ভূমিকা: আমরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ডিজিটাল প্রোডাক্টের নাম শুনে থাকি, যেমন, ডিজিটাল ক্যামেরা, ডিজিটাল ঘড়ি, ডিজিটাল ফোন, ইত্যাদি, ইত্যাদি। এরই সাথে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে আরেকটি নাম, “ডিজিটাল বাংলাদেশ”, সন্দেহ নেই যে এই নতুন নামটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে! এই ডিজিটাল বাংলাদেশ ও এটি বাস্তবায়নের েেত্র প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহের ব্যপারে একটি ছোট ও সাধারণ ধারণা দেয়াটাই এই লেখাটির ুদ্র প্রয়াস।
প্রাথমিক ধারণা: প্রথমে ডিজিটাল সিস্টেম সম্পর্কে একটি ধারণা নেয়া যাক। ডিজিটাল সিস্টেম হচ্ছে এমন একটা সিস্টেম যেখানে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত ধেকে শুরু করে যে কোন ধরনের একটা ডকুমেন্ট কিংবা ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিসমূকে গাণিতিকভাবে ‘১’ ও ‘০’ দিয়ে প্রকাশ করা হয় ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাপনায় সংরণ করা হয়, যাদের বলা হয় “ডিজিটাল ডাটা’। একটা উদহারণ দেয়া যাক, ‘ক’ কে যদি ‘০১০০’ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তেমনি ‘ল’ ও ‘ম’ কে যদি যথাক্রমে ‘০১০১’ ও ‘০১১০’ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাহলে, ‘কলম’ কে প্রকাশ করা হবে ’০১০০০১০১০১১০’ দিয়ে। এই ডিজিটাল ডাটার প্রধান সুবিধা হল যে ডিজিটাল ডাটাকে যে কোন প্রয়োজন অনুসারে অনেক সহজে প্রক্রিয়াকরণ করা যায়। তা ছাড়াও, ডিজিটাল ডাটার এক স্থান হতে অন্য স্থানে আদান-প্রদান পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনাও অনেক বেশী নির্ভরযোগ্য ও ত্র“টিমুক্ত। এই কারণেই আজকাল মোবাইল ফোনসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডিজিটাল ডাটা ব্যবহার করা হয়।

আগেই বলেছি যে ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি নতুন শব্দ, একটি নতুন ধারণা, একটি নতুন স্বপ্ন। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আমি যেটা বুঝেছি তা হল, বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী অফিস, শিা, গবেষণা ও সেবামূলক এবং বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ে দাপ্তরিক, শিা-গবেষণামূলক, সেবামূলক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজন অনুসারে যাবতীয় তথ্য, উপাত্ত, ডকুমেন্ট, ইত্যাদি সংগ্রহ, সংরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও আদান-প্রদান ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হবে। কম্পিউটার ও কম্পিউটারের সহযোগী যন্ত্রপাতিসমূহ, যেমন, স্ক্যানার, প্রিন্টার, ক্যামেরা, ইত্যাদি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাদি ও সর্বোপরি ইন্টারনেট ও সাপোর্টিং সফট্ওয়্যার হচ্ছে এই ডিজিটাল বাংাদেশ গড়ে তোলার জন্য মূল কারিগরি ভিত্তি।
প্রায়োগিক ত্রে: ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাকে প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, ইলেকট্রনিক-প্রশাসন বা সরকারী েেত্র এটাকে ইলেকট্রনিক-গভর্ণমেন্ট বলা যেতে পারে, ইলেকট্রনিক-সেবা এবং ইলেকট্রনিক-ব্যবসা-বাণিজ্য। এই তিনটিরই ত্রে অনেক ব্যাপক হওয়ায় এসব নিয়ে এই স্বল্পপরিসরে সম্পূর্ণ আলোচনা করা অসম্ভব, সেজন্য আমি দূু-একটি বিষয়ের উপর সামান্য আলোকপাত করার চেষ্টা করব।
আনন্দের কথা এই যে এই ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ, বাংলাদেশের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের একটি ডাটাবেস প্রস্তুতকরণ, গত জাতীয় নির্বচনের পূর্বে সম্পন্ন করা হয়েছে - যেটা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।
