ডিজিটাল প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ডিজিটাল প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০০৯

বিশ-একুশে ডিজিটাল বাংলাদেশ চাই

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ১:০৭ AM 1 মন্তব্য(গুলি)

ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে সেই সুখী, সমৃদ্ধ, শিক্ষিত এবং দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ যা ডিজিটাল ডিভাইডসহ সকল প্রকারের বৈষম্যহীন জনগণের রাষ্ট্র, যার মুখ্য চালিকা শক্তি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। এটি বাঙ্গালীর উন্নত জীবনের আকাক্সক্ষা। এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর প্রকৃষ্ট পন্থা। এটি একাত্তরের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপকল্প। এটি বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত বা দরিদ্র দেশ থেকে সমৃদ্ধ ও ধনী দেশে রূপান্তরের জন্য মাথাপিছু আয় বা জাতীয় আয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা।

এই কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য হলো:

ক. তথ্য যুগ বা ডিজিটাল যুগ যে নামেই আমরা ডাকিনা কেন, কৃষি ও শিল্প যুগের পর মানব সভ্যতার জন্য চলমান ডিজিটাল বা তথ্য যুগের সার্বিক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি উন্নত দেশ হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করবে ও জনগণের মাঝে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করবে, বৈষম্য ও দারিদ্রমুক্ত করবে এবং রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করবে।
খ. এই কর্মসূচী দেশের সকল মানুষের জন্য ডিজিটাল লাইফস্টাইল গড়ে তোলার মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মান সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা গড়ে তুলে পুরো জাতির জন্য একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
গ. ডিজিটাল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা। একাত্তরে এই জাতি যে স্বপ্ন নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে নেমেছিলো সেই স্বপ্ন পূরণ করার পাশাপাশি ডিজিটাল যুগের বাস্তবতা অনুযায়ী দেশের কর্মক্ষম জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করা হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য। এই জনেগোষ্ঠী হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের সৈনিক।
ঘ. ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে সর্বপ্রকারের ডিজিটাল প্রযুক্তি সহজলভ্য করা ও এর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
ঙ. ডিজিটাল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সম্পদ ও সরকার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বস্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
চ. ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রকে সর্বপ্রকারের ধর্ম-নিরপেক্ষ করে বাঙালীর ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ সাধনের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিস্বত্ত্বার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সংরক্ষণ, বিকাশ ও তাদের সর্বপ্রকারের অধিকার নিশ্চিত করা।
ছ. ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে ব্যক্তিগত, পাবিারিক ও সামাজিক সম্পর্ক, উৎপাদন ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ডিজিটাল যুগের পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে নাগরিকদেরকে শিক্ষিত করা ও এই যুগের ভালো দিকটির বিকাশ ঘটিয়ে মন্দ দিকটিকে প্রতিরোধ করা।
জ. ডিজিটাল যুগের অন্যতম লক্ষ্য হলো অধিকতর মেধাসম্পদ তৈরী, সংরক্ষণ ও বিকাশ করা।

নিচে ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা বর্ণিত হলো:

ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা
১. কেন ডিজিটাল বাংলাদেশ: যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের দখলদারিত্ব থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং যেহেতু এই জনগণ স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা ও উন্নত জীবন গড়ার অধিকার রাখে, সেহেতু ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জাতির সকল মানুষের আশা আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির নিরঙ্কুশ বিজয় এই কর্মসূচী যথাযথভাবে বাস্তবায়নের এক অপূর্ব সুযোগ তৈরী করেছে। আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশটিকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করা।
২. অগ্রাধিকার: ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত আছে আমাদের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনেক বিষয়। এসবের মাঝ থেকে আমি শেখ হাসিনার চলতি মেয়াদের সরকারের জন্য কয়েকটি অগ্রাধিকার বাছাই করেছি।

