীবনের ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে ওঠলে সেটি আমাদের রাষ্ট্রকাঠামোতে কেবল যে যুগ পরিবর্তন আনবে তা-ই নয়, আমাদেরকে নিয়ে যাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে। আসুন আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।

মোস্তাফা জব্বার

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারের প্রতিশ্রুতিসমূহ

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ১২:৫৯ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

০ ২০১৩ সাল থেকে মাধ্যমিক স্তরে এবং ২০২১ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরেও আইটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হবে
০ আগামী প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর প্রজন্ম হিসাবে গড়ে তুলতে স্কুল-কলেজে থাকবে ইন্টারনেট সংযোগ
০ চালু করা হবে ই-গভর্নেন্স
০ বছরে ১০ হাজার প্রোগ্রামার তৈরিতে সরকার সহায়তা করবে
০ জুডিশিয়াল সেক্টর ডিজিটালাইজড করা হবে
০ অনলাইনে টেন্ডার ক্রয়ের পাশাপাশি জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে

ডিজিটাল জীবনধারা গড়ার প্রত্যয়

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ১২:৫৪ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

ডিজিটাল প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে সরকারের দৃঢ় সংকল্প এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সহযোগিতার সেতুবন্ধন হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিভিত্তিক জীবনধারা নিয়ে বর্ণাঢ্য ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো’। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের প্রধান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি আয়োজিত, জীবন ঘনিষ্ঠ ডিজিটাল প্রদর্শনী হিসেবে ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো’ প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। গত ২৫ মার্চ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)’র সভাপতি মোস্তফা জব্বারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। ডিজিটাল এক্সপো-২০০৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আগামী প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর প্রজন্ম হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সাল থেকে মাধ্যমিক স্তরে এবং ২০২১ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরেও আইটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া হিসাবেই দেশে চালু করা হবে ই-গভর্নেন্স। বছরে ১০ হাজার প্রোগ্রামার তৈরির জন্য যে সহায়তা দরকার সরকারের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হবে। ২০২১ সালের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে যার যার অবস্থান থেকে পরিকল্পনা প্রণয়ণ করে সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’ বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির প্রসারে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির সাবেক আটজন সভাপতি (এস. এম. কামাল, সাজ্জাদ হোসেন, মোস্তাফা জব্বার, আফতাব উল ইসলাম, আব্দুল্লাহ এইচ কাফি, মোঃ সবুর খান, এস এম ইকবাল এবং মোঃ ফয়েজউল্যাহ্ খান)কে প্রধানমন্ত্রী সম্মামনা ক্রেস্ট প্রদান করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত তার বক্তব্যে বলেন, কম্পিউটার শিক্ষায় উন্নতি করতে পারলেই দেশের উন্নয়ন হবে। এজন্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কম্পিউটার শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে করে দেশের বিকাশমান সফটওয়্যার শিল্প রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিনত হবে। সেই সাথে অচিরেই সরকার কানেকটিভিটি বাড়াবে এবং ই-কমার্সে প্রবেশ করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই তাদের কার্যকলাপে প্রমান করেছে যে সরকার তথ্য প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন। তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানসম্পন্ন জনগণই বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করবে। বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান তার বক্তব্যে ডিজিটাল শক্তি আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিসিএস সভাপতি মোস্তফা জব্বার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, সারা বিশ্বে এখনও লক্ষ লক্ষ তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা রয়েছে। দক্ষ প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে সরকার যেন বছরে অন্তত ১০ হাজার প্রোগ্রামার তৈরির ব্যবস্থা করে। সরকারি বিভিন্ন অফিস, আদালত, ভূমি রেকর্ড, রাজস্ব বোর্ড সহ সকল স্তরে কম্পিউটার ব্যবহারের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। চারদিনব্যাপী আয়োজিত ডিজিটাল এক্সপো’তে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল জীবনধারায় আবর্তিত হয়ে জনগণের দৈনন্দিন জীবন কতটা উন্নত করা যায় তা প্রদর্শনই মূল লক্ষ্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এবার মোট ৫৪টি প্রতিষ্ঠান ১৬টি প্যাভিলিয়ন ও ৬২টি স্টলে তাদের প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করে। ডাটা কমিউনিকেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি পণ্য এবং এর ব্যবহার, ল্যাপটপ, নোটবুক, মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা, ডিজিটাল ফটোফ্রেম, ফটো প্রিন্টার, ওয়াইফাই এক্সেস পয়েন্ট, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ, বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ভিত্তিক পণ্যসমূহ প্রদর্শনসহ এবারই প্রথম প্রযুক্তি মেলায় অংশগ্রহণ করেছে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে কৃষি, ভূমি, শুল্ক, চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করে যাওয়া প্রতিষ্ঠানসমূহ। দেশের সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশে এবারের ডিজিটাল এক্সপোতে সফটওয়্যার প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করা হয়। সেই সাথে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে রূপরেখা প্রণয়নে তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি ভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটসহ গোল টেবিল বৈঠক এবং সেমিনারের আয়োজন করা হয়। গত কাল বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি এবং ইউএনডিপি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবা ও শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ শীর্ষক দু’টি গোল টেবিল বৈঠক। আজ ডিজিটাল এক্সপো’র শেষ দিনে বিসিএস এবং ইউএনডিপি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রাধিকার শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক। সর্বাধুনিক সকল ধরনের প্রযুক্তি পণ্যের বিপুল সমাহার ঘটেছে এবারের এই প্রদর্শনীতে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি পণ্যসমূহ দর্শনার্থীদের নিকট প্রদর্শনের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানউন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করেছে। চারদিন ব্যাপী ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯’ প্রতিদিনই ব্যাপক দর্শক সমাগমে মুখোরিত হয়ে উঠে। মূলত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি পণ্য সমূহের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে এবারের ডিজিটাল এক্সপো’তে। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনায়নে ডিজিটালাইজড পদ্ধতির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি প্রণয়নের মাধ্যমে দেশে দ্রুততার সাথে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ সাধন করা সম্ভব। ডিজিটাল এক্সপো আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে আইসিটি ভিত্তিক সচেতনতা তৈরি করা। গত তিন দিন মানুষের আগ্রহ এবং সচেতনতা আমাদের উৎসাহিত করেছে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশে ভবিষ্যত কর্মপদ্ধতি প্রণয়নে। মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে সর্বশেষ প্রযুক্তি নির্ভর পণ্যসমূহের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমি মনে করি ডিজিটাল এক্সপো দেশের মানুষের জীবন যাত্রায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমানের তুলনায় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।’ বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো’র আহবায়ক শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি, কর্মপদ্ধতি, সেবাসমূহ এবং এসবের বহুবিধ ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের এই প্রযুক্তি পণ্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রকৃত পক্ষে এই ডিজিটাল এক্সপো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি।’ ডেফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে তা যথাযথভাবে প্রাত্যহিক জীবনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে এই প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই সাথে দেশের সর্বত্র কম্পিউটারাইজ কার্যক্রম সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’ এক্সেল টেকনোলজিস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম সাহা বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো সম্পর্কে বলেন, ‘ডিজিটাল জীবনধারাতে প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার সম্পর্কে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সচেতন করে তুলতে এই প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। প্রাত্যহিক জীবনে প্রযুক্তিপণ্যসমূহ ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্পর্কে যতবেশি মানুষ ধারণা লাভ করবে ততই দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনেকরি।’
ডিজিটাল এক্সপোতে জেএএন এসোসিয়েটস ক্যাননের বিভিন্ন মডেলের ক্যামেরায় ২০% পর্যন্ত মূল্যছাড় প্রদান করে।
ডিজিটাল এক্সপো’তে আসুসের বিভিন্ন মডেলের নোটবুক, ই পিসি এবং নতুন ৬টি মডেলের ডেস্কটপ পিসি নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড। আসুসের প্রতিটি পিসির সাথে রয়েছে টেবিল ঘড়ি, পেন ড্রাইভ, টি-শার্টসহ আকর্ষণীয় উপহার।