ইলেকট্রনিক-গভর্ণমেন্ট হচ্ছে এমন এক ব্যবস্থা যেখানে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের, সরকারের সাথে সাধারণ নাগরিকের, সরকারের সাথে সরকারী-বেসরকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ও সরকারের সাথে তার নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগাযোগ, তথ্য ও নির্দেশনা সংগ্রহ ও আদান-প্রদানসহ যাবতীয় কর্মকান্ড ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে করা হবে। যেমন, একজন নাগরিক তার পাসপোর্ট, নাগরিক সনদপত্র, সরকারী চাকুরী, পেনশন ইত্যাদির জন্য ঘরে বসেই ইন্টারনেট বা কোন কোন েেত্র এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে। আবার যেমন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশের সকল থানা সমূহকে কম্পিউটারাইজ্ড করণপূর্বক সেটাকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে, থানার সকল কাজকর্ম, অপরাধের ধরন ও অপরাধীদের ছবি ও তথ্যসহ সকল বিষয় কম্পিউটারে সংরণ করে এমন একটা ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যেখানে বালাদেশের যেকোন স্থান থেকেই ঐ সংরতি তথ্য সমূহ দেখা ও ব্যবহার করা যাবে, এমনকি স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বা আইজিপি নিজেই নিজ কার্যালয়ে বসেই এ সকল কাজকর্ম পর্যবেণ করতে পারবেন, সবার সাথে মিটিং করতে পারবেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবেন। এর ফলে কাজকর্মের গতিও যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি দতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। একইভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন আঞ্চলিক ও স্থানীয় দপ্তর থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কৃষি উৎপাদন, কৃষি উপকরণ, কৃষি-বাজার ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য, উপাত্ত, সমস্যা ও পরামর্শ প্রণয়ন সমূহ ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে। তবে ত্রেবিশেষে কিছু বিষয় ল্য রাখতে হবে, যেমন, উত্তরবঙ্গ মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা, তাই ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনা চালু করলে এই এলাকা উপকৃত হবে বেশী তাতে সন্দেহ নেই। তবে যেহেতু এই এলাকার মাথাপিছু আয় দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় কম এবং এখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেশ কম, তাই ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনাটা সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ভিত্তিক করার চাইতে, মোবাইল ফোন বা এসএমএস ভিত্তিক করতে পারলে এই এলাকার মানুয়ের হাতে হাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল বেশী পৌছাবে ।
যা হোক, একইভাবে শিা মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল দপ্তরসমূহের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা ও কর্মকান্ড পর্যবেণ, নির্দেশনা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরকরণ ছাড়াও বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিা ও গবেষণামূলক তথ্য, উপাত্ত, ইলেকট্রনিক-বই সমূহ আদানপ্রদানও ডিজিটাল ব্যবস্থার অধীন হতে পারে। এইভাবে বাংলাদেশের প্রতিটা মন্ত্রণালয়ই ডিজিটাল বাংলাদেশের একেকটি অংশ হতে পারে।
টেলি-মেডিসিন এবং অনলাইনে আইনী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ইলেকট্রনিক-সেবা প্রদানের আরো কয়েকটি উদহারণ। এই টেলি-মেডিসিনে দূরবর্তী চিকিৎসকের পরামর্শ ও সেবা নেওয়া সম্ভব। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পৌছে দেয়া সম্ভব হবে। এছাড়াও সরকারী ও বেসরকারকারী সেবাখাতসমূহের বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধাও যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি সময় ও অর্থেরও সাশ্রয় হবে।
ইলেকট্রনিক-ব্যবসা বা ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা হচ্ছে এই সময়ের সবচেয়ে অগ্রসরমাণ ব্যবসা পদ্ধতি। ইন্টারনেট ভিত্তিক এই বাজারের পরিধি আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ঘরে বসে ২৪ ঘন্টাই যেকোন পণ্যের অর্ডার দেয়া যেতে পারে ও অনেক ব্যবসায়িক কাজকর্ম করা যেতে পারে। এইসব পণ্যের তালিকায় বাস-ট্রেনের টিকেট থেকে শুরু করে গান, সিনেমা, বই, জামা-কাপড়, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, গাড়ী, বাড়ি, জমি সবই হতে পারে। ব্যবসায়িক কাজকর্মের মধ্যে ঘরে বসে ২৪ ঘন্টাই ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন থেকে শুরু করে শেয়ার কেনাবেচা, নিলামে অংশগ্রহণ সবই হতে পারে। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা করা যায়।
মৌলিক শর্তাবলী: প্রথমেই দেখা যাক যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটি বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত ও কার্যকরী পদপেগুলো কি ধরণের হতে পারে।