২.১ জাতীয় অগ্রাধিকার
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম জাতীয় অঙ্গীকার হবে দেশ থেকে দারিদ্র ও বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা।
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত অগ্রাধিকার থাকতে হবে সারা দেশের সকল ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারা। একই সাথে প্রতিটি ঘরকে তার বা বেতার ব্যবস্থায় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে। এ ছাড়াও মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, ডিজিটাল ডিভাইড দূর করা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হতে হবে।

২.২ জাতীয় লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রসমূহ
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম অগ্রাধিকারটি হলো ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এক অর্থে বলা যায়, সরকারকে হতে হবে পেপারলেস গভর্নমেন্ট। সচিবালয় থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত সরকার কাজ করবে ডিজিটাল, নেটওয়ার্ক ও অনলাইন পদ্ধতিতে। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে ডিজিটাল। সরকারের তথ্য সংরক্ষিত হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। জনগণের সরকারের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হবে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টার‌্যাক্টিভ পদ্ধতিতে। ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় জনগণকে সেবাদান একটি অগ্রাধিকার খাত হবে।
ক্স স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগ করতে হবে এবং এর সহায়তায় স্থানীয় সরকারের সাথে সরকারের সকল শাখাকে যুক্ত করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিত্তিতে ইন্টার‌্যাক্টিভ পদ্ধতিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও সেবাগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ক্স জাতীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচন পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে।
ক্স ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগের পরের অগ্রাধিকারটি হতে হবে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা। এই কর্মসূচীতে স্কুল পর্যায়ে কেবলমাত্র বাধ্যতামূলক কম্পিউটার শিক্ষাই অন্তর্ভুক্ত নয়, এতে থাকতে হবে শিশুশ্রেণী থেকে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত সকল পাঠ্য বিষয়কে ইন্টার‌্যাক্টিভ মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যারে রূপান্তর করা। প্রতি শিশুর হাতে কম্পিউটার প্রদান এবং প্রতি ঘরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রদান এই কর্মসূচীর আওতায় থাকবে।
ক্স এর পরের অগ্রাধিকারটি হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এজন্য আর্থিক প্রশাসন, রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল কমার্স-এর জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে। অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্প সর্বত্র লেন-দেন থেকে যন্ত্রপাতিতে থাকতে হবে ডিজিটাল পদ্ধতি।
ক্স অন্যতম অগ্রাধিকার হতে হবে ডিজিটাল ভূমিব্যবস্থা। ভূমির সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি এর ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে করতে হবে।
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মসূচীর সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার পাশাপাশি আইনশৃক্সক্ষলা রক্ষা করা, জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধান করা ও অপরাধ দমন করার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সকল মেধাসম্পদ সুরক্ষা করতে হবে।
ক্স সকল নাগরিকের ধর্মচর্চার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধর্ম সংক্রান্ত সকল তথ্য পাবার ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ শীর্ষক অন্যান্য কর্মসূচী বাস্তবায়ন ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকে নিশ্চিত করবে।

৩. এক নজরে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী

নীচে ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর সংক্ষিপ্ত কর্মসূচী প্রদত্ত হলো। এতে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোর উল্লেখ আছে। বোল্ড ও ইটালিক করা বিষয়গুলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