কমভ্যালি অংশগ্রহণ করেছে বিশ্বখ্যাত বেনকিউ ব্র্যান্ডের ম্যাট্রিক্স পিসি এবং জয়বুক ল্যাপটপ নিয়ে। প্রতিটি ল্যাপটপ ক্রয়েই ক্রেতাদের প্রদান করা হয় স্ক্র্যাচ কার্ড যার মাধ্যমে ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশ ব্যাক অফার প্রদান করা হয়। ফ্লোরা লিমিটেড বিভিন্ন মডেলের নাইকন ডিজিটাল ক্যামেরায় ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্য ছাড় প্রদান করে ডিজিটাল এক্সপো’তে। সেই সাথে এইচপি প্রিন্টার এবং এপসন-এর বিভিন্ন প্রিন্টার সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করা হয়। এপসন ব্র্যান্ডের প্রিন্টার সমূহে ২০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্য ছাড় প্রদান করা হয়েছে।
মেলায় রিশিত কম্পিউটার এইচপির পরবর্তী প্রজন্মের টাচ্ স্মার্ট পিসি এবং ইন্টেল সেন্ট্রিনো টু প্রযুক্তির বিশ্বখ্যাত সনি ভায়ো, ডেল, এইচপি, লিনোভো ল্যাপটপ প্রদর্শন করে। প্রতিটি পণ্যের সাথে রয়েছে নগদ মুল্য হ্রাস এবং আকর্ষণীয় উপহার। বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের সহযোগিতায় এই মেলার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে একটেল, লেনোভো, মাইক্রোসফ্ট, স্যামসাং এবং অফিসিয়াল আইএসপি হিসেবে রয়েছে বাংলা লায়ন কমিউনিকেশনস। তাছাড়া ই-টিকেটের স্পন্সর করেছে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস এবং স্যামসাং।

আজ ডিজিটাল এক্সপো’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এবং বিজ্ঞান তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা আগামী দিনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে নিশ্চিতভাবে।

ইশতিয়াক মাহমুদ
Source:http://www.ittefaq.com/content/2009/03/28/news0689.htm

Managing Digital Bangladesh 2021

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ১২:৫০ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

THE scope of Digital Bangladesh (DB) is not yet clear. We assume that the government wants to make Bangladesh fully digitised by 2021 through application of third generation information and communication technology (ICT).

Digitisation helps increase operational efficiency and productivity provided the supporting infrastructures work properly. This is a tool that will help accelerate economic development and increase competitive edges of Bangladesh in the world market.

Wide-scale digitisation is likely to help Bangladesh become a mid-income country sooner than otherwise possible. However, for proper management the government needs to define its vision, mission and goals and formulate strategies and prepare action plans supported by necessary financial and human resources so that the plans can be implemented.

It is assumed that by 2021 Bangladesh will have a countrywide ICT network that will operate to ensure high speed information flow between the decision- centers wherefrom instructions will be transmitted electronically to the action centres to make the intended actions happen.

The goal is to accelerate a national decision-making process and to implementat the decisions, monitor the performance of the government functionaries at all levels starting from the national parliament through the ministries, administrative offices at districts, upazilas and down to the schools at village levels; evaluate the results at each level and if necessary correct the behaviour of the non-performers.

The scope of DB is very wide. It is not only e-governance or e-commerce or e-banking, or operating a country-wide mobile phone network through which one can access the daily newspapers or other internet devices.

In fact, it is a combination of all of them. It is a country-wide application of 3G ICT to institutionalise the best management practices in every sector and sub-sector. To make DB happen, highest priority must be given to science, technology and management education. Besides, to be productive, the educated people must be in good health. This means digitisation should start simultaneously with the education and health sectors.

Education sector
The universities of Bangladesh are already partly digitised. DB visualises that by 2021 all universities, colleges, high schools, primary schools, and madrasahs will have computerised connectivity. ICT is intended to be used as teaching-learning aids. After five years of schooling all students should have regular access to computers with internet facilities. The goal is to improve the quality of education. The use of automated library is spreading slowly in most universities, although they have to go a long way to be digital in the real sense. By 2021 the entire education sector should be digitised with third generation wireless technology.