যেহেতু ডিজিটাল পদ্ধতির প্রধান কারিগরি উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার ও কম্পিউটারের সহযোগী যন্ত্রপাতিসমূহ, টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান সংক্রান্ত অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থাসমূহ, সুতরাং শুরুতেই বলা যায় যে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবস্থাপনা ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শর্ত। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ, এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ২০ শতাংশ মানুষও এই সুবিধার আওতায় নেই। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ, লো-ভোল্টেজ ছাড়াও লোডশেডিং মাঝে মধ্যে দিনে ১০ ঘন্টারও বেশী হয়। সুতরাং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবস্থাপনার এই মৌলিক শর্তটি পূরণ না করে সার্থক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্নটি শেষপর্যন্ত একটি দিবাস্বপ্ন হয়ে যেতে পারে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান সংক্রান্ত উন্নত ও দ্রুতগতিসম্পন্ন যোগাযোগ কাঠামো নিশ্চিত করা, এই যোগাযোগ কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানত “ফাইবার অপটিক” ব্যবহার করা হয়, এবং এটা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা ছাড়াও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যবস্যা গড়ে তোলার জন্য অন্যতম প্রধান কারিগরি পূর্বশর্ত। বর্তমানে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হলেও, আভ্যন্তরিক-দ্রুতগতিসম্পন্ন তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার অভাবে এই সংযোগের পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে, এখন দরকার, দেশের আভ্যন্তরিক-দ্রুতগতিসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতে বড় বড় কর্পোরেট থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়েও দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা যায়। এটা ব্রডব্যান্ড হতে পারে কিংবা অপটিক ফাইবার হতে পারে কিংবা ওয়াই-ম্যাক্সও হতে পারে। বেসরকারকারী টেলি-অপারেটরদের নিজস্ব অপটিক ফাইবারের নেটওয়ার্ক যদিও দেশের অনেকটা জুড়ে রয়েছে, কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন যে সেটা খুবই ব্যয়বহুল, বলতে গেলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে, ফলে এটা ব্যাপকভিত্তিক জনগণের জন্যে বা বানিজ্যিক পর্যায়ে ব্যবহারের উপোযোগী নয়। অন্যদিকে সরকারী প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের এইধরনের যোগাযোগ কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যদিও রয়েছে, তবে তার বাস্তবায়নের হার খুবই ধীরগতিসম্পন্ন । সুতরাং দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে তা হল সস্তায় সাধারণ মানুষের হাতে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সুবিধাদি পৌছে দেয়া।
তৃতীয়ত যে বিষয়টা ল রাখা যেতে পারে সেটা হল, যেহেতু বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ও ব্যবহার করার সামর্থ্য এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পৌছে নাই, তারচেয়ে বরং মোবাইল ফোন সাধারণ মানুয়ের অনেক কাছাকছি পৌছেছে, সেই কারণে ডিজিটাল বাংলদেশের বাস্তবায়নের সময় এটাকে ইন্টারনেট ভিত্তিক করার পাশাপাশি, যতটুকু সম্ভব, এসএমএস ভিত্তিক করার চেষ্টা করতে হবে যাতে এটা সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যেতে পারে।
আইনী কাঠামো: ডিজিটাল ডকুমেন্টগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা আইনী দৃষ্টিকোণ থেকে নিশ্চিত করতে হবে। উদহারণ দেয়া যাক, দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য হার্ডকপি ছাড়াই কোন্ কোন্ ধরণের ইলেক্ট্রনিক ডকুমেন্ট প্রহণ করা হবে বা হবে না, কোন্ কোন্ অপরাধকে সাইবার অপরাধ বলা হবে ও তার জন্যে শাস্তির বিধান কেমন হবে, ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদির গ্রহণযোগ্যতা কোন্্ কোন্ েেত্র থাকবে বা থাকবে না, এইসব বআপারে সুনির্দিষ্ট আইনী কাঠামো থাকা প্রয়োজন। এই আইনী কাঠামো কিভাবে নির্ধারিত হচ্ছে তার উপর নির্ভর করবে ডিজিটাল বাংলাদেশে ব্র্যপ্তি কতটুকু হবে।