৩.১ জনগণের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য রাষ্ট্র তথা সরকারকে পরিপূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণ রাষ্ট্রকে কর দেবে কিন্তু রাষ্ট্র জনগণের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান বা চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাবেনা-এটি হতে পারেনা। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সরকার আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে পেতে চাইনি। এজন্য টাকার অঙ্কে লাভ লোকসানের সরকার এবং মানুষের মৌলিক চাহিদাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা থেকে এই রাষ্ট্রের গতি ফেরাতে হবে। আমি নিশ্চিতভাবেই মনে করি যে রাষ্ট্রকে জনগণের ন্যূনতম চিকিৎসা, আশ্রয়, পরিধেয়, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রকে সকল নাগরিকের জন্য সমসুযোগের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ধনিক ও লুটেরা শ্রেণীর ক্রমাগত ও অপ্রতিরোধ্য একতরফা জন্ম নেয়া বন্ধ করতে হবে। দারিদ্র দূরীকরণ ও ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য নিরসনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ডিভাইড দূর করতে হবে। রাষ্ট্রকে অক্ষম, কর্মহীন, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীন নাগরিক, যুদ্ধাহত, বিধবা ও সমাজের সকল স্তরের অনগ্রসর অংশকে ন্যূনতম জীবনধারনের উপযোগী ভাতা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করতে হবে।
জনগোষ্ঠীর সকল অংশের কাছে, বিশেষতঃ গ্রামে ও শহরসহ অন্যত্র বসবাসকারী দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের কাছে ডিজিটাল প্রযুক্তি সহজলভ্যভাবে পৌঁছাতে হবে। দরিদ্র জনগণকে জ্ঞানকর্মী বা ডিজিটাল প্রযুক্তি কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং গ্রামে গ্রামে ডিজিটাল শিল্প-বাণিজ্যসহ কৃষি, শিক্ষা, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সরকার প্রদত্ত সকল সহায়তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। দেশের সকল নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় থাকতে হবে যাতে সরকার সময়মতো সকল প্রকারের সহায়তা প্রদান করতে পারে। সকল প্রকারের ডিজিটাল ডিভাইড দূর করতে হবে।