Health sector


Under the Ministry of Health there are medical universities, colleges and hospitals in big cities. In addition, there are a large number of rural hospitals/clinics/healthcare service centres at district, upazila, and thana levels. However, most of these hospitals and clinics are not well equipped and their services are not of desirable quality. The number of qualified doctors and nurses is much less than required. Nor do they have required type of diagnostic equipment and operating theatres. Reportedly, the available facilities and medicines are often misused.

In Digital Bangladesh all these clinics will be linked through the computer-aided connectivity. Major hospitals should even have their websites linked with the websites of the DG, Health Directorate. But it must be noted that merely establishing connectivity will not solve the problems of inadequacy of the number of doctors, nurses, equipment, medicines, etc.

What the digitisation can do is to seek, receive, analyse the medical reports and transmit back prescriptions/instructions, monitor the performances at the rural clinics electronically.

In other words, decisions can be implemented very quickly. This will ease out management problems. Because the entire information and data set will flow back and forth electronically they will be relatively more transparent and in turn the probability of indulgence in corruption will decrease. Beside, by 2021, the DB will hopefully introduce video conference systems between doctors in major clinics.

Managerial talent
To digitise Bangladesh with 3G technology in 12 years is fairly ambitious. However, there is no reason to feel skeptical. It needs strong commitment and strategic planning for sustainable DB. The beginning must concentrate on the development of infrastructure in terms of hardware, software and manpower. Merely buying several lakh computers and distributing them among several thousand workstations located in colleges, schools, hospitals and clinics will not digitise Bangladesh. Locally produced qualified manpower must be available to keep the system running without depending on foreign "experts." The project presupposes that Bangladesh will be able to build its technical and managerial capacity to design the necessary digital network system, procure and install all the equipment properly, and to educate, train and deploy necessary personnel to operate and maintain the nationwide ICT network.

Sustainability of DB will depend on our ability to maintain, repair and expand once the system is installed. To install the system at the beginning we may seek foreign help, but to keep the system running we must not depend on external help. We must develop our own manpower.

To produce such human resources, the government must assign highest priority to the promotion of science, technology and management education. We must prepare a separate plan to produce adequate number of scientists, computer and communication engineers, software engineers, technology management experts, etc.

Otherwise DB will make Bangladesh highly vulnerable by making Bangladesh dependent on those countries that manufacture, control and distribute ICT. Sustainability is more important than starting. If we fail to manage a sustainable digitised Bangladesh with our own resources, Digital Bangladesh 2021 will harm rather than benefit the country.

Dr. Hafiz Siddiqi is Vice Chancellor, North South University.
Source http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=79698

দর্শক-ক্রেতাদের দৃষ্টিতে ডিজিটাল বাংলাদশে

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ১২:৩৬ AM 0 মন্তব্য(গুলি)


মাত্র দু’দিন আগে শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) আয়োজিত ডিজিটাল এক্সপো। এবারের মেলায় গতবারের মতো ছিল না কোন রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা। তাই স্বভাবতই মেলা শুরু হয়েছিল একেবারেই নিজস্ব আমেজ নিয়ে। শুরু থেকেই মেলায় দর্শক ও ক্রেতা সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ ঘুরে ঘুরে মেলা দেখে বাড়ি ফিরেছেন, কেউ আবার পছন্দের পণ্যটি হাতের নাগালে পেয়ে সেটি কিনেই ফিরেছেন। মেলায় আসা এরকম অনেকেরই সঙ্গে কথা হয় এবারের ডিজিটাল এক্সপোর বিভিন্ন দিক নিয়ে। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্র সাব্বির আহমেদ এবারেই প্রথম এসেছেন মেলায়। এর আগে কোন মেলায় না আসার কারণে সবকিছুই তার কাছে নতুন নতুন লেগেছে। মেলার প্রায় প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেছেন। এবারের মেলা সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেলায় আইটি সামগ্রীর দাম অনেক কম হওয়ায় সবার জন্য ভালো হয়েছে। আর যে আশা নিয়ে তিনি মেলায় এসেছিলেন তা পূরণ হয়েছে বলে তিনি জানান। পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র মাহবুব আলম ঢাকায় বেড়াতে এসেছেন। আর সেই সময়ে ডিজিটাল এক্সপো হয়ে যাওয়াতে তিনি সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেননি। শুধুমাত্র কী-বোর্ড আর মাউস কিনলেও ঘুরে দেখেছেন ল্যাপটপের সব স্টল। অবিশ্বাস্য মূল্যহ্রাস দেখে তিনি তো রীতিমতো অবাক। মেলার সার্বিক দিক বিবেচনা করে তিনি মেলাকে একটি সফল মেলা হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