পূনর্বাসনকরণ: ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার অর্থই হবে যে অফিস, আদালত, ব্যাংক ইত্যাদিতে অনেক অল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অনেক দভাবে কাজকর্ম পরিচালনা করা সম্ভব হবে, ফলে এইসব স্থানে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের হার কমে যাবে, তেমনি অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন পড়বে। এইকারণে এই ব্যাপারে আগে থেকেই পূনর্বাসন পরিকল্পনা হাতে নেয়া উচিৎ যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সময় সাধারণ জনগণের মনে এই নিয়ে কোন ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরীর অবকাশ না থাকে।
সাধারণ কারিগরি কাঠামো: বাংলাদেশের সকল সরকারী ও বেসরকারকারী প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক-প্রশাসন চালুর েেত্র একটি কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডার্ড থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই অনেক সরকারী ও বেসরকারকারী প্রতিষ্ঠানে আংশিকভাব নিজস্ব ইলেকট্রনিক-প্রশাসন চালু করেছে বা চালুর প্রক্রিয়াধীন আছে। এইসব প্রতিষ্ঠানে চালুকৃত এই ইলেকট্রনিক-প্রশাসন যদি একটি কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে যখন এইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আ:ন্তযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, সেইসময় গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এইজন্যে ডিডিটাল বাংলাদেশ তৈরীর শুরুতেই এই কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডার্ড নির্দিষ্ট করে দেয়া উচিং।
বানিজ্যিক সম্ভাবনা: আসল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজটি ভীষণ ব্যাপক । এর জন্য প্রয়োজন পড়বে নতুন নতুন অনেক সফটওয়্যার ও অনেক হার্ডওয়্যার স্থাপনকরণ, আর স্থানীয়ভাবে এগুলো ডেভেলপ করতে চাইলে, সেটা হবে একটা বিশাল কর্মত্রে ও বিশাল বাজার, এরজন্য যেমন দরকার ব্যাপক বিনিয়োগের, তেমনি দরকার পড়বে দ পেশাজীবী ও জনশক্তির। এদুটোই বর্তমানে চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পড়বে নতুন নতুন আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপন, এছাড়াও ব্যবহারকারীদের প্রশিণ দেয়া ও রনাবেণ কাজের প্রয়োজনে দ জনশক্তি তৈরীর জন্য দরকার পড়বে অনেক প্রশিণ কেন্দ্রের। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় এই চাহিদা মেটানোর জন্য আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপন করা হলে, সেখানে কর্মরত পেশাজীবীদের পেশাগত দতা যখন দৃদ্ধি পাবে, তখন একসময় তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আস্থা অর্জন ও তাদের আকৃষ্ট করতে সম হবে বা আন্তর্জাতিক আইটি বাজারে সফটওয়্যার রপ্তানীর সুযোগ করে দিতে পারে।
বাংলা-ভাষাভিত্তিক সফটওয়্যার: সাধালণ মানুষের হাতে বাংলাদেশের সুফল কার্য়কর ও ফলপ্রসুভাবে পৌছে দিতে চাইলে কম্পিউটারের সফট্ওয়্যার ও মোবাইল ফোনের মেন্যূগুলো বাংলা ভায়ায় রুপান্তর করতে হবে। উন্নতবিশ্বে, যেমন, জাপান, কোরিয়া, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশে তাদের নিজস্ব ভাষায় কম্পিউটারের সফট্ওয়্যার ও মোবাইল ফোনের মেন্যূগুলো রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ বা অল্পশিতি মানুষের পে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার আয়ত্ব করা বেশ সহজসাধ্য হয়েছে, এইকারণে সেইসব দেশে দৈনন্দিন নাগরিক জীবনে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়াও এর ব্যাপক বানিজ্যিক ব্যবহারও রয়েছে। তাই আমাদেরকেও বাংলা ভাষাভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরীর ব্যাপারে অবশ্যই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