৩.২ রাষ্ট্রটি হবে সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকমী জনগণ তথা মুজিবনগর সরকার কর্তৃক ঘোষিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সাথে সমিলতাপূর্ণ। এটি হবে গণতান্ত্রিক, বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী, ধর্ম নিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক। এর অর্থনৈতিক নীতি হবে বৈষম্যহীন ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবি, ছাত্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অনুকূলের।
ডিজিটাল মাধ্যমসহ সকল মিডিয়ায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই সংক্রান্ত সকল তথ্য প্রকাশ করতে হবে যা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণ অনায়াসে পাবে। রাষ্ট্রের ভিত্তিসমূহের যৌক্তিকতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩.৩ শাসনতন্ত্রের গণবিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িক ধারাসমূহ সংশোধন করতে হবে এবং বিচারবিভাগ, কর্ম কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলসমূহ বিধিবদ্ধ ও জবাবদিহিতামূলকভাবে স্বচ্ছতাসহ গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে।
সকল রাজনৈতিক কর্মকা- ও ব্যবস্থার সকল তথ্য জনগণের কাছে প্রাপ্ত হবার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। সংসদের কার্যাবলসিহ সকল রাজনৈতিক কর্মসূচী, রাজনৈতিক বক্তব্য, কর্মকা- ও রাজনীতিকদের জীবনাচার সংক্রান্ত সকল তথ্য উন্মুক্তভাবে সকল জনগণের জন্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৩.৪ প্রচলিত পদ্ধতির ফাইলভিত্তিক প্রশাসন বদলে ফেলতে হবে। অর্ধ শতাধিক স্বাক্ষর-ফাইল ওপরে ওঠা এবং নীচে নামার বিদ্যমান পদ্ধতি বদল করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ওয়ান স্টপ পদ্ধতি এবং পুরো সরকারের জন্য একটি নেটওয়ার্ক চালু করতে হবে। দেশ পরিচালনা করবে যে সরকার সেটি হবে ডিজিটাল সরকার।
ডিজিটাল সরকারের কাজ করার প্রক্রিয়া হবে ডিজিটাল। প্রচলিত কাগজভিত্তিক, ফাইল ও ফিতাভিত্তিক সরকার ব্যবস্থার বদলে সরকার কাজ করবে নেটওয়ার্ক, ইন্টার‌্যাক্টিভ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে। সরকারের সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হতে হবে এবং জনগণকে ডিজিটাল পদ্ধতিসহ অন্যান্য পদ্ধতিতে সেবা প্রদানের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণের জন্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
৩.৫ রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব জনগণের ওপর ন্যস্ত করার জন্য একটি কার্যকর ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা থাকতে হবে। গ্রাম-ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় সরকারের সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারাই দেশটি পরিচালিত হতে হবে। দেশে একটি নির্বাচিত জাতীয় সংসদ থাকতে হবে। জাতীয় সংসদই একমাত্র আইন প্রণয়ণ করবে এবং সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে সরকার গঠিত হতে হবে। এর সাথে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হিসেবে জেলা-নগর সরকার, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ (পশ্চিমবঙ্গের মতো গ্রাম পঞ্চায়েত হতে পারে) থাকতে হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদকে সহায়তা ও পরামর্শদানের জন্য পেশাজীবীদের নির্বাচিত একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে। দেশের জনপ্রশাসন ও আইনশৃক্সক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রিয় ও স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধীনে থেকে কাজ করবে ও জনগণকে সেবা প্রদান করবে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। কেন্দ্রিয় সরকারের সাথে যোগাযোগসহ জনগণকে সেবা প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ডিজিটাল হবে। স্থানীয় সরকারের সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হবে।
৩.৬ দেশের ভূমিব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। ভূমির মালিকানা ব্যবস্থার সংস্কার করে ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষদেরকে ভূমির মালিকানা দিতে হবে। ভূমির অপব্যবহার বা যথেচ্ছা ব্যবহার রোধ করে পরিকল্পিত উপায়ে ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করে এই খাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। উচ্চফলনশীল শস্য উৎপাদনের জন্য উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার-বীজ-কীটনাশক ন্যায্য/ভর্তুকিমূল্যে পাবার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি অর্থকরী ও রপ্তানীমুখী কৃষিপণ্য উৎপাদন করতে হবে। কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের সকল কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সমবায়-সামাজিক পদ্ধতির মাধ্যমে চাষাবাদ করতে হবে। কৃষিখাতের গবেষণাকে সরকারকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিতে হবে। ধান-সব্জিসহ খাদ্য, ফলমূল, মাছ-হাস-মুরগি-গবাদি পশু এবং অর্থকরী-রপ্তানীমুখী কৃষিপণ্যের জন্য ব্যাপকহারে গবেষণা করতে হবে এবং গবেষণার ফলাফলকে যথাশীঘ্রসম্ভব মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে হবে। বিল-জলাশয়ের বিদ্যমান ইজারাপ্রথা বাতিল করে সমাজবদ্ধতার মাধ্যমে বিল-জলাশয়গুলোতে সামাজিক মৎস্য চাষ করতে হবে। কোনভাবেই প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করা যাবেনা। এজন্য যথাযথ পর্যায়ে মৎস্য, পাখী ও অন্যান্য প্রাণীর অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে হবে। কৃষি ও কৃষিনির্ভর শিল্পসহ কৃষিপণ্যের বাজারদর ও চাষাবাদ সম্পর্কিত সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সহজলভ্য হতে হবে।
ভূমি সংক্রান্ত সকল তথ্য, মালিকানা ও নিবন্ধন ডিজিটাল পদ্ধতিতে করতে হবে। এসব বিষয়ের সকল তথ্য অনলাইনে প্রাপ্ত হতে হবে। খাসজমি বরাদ্দ, দখলপ্রদান, ভূমি সংক্রান্ত মামলা ও বিরোধসহ সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত এবং জনগণের কাছে প্রাপ্য হতে হবে। ডিজিটাল তথ্য ও উপাত্ত অনুসারে ভূমি ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি গবেষণা ও কৃষি, পশুসম্পদ, মৎস্যসহ সকল পর্যায়ের উপকরণ, সহায়তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