অনেকেই মেলায় এসেছিলেন
বন্ধু-বান্ধবদের বিশাল গ্র“প নিয়ে। মেলায় গিয়ে এরকম একটি গ্র“প পাওয়া যায়, যারা সবাই বন্ধু হলেও একেকজন পড়ছেন একেক প্রতিষ্ঠানে। তাদেরই একজন আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটির ছাত্র হাসান মোহাম্মদ ফেরদৌস। তিনিও মেলাকে সার্বিক দিক দিয়ে সফল মেলা হিসেবে আখ্যা দিলেন। কিন্তু তারই সঙ্গে আসা ঢাকা টেক্সটাইলের ছাত্র মাহমুদুজ্জামান জানালেন, একেবারেই ভিন্ন কথা। তিনি জানান, এবারের মেলায় এসে তিনি রীতিমতো হতাশ হয়েছেন। মেলার নাম ডিজিটাল এক্সপো হলেও নাকি তিনি এতে তার ন্যূনতম প্রতিচ্ছবিও দেখতে পাননি। তিনি একটি ডিজিটাল ডায়েরি কিনবেন বলে এসেছিলেন, কিন্তু সেটা মেলায় তিনি সাধ্যের মধ্যে কোথাও খুঁজে পাননি। মাহমুদুজ্জামানের সঙ্গে সুর মেলালেন তার অন্য দুই বন্ধু নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাজহারুল ইসলাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুল ইসলাম। আবার চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর দুই ছাত্র বেলাল হোসাইন ও অনিক সমদ্দার জানান, তারা মেলার সব কিছুতেই সন্তুষ্ট। ল্যাপটপ থেকে শুরু করে সব পণ্যসামগ্রীর দাম কম হওয়াতে তারা দু’জনেই দারুণ খুশি। সঙ্গে সঙ্গে তারা আশাবাদী, এরকম মেলাই ভবিষ্যতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রধান সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। - হিমু

রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০০৯

ডিজিটাল বাংলাদেশ

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৭:২১ AM 0 মন্তব্য(গুলি)
ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বকে গ্লোবাল ভিলেজ বা একটি দূরত্ব ঘুচে যাওয়া গ্রামে রূপান্তরিত করেছে। আধুনিক এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমাদের জীবনযাপন এবং সংস্কৃৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট। এই পরিবর্তনশীলতায় সময়ের সঙ্গে এগিয়ে থাকার প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছিলেন, ২০২১ সালের মধ্যে আমাদের প্রিয় স্বদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন।