আইটি-ভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা: ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সময় সম্ভাবনাময় যে বিশাল বাজারের কথা বলা হয়েছে, সেই বাজার যেন দেশীয় আইটি ভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ত্বে থাকতে পারে সেজন্যে তাদের যথাযত: প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। এইজন্য তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্য-প্রযুক্তিতে দ পেশাজীবীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ছাড়াও সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তেরীর জন্য স্বীকৃত ও মানসম্মত নিয়মপদ্ধতি অনুসরণ করার অনুশীলন করা উচিং, যেটা এখন পর্যন্ত অধিকাংশ সফটওয়্যার ডেভেলপকারী কোম্পানীগুলোতে অনুপস্থিত। এই সীমাবদ্ধতা এখন থেকেই কাটিয়ে উঠতে না পারলে, এই বিশাল বাজার বিদেশী কোম্পানীগুগোর নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, এতে একদিকে যেমন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হবে, অন্যদিকে তথ্য-প্রযুক্তিতে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও দপেশাজীবী তৈরীর সুযোগ হারানো হবে। এছাড়াও আরেকটা ব্যাপার হল, স্বীকৃত ও মানসম্মত নিয়মপদ্ধতি অনুসরণ করে, একবার ব্যবহারিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরী করতে পারলে সেটা পেশাগত দতাকে প্রমাণ করবে যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরকেও আকৃষ্ট করতে পারে, ফলে এই েেত্র আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরী হবে। আসলে আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলো সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরীর কাজ দেবার আগে যাচাই করে দেখতে চায় যে এইসব তৈরীর ব্যপারে কোম্পনীগুলোর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা কতটুকু আছে। আর স্থানীয় বাজার তৈরী ও সেখানে কাজ করা ব্যতিরেক এই ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও কম থাকে।
বিশ্ববিদ্যায়গুলোর ভূমিকা: উন্নত প্রতিটি দেশে যেকোন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের সময় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় থাকে বা যৌথ উদ্যোগও থাকে, যেটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদেশে অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে বিদেশী প্রতিষ্টানের উপর থেকে যেমন নির্ভশীলতা কমে যায়, তেমনি ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রজীবন থেকেই পেশাগত দতা অর্জনের সুযোগ পায়। এইসব কারণে বিদেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যৌথ গবেষণাপ্রকল্প বাস্তবায়ন কিংবা, সরকারের নিজস্ব কোন প্রকল্প সরকারী সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা ছাড়াও, সরকালী দপ্তর ও সরকারী-বেসকোরী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম কাশ নিয়ে থাকেন। এর ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাবহারিক ও গবেষণামুলক কর্মকান্ডের প্রসার ঘটে, অন্যদিকে তেমনি ছাত্র-ছাত্রীরা ছাত্রজীবন থেকেই ব্যাবহারিক ও পেশাগত জীবনের প্রস্তুতি নিতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের েেত্র এদেশের বিশ্ববিদ্যায়লগুলো প্রয়োজনীয় দ মানবসম্পদ ও পেশাজীবী তৈরী করা ছাড়াও, বাস্তবায়নের সময় যেসব ব্যবহারিক সমস্যা তৈরী হতে পারে, সেসব সমস্যার ব্যপারে গবেষণাপূর্বক সমাধান দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। এছাড়াও কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডাড তৈরী, বা বাংলা ভাষাভিত্তিক সফট্ওয়্যার তৈরীর মত মৌলিক েেত্র বিশ্ববিদ্যালয়গুরো অবদান রাখতে পারে।
প্রশিণ: শুধু দ পেশাজীবী তৈরীর ব্যাপারেই নজর দিলে হবে না, ডিজিটাল বাংালাদেশের সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এর ব্যবহারকারীরা। তবে বাস্তবতা এই যে, এদেশ এখনও তথ্য-প্রযুক্তিতে অনগ্রসর, দেশের অধিকাংশ মানুষই স্বল্পশিতি বা অশিতি, তথ্য-প্রযুক্তির উপকারিতা ও ব্যবহার সম্পর্কে তাদের সামান্যই জ্ঞান রয়েছে, এবং তাদের ব্যাপক অংশকে এই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা ও ব্যবহার করার েেত্রর সাথে সম্পৃক্ত করার উপরই নির্ভর করবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মূল সার্থকতা। এই ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারনা ও ব্যবহারিক দিকের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য যথাযত প্রশিণের ব্যবস্থা এবং কমপে নিম্নমাধ্যমিক স্তর থেকে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক পাঠ্যক্রম বাধ্যতামূলক করা দরকার, এই লে এইসব শিাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিকের নিয়োগের ব্যবস্থাকরণ ছাড়াও বর্তমান শিকদের প্রশিণের ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি এই ব্যাপারে এনজিও-গুলোও ভূমিকা রাখেতে পারে।