৩.৭ দেশে ইংরেজী-বাংলা-মাদ্রাসা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে একই ধারার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকতে হবে এবং শিশুশ্রেণী থেকে কম্পিউটারসহ অন্যান্য বিজ্ঞান বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পাঠ করার ব্যবস্থাসহ কম্পিউটারকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল যুগ বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেয়া হবে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব হবে। দেশের প্রতিটি শিশুর হাতে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার প্রদান করতে হবে। প্রতি ঘরে ও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিতে হবে স্বল্প বা বিণামূল্যের দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। দেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গা থেকে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে প্রবেশ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৩.৮ সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক ও আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনীকে তথ্যপ্রযুক্তিসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করতে হবে। দেশের সীমারেখা, ধনসম্পদসহ সকল কিছুর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হতে হবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপত্তা বিধান করা। একই সাথে রাষ্ট্রকে ব্যক্তির প্রাইভেসি বজায় রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালিত আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য ডিজিটাল অস্ত্র ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করার জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়নসহ ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির বিষয়টি অনলাইন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

৩.৯ প্রচলিত আইনসমূহ পরিবর্তন করতে হবে এবং নতুন আইনসমূহ ডিজিটাল বাংলাদেশ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের কথা চিন্তা করেই প্রণীত হতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকারের সকল তথ্য ও উপাত্ত ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করতে হবে এবং মেধাসম্পদ সুরক্ষার জন্য কার্যকর আইন প্রণয়নসহ প্রয়োগ করতে হবে।
পরিবর্তিত অবস্থার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট নতুন ধরনের অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সাইবার কম্যুনিকেশন, অনলাইন আদানপ্রদান, নিউ মিডিয়া, ডিজিটাল কমার্স, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং মেধাসম্পদ ইত্যাদি সকল বিষয়কে পর্যালোচনা করে অপরাধ সংক্রান্ত ফৌজদারী কার্যবিধিসহ অন্যান্য আইন পরিবর্তন করতে হবে। অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডিজিটালসহ নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনমতো বায়োমেট্রিক জিন পরীক্ষা, অপরাধীর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম, অপরাধীর ড্যাটাবেজ তৈরী করা ছাড়াও বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে হবে। আইনসমূহ অনলাইনে পাবার পাশাপাশি, ডিএলআর ও অন্যান্য আইন প্রকাশনা ডিজিটাল ও অনলাইনে প্রাপ্য হতে হবে। বিচারপ্রার্থী অনলাইনে বিচার প্রার্থনা করার পাশাপাশি তার মামলা কোথায় কি অবস্থায় আছে তা যেন অনলাইনে জানতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। আইনজীবীগণ যাতে অনলাইনে তাদের বক্তব্য পেশ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের সহায়তায় বাদী-বিবাদীর বক্তব্য বা সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩.১০ নিউ ইকোনমি (নতুন অর্থনীতি) বা নলেজ ইকোনমি (জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি) ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। এটি বিদ্যমান পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে প্রতিস্থাপিত করবে। নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ পুঁজিবাদী হবেনা- আবার সম্পূর্ন সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মতো পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিতও হবেনা। অর্থনীতি প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করলেও প্রয়োজনে সরকার অর্থনীতির ক্ষেত্রবিশেষে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। এতে রাষ্ট্রীয় মালিকানার পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানা থাকবে, তবে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই জনগণের অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়ে বিকশিত হতে হবে। সরকার বেসরকারী খাতের কাছে লাভজনক নয়, অথচ জনকল্যাণমূলক - এমন খাতে সরাসরি বা বাধ্যতামূলক বিনিয়োগ করবে। রপ্তানী, জনকল্যাণমূলক, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিসহ জরুরী সেবাখাতে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনমতো ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থনীতির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অবশ্যই দুই ডিজিটের বা শতকরা ১০ ভাগের বেশী করতে হবে।
২০২১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু বার্ষিক আয় দুই হাজার ডলারে উন্নীত করতে হবে। ধীরে ধীরে জিডিপি’র বৃহৎ অংশ মেধাজাত সম্পদ থেকে উৎপন্ন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তিসহ, প্রযুক্তি পণ্য ও সেবা, কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, গার্মেন্টস এবং সেবাখাতের রপ্তানীকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে এইসব খাতে অর্থের যোগান দিতে হবে এবং রপ্তানী সহায়তাও করতে হবে। সকল প্রকার ব্যবসা বাণিজ্য হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে, এক কথায় ডিজিটাল কমার্স। বাণিজ্যিক লেনদেন ও যোগাযোগ হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। শিল্প কলকারখানায় প্রয়োগ করতে হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি।
৩.১১ বাংলাদেশের শিল্পসমূহ কৃষিভিত্তিক, ভোক্তা বা লাইফ স্টাইলভিত্তিক এবং জ্ঞানভিত্তিক হিসেবে বিবেচিত হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রধানতম উদ্দেশ্য হবে দেশের কৃষিসম্পদের উন্নয়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ, দেশবাসীর খাদ্যের যোগান দেয়া এবং উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য রপ্তানী করা। ভোক্তা বা লাইফস্টাইল ভিত্তিক শিল্প মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন, জীবন যাপনের মানবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধি ও সহায়তার জন্য গড়ে উঠবে। শিল্প কারখানাকে রাজধানী বা মেট্রোসিটির বদলে জেলা, উপজেলা এবং গ্রামে স্থাপন করতে হবে। কৃষি ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্প স্থাপনে গ্রামই হবে আদর্শ স্থান। দৈনন্দিন ভোক্তা পণ্য গ্রামেই উৎপাদিত হবে। প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য একটি করে ক্ষুদ্র শিল্প প্লট থাকতে হবে। উপজেলা ও জেলায় একটি শিল্প এলাকা থাকতে হবে। সরকার শিল্পখাতে ব্যাপক সহায়তা প্রদান করবে। শিল্পের বিকাশের অনুকূল শিল্পনীতি থাকা ছাড়াও সরকার শিল্প স্থাপনে জমি, সরঞ্জামাদি এবং অর্থের যোগান দেবে। দেশে উপযুক্ত স্থানে হাইটেক পার্ক, শিল্প পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, গার্মেন্টস পল্লী, চামড়া পল্লী ইত্যাদি স্থাপন করা হবে। ভেনচার ক্যাপিটাল ও ইক্যুইটি এন্টারপ্রনেরশিপ ফান্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে রপ্তানী সহায়তা ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তা তহবিল গড়ে তুলে সরাসরি উদ্যোক্তাকে সহায়তা করতে হবে।
জ্ঞানভিত্তিক শিল্প ও সেবার ভিত্তি হবে মেধাভিত্তিক। পূর্বোক্ত খাতসমূহে প্রযুক্তি সরবরাহ, উচ্চতর প্রযুক্তির জন্য গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিরোধ ছাড়াও রপ্তানী আয় এই খাতের অন্যতম লক্ষ্য হবে।