এমনিতেই ছোট্ট, দরিদ্র, বেকারত্ব ও ঝড়-ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিত হয়ে আছে আমাদের প্রিয় জš§ভূমি। তৃতীয় বিশ্বের তকমা বুকে নিয়ে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সমস্যায় যখন ক্রমাবনতির দিকে, তখন নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণায় তরুণ প্রজš§সহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে একটি ইতিবাচক স্বপ্নের বীজ রোপিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই পরিবর্তনের অঙ্গীকারে শামিল হতেই অনুষ্ঠিত হয় নীরব ভোটবিপ্লব। আশান্বিত যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমাদের অর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে। কিন্তু খুব সামান্যসংখ্যক মানুষই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উপায়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক সুবিধা ও সম্ভাব্য সাফল্য সম্পর্কে ভাবতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অগ্রযাত্রায় শামিল হতে সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাদার ও স্বপ্নবান মানুষেরা এগিয়ে এসেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির আয়োজিত রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো চার দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল এক্সপো-২০০৯’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের মেলায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেমিনারের আয়োজন উৎসবকে কার্যকরী করে তুলেছে। এ ছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তিকে পৌঁছে দেয়ার কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি, বিশ্বের খ্যাতিমান প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিতম পণ্য ও সেবার প্রদর্শনী মেলায় আগতদের আকৃষ্ট করেছে। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিসিএস সভাপতি মোস্তাফা জাব্বারের প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে ঘোষণা করেন সরকার কমপক্ষে ১০ হাজার প্রোগ্রামার তৈরির পদক্ষেপ নেবে। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করে উন্নত বিশ্বে কর্মক্ষেত্র তৈরির প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন, যা আমাদের আশান্বিত করেছে।
একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির পক্ষ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনটির সভাপতি মোস্তাফা জাব্বার কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হচ্ছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি
ষ জনগোষ্ঠীর সকল অংশের কাছে, বিশেষত গ্রাম, শহরসহ অন্যত্র বসবাসকারী মানুষের কাছে ডিজিটাল প্রযুক্তি সহজলভ্য করে পৌঁছাতে হবে। দরিদ্র জনগণকে জ্ঞানকর্মী বা ডিজিটাল প্রযুক্তিকর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং গ্রামে গ্রামে ডিজিটাল শিল্প-বাণিজ্যসহ কৃষি, শিক্ষা, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সরকার প্রদত্ত সব সহায়তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের সব নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় থাকতে হবে, যাতে সরকার সময়মতো সব ধরনের সহায়তা প্রদান করতে পারে। সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইড দূর করতে হবে।
ষ ডিজিটাল মাধ্যমসহ সব মিডিয়ায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এ সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে, যা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণ অনায়াসে পাবে। রাষ্ট্রের ভিত্তিগুলোর যৌক্তিকতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে।