৩.১২ বর্তমানের কাগজভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবা, চিকিৎসা ও হাসপাতালে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করার পাশাপাশি ঔষধ প্রশাসন ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করতে হবে। উপযুক্ত পর্যায়ে টেলিমেডিসিন সেবা চালুু করতে হবে।

৩.১৩ বাংলাদেশ বিশ্বের নিপীড়িত, শোষিত, দরিদ্র জনগণের পক্ষে থাকবে। একই সাথে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি বৃহত্তর ইউনিয়ন বা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেবে। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃযাতায়াত এবং তথ্যপ্রযুক্তিগত যোগাযোগকে সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করতে হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের দেশকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে ।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সকল তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রহণ ও প্রদান করতে হবে। আন্তঃদেশীয় যােগাযোগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হতে হবে।

৩.১৪ দেশের গণবাহন বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাকে দ্রুতগতির, আরামদায়ক, নিরাপদ এবং স্বল্পব্যয়ী করতে হবে। জাতীয় রুটে দ্রুতগামী ট্রেন সার্ভিস চালু করার পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য মহানগরীতে পরিকল্পিত নগর রেল, চক্রাকারে রেল, উপশহর রেল, আকাশ রেল বা পাতাল রেল স্থাপন করতে হবে। ঢাকাসহ বড় বড় মহানগরীতে ক্রসরোড, লেবেল ক্রসিং-এ ফাইওভার-সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণ করতে হবে। সিগন্যালিংসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। সারাদেশে জাতীয় সড়ক ব্যবস্থাকে প্রশস্ত, আধুনিক ও নিরাপদ করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের, আঞ্চলিক মহসড়ক নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করতে হবে। যেসব এলাকায় স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা যাবেনা সেইসব জায়গায় ডুবোসড়ক নির্মাণ করতে হবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌপথকে কেবল নাব্য করা নয়, এতে আরামদায়ক নৌযান চালু করাসহ স্পীডবোট, সীট্রাক ও হোভার ক্রাফ্টসহ দ্রুতগামীর যানবাহন চালু করতে হবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আকাশ চলাচল সুসংহত, উন্নত ও আধুনিক করতে হবে।
যানবাহনের নিবন্ধনসহ, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ডিজিটাল হবে। সকল গণবাহনের সময়সূচী ও চলাচলের তথ্য, বুকিং, অবস্থান ইন্টারনেটে-মোবাইল নেটওয়ার্কে সার্বক্ষণিকভাবে পাবার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩.১৫ রাষ্ট্রকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙ্গালীর সংস্কৃতিসহ দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিস্বত্ত্বার ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মেধাসম্পদ রক্ষার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ডিজিটাল দুনিয়াতে রাষ্ট্রভাষাসহ বাংলাদেশের সকল ভাষার প্রচার, প্রকাশ ও বিকাশসহ বাঙালী ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সার্বিক সমৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রকে ডিজিটাল তথ্যভা-ার গড়ে তোলা ছাড়াও ডিজিটাল প্রকাশনাকে সর্বপ্রকারে উৎসাহিত ও সহায়তা করতে হবে।

৩.১৬ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রধর্ম নামক কিছু থাকবেনা। এক্ষেত্রে মূলমন্ত্র হবে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। তবে রাষ্ট্রকে জনগণের ধর্ম পালনের সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ এসবের ব্যয় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। চাঁদা বা দানের টাকায় বা খাসজমিতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রথা বন্ধ করে রাষ্ট্রের বাজেটে এজন্য সুষ্পষ্ট বরাদ্দ থাকতে হবে। মসজিদ, মন্দির গীর্জার যাবতীয় ব্যয়সহ এইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন ও ভাতা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্র বহন করবে।
ধর্মচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও উপাত্ত ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করে তা অনলাইনে বিণামূল্যে সহজলভ্য করতে হবে। মসজিদ-মন্দির-মক্তব ও মাদ্রাসার মাঝে এমনভাবে তথ্যকেন্দ্র বা ইনফরমেশন কিয়স্ক স্থাপন করতে হবে যাতে ধর্ম সংক্রান্ত তথ্যগুলো টাচ স্ক্রিণ-এর সহায়তায় খুব সহজেই যে কেউ পেতে পারে।

কামনা করি, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা করবে এবং রাজনীতিবিদরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মসূচী বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন। বিশেষ করে এখন যখন শেখ হাসিনা সরকারের এজেন্ডা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা, তখন পুরো দেশটিরই লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ কি সেটি বুঝেন না বা বুঝতে চেষ্টা করেন না, বরং কিছুটা ব্যঙ্গ করেন, তারা এই লেখাগুলো থেকে কিছুটা দিকনির্দেশনা পেয়ে থাকবেন।

৪. করণীয়: ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান সরকারকে এই মুহূর্তেই পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের এই মুহূর্তের করণীয় হচ্ছে:
* ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালাসহ সকল নীতিমালা হালনাগাদ, সংশোধন বা প্রণয়ন করা।
* ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তুত করা এবং সেই রোডম্যাপ অনুসারে সকল কার্যক্রম গ্রহণ করা।

সেই লক্ষ্যটি হলো ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর একটি উন্নত জীবনের ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে ওঠলে সেটি আমাদের রাষ্ট্রকাঠামোতে কেবল যে যুগ পরিবর্তন আনবে তা-ই নয়, আমাদেরকে নিয়ে যাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে। আসুন আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।

মোস্তাফা জব্বার