ষ সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবস্থার তথ্য জনগণকে জানানোর জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। সংসদের কার্যাবলিসহ সব রাজনৈতিক কর্মসূচি, রাজনৈতিক বক্তব্য, কর্মকাণ্ড ও রাজনীতিকদের জীবনাচার সংক্রান্ত তথ্যাদি উš§ুক্তভাবে জনগণের জন্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
ষ ডিজিটাল সরকারের কাজ করার প্রক্রিয়া হবে ডিজিটাল। প্রচলিত কাগজভিত্তিক, ফাইল ও ফিতাভিত্তিক সরকার ব্যবস্থার বদলে সরকার কাজ করবে নেটওয়ার্ক, ইন্টার‌্যাক্টিভ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে। সরকারের সব তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হতে হবে এবং জনগণকে ডিজিটাল পদ্ধতিসহ অন্যান্য পদ্ধতিতে সেবা প্রদানের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণের জন্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
ষ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। কেন্দ ীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগসহ জনগণকে সেবা প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ডিজিটাল হবে। স্থানীয় সরকারের সব তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হবে।
ষ ভূমি সংক্রান্ত সব তথ্য, মালিকানা ও নিবন্ধন ডিজিটাল পদ্ধতিতে করতে হবে। এসব বিষয়ের সব তথ্য অনলাইনে প্রাপ্ত হতে হবে। খাসজমি বরাদ্দ, দখল প্রদান, ভূমি সংক্রান্ত মামলা ও বিরোধসহ সব তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত এবং জনগণের কাছে প্রাপ্য হতে হবে। ডিজিটাল তথ্য ও উপাত্ত অনুসারে ভূমি ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গবেষণা ও কৃষি, পশুসম্পদ, মৎস্যসহ সকল পর্যায়ের উপকরণ, সহায়তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
ষ দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল যুগ বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেয়া হবে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব হবে। দেশের প্রতিটি শিশুর হাতে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার প্রদান করতে হবে। প্রতি ঘরে ও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিতে হবে স্বল্প বা বিনামূল্যের দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। দেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গা থেকে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে প্রবেশ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
ষ সশস্ত্র বাহিনীসহ সব শৃংখলা বাহিনীর ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালিত আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য ডিজিটাল অস্ত্র ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করার জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়নসহ ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির বিষয়টি অনলাইন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
ষ পরিবর্তিত অবস্থার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট নতুন ধরনের অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সাইবার কমিউনিকেশন, অনলাইন আদান-প্রদান, নিউ মিডিয়া, ডিজিটাল কমার্স, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং মেধাসম্পদ ইত্যাদি বিষয়কে পর্যালোচনা করে অপরাধ সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধিসহ অন্যান্য আইন পরিবর্তন করতে হবে। অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডিজিটালসহ নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনমতো বায়োমেট্রিক জিন পরীক্ষা, অপরাধীর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম, অপরাধীর ডাটাবেজ তৈরি করা ছাড়াও বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে হবে। আইনসমূহ অনলাইনে পাওয়ার পাশাপাশি, ডিএলআর ও অন্যান্য আইন প্রকাশনা ডিজিটাল ও অনলাইনে প্রাপ্য হতে হবে। বিচারপ্রার্থী অনলাইনে বিচার প্রার্থনা করার পাশাপাশি তার মামলা কোথায় কি অবস্থায় আছে তা যেন অনলাইনে জানতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। আইনজীবীরা যাতে অনলাইনে তাদের বক্তব্য পেশ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের সহায়তায় বাদী-বিবাদীর বক্তব্য বা সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।
ষ ২০২১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু বার্ষিক আয় দুই হাজার ডলারে উন্নীত করতে হবে। ধীরে ধীরে জিডিপি’র বৃহৎ অংশ মেধাজাতসম্পদ থেকে উৎপন্ন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তিসহ, প্রযুক্তি পণ্য ও সেবা, কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, গার্মেন্টস এবং সেবাখাতের রফতানিকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে এসব খাতে অর্থের জোগান দিতে হবে এবং রফতানি সহায়তাও করতে হবে। সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে, এক কথায় ডিজিটাল কমার্স। বাণিজ্যিক লেনদেন ও যোগাযোগ হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। শিল্প কলকারখানায় প্রয়োগ করতে হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি।
ষ জ্ঞানভিত্তিক শিল্প ও সেবার ভিত্তি হবে মেধাভিত্তিক। পূর্বোক্ত খাতগুলোতে প্রযুক্তি সরবরাহ, উচ্চতর প্রযুক্তির জন্য গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিরোধ ছাড়াও রফতানি আয় এই খাতের অন্যতম লক্ষ্য হবে।
ষ স্বাস্থ্য সেবা, চিকিৎসা ও হাসপাতালে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করার পাশাপাশি ওষুধ প্রশাসন ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করতে হবে। উপযুক্ত পর্যায়ে টেলিমেডিসিন সেবা চালু করতে হবে।
ষ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রহণ ও প্রদান করতে হবে। আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হতে হবে।
ষ যানবাহনের নিবন্ধনসহ, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ডিজিটাল হবে। সব গণবাহনের সময়সূচি ও চলাচলের তথ্য, বুকিং, অবস্থান ইন্টারনেটে-মোবাইল নেটওয়ার্কে সার্বক্ষণিকভাবে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ষ ডিজিটাল দুনিয়াতে রাষ্ট্রভাষাসহ বাংলাদেশের সব ভাষার প্রচার, প্রকাশ ও বিকাশসহ বাঙালি ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সার্বিক সমৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রকে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তোলা ছাড়াও ডিজিটাল প্রকাশনাকে সর্বপ্রকারে উৎসাহিত ও সহায়তা করতে হবে।
ষ ধর্মচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও উপাত্ত ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করে তা অনলাইনে বিনামূল্যে সহজলভ্য করতে হবে। মসজিদ-মন্দির-মক্তব ও মাদ্রাসার মাঝে এমনভাবে তথ্যকেন্দ বা ইনফরমেশন কিয়স্ক স্থাপন করতে হবে, যাতে ধর্ম সংক্রান্ত তথ্যগুলো টাচ স্ক্রিনের সহায়তায় খুব সহজেই যে কেউ পেতে পারে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান সরকারকে এই মুহূর্তেই পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের এই মুহূর্তের করণীয় হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালাসহ সকল নীতিমালা হালনাগাদ, সংশোধন বা প্রণয়ন করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তুত করা এবং সেই রোডম্যাপ অনুসারে সকল কার্যক্রম গ্রহণ করা।
তরিক রহমান