জনরাধারণের প্রস্তুতি: ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধাগুলো যারা ফলপ্রসুভাবে পেতে চাইবেন, অথবা অন্য কথায়, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধাগুলো বাংলাদেশের দ্বারে দ্বারে পৌছে দিতে চাইলে, সকল নাগরিকের ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা দরকার। বাংলাদেশে বর্তমানে সারতার ৪৫ শতাংশ, ইংরেজী ভাষার উপর ন্যূনতম জ্ঞান আছে এমন নাগরিকের সংখ্যা খুবই কম, ফলে যেহেতু কম্পিউটারের অধিকাংশ সফট্ওয়্যার ও মোবাইল ফোনের মেন্যূগুলো ইংরেজীতে লেখা, সেহেতু এই ধরনের অল্পশিতি নাগরিকদের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল কার্য়কর ও ফলপ্রসুভাবে পৌছে দেয়া প্রায় অসম্ভব। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল কার্য়কর ও ফলপ্রসুভাবে পেতে নাগরিকদের ন্যূনতম শিতি ও প্রশিতি হওয়ার চেষ্টা করতে হবে এক্ষং এব্যাপারে সরকারকেও উদ্যোগী হতে হবে।
আঞ্চলিক উন্নয়ন: বাংলদেশের উন্নয়নের েেত্র যেসব আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে, বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসংস্থান তৈরীর েেত্র, যেখানে অনেকেেত্র কাচামাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলার কারণে ভারী বা মাঝারী শিল্পস্থাপন বাস্তবসম্মতও হয়না, সেইসব অঞ্চলে এই আইটি ভিত্তিক শিল্পষ্থাপন করা যেতে পারে। যেমন, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরের মত অঞ্চল, যেগুলো মূলত বেশ শান্ত শহর। তবে, প্রাকৃতিক গ্যাসের অভাব ও সামুদ্রিক বন্দর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় কারণে এবং স্থানীয় চাহিদা বা বাজারের পরিধি বেশ ছোট হওয়ায়, ভারী ও মাঝারী শিল্পস্থাপনা এখানে খুব একটা লাভজনক হয়না। কিন্তু আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপনার জন্য গ্যাসও লাগেনা, স্থানীয় বাজারের পরিধি কতটা, তাতেও তেমন যায় আসেনা, ট্রাকে বা ট্রেনে সামুদ্রিক বন্দরে মালামাল পৌছাতে কত খরচ পড়বে বা সময় লাগবে, সেটাও ভাবতে হয়না। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রাথমিক শর্তপূরণ করলেই রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরে আইটি নির্ভর শিল্প গড়ে তোলা লাভজনক হবে, কেননা, এসব শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় রাজধানী ঢাকার তুলনায় অনেক কম, ফলে ঢাকার চেয়ে অর্ধেক আয় করেও তা দিয়ে সবাই বেশ স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারে, এইসব কারণে এখানে সাশ্রয়ী পারিশ্রমিকে ডেভেলপার পাওয়া যাবে, যারফলে উৎপাদন ব্যয়ও কমে যাবে। আবার, বাংলদেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এইসব অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেক বেশী। ভৌগলিকভাবে এইসব অঞ্চল কিছুটা উচুভূমির হওয়ায় কারণে এইসব অঞ্চলে বন্যার প্রাদূর্ভাবও তুলনামূলক ভাবে কম। ফলে এখানে শিল্প উৎপাদনও ব্যাহত হবে কম। এইভাবে সরকারী উদ্যোগে এইসব অঞ্চলে আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপনের মাধ্যমে দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।
বিসিএস আইটি সার্ভিস ক্যাডার: সরকারী কর্মকান্ডে ও দপ্তরসমূহে তথ্য-প্রযুক্তিতে সত্যিকারের দ মানবসস্পদ ও পেশাজীবী নিশ্চিত করতে চাইলে স্বতন্ত্র বিসিএস সার্ভিস ক্যাডার বা তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির সার্ভিস চালূ করা প্রয়োজন। এটা চালু করা হলে দেশের তরুণ সমাজ যেমন এই পেশায় ক্যারিয়ার তৈরী করতে আগ্রহী হবে, ফলে দেশে এই পেশায় দ মানবসস্পদ ও পেশাজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, আবার অন্যদিকে তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নও সহজ হবে, ডেপুটেশনে অন্য বিষয়ের বিশেষজ্ঞ দিয়ে তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দরকার পড়বেনা বা সুযোগও থাকবেনা।
সতর্কীকরণ: ডিজিটাল বাংলাদেশ মানেই একদিকে যেমন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, নাগরিক সেবা উন্নতকরণ ও বৃদ্ধিকরণ, অন্যদিকে তেমন, দূনীতির রাস্তাগুলো বন্ধকরণ। এই কারনেই, আমাদের অভিজ্ঞতা এটাই বলে যে দেশের রাজনীতিবিদ ও সরকারী আমলাদের দুর্নীতিগ্রস্ত অংশটি এই্ ডিজিটার বাংলাদেশ তেরী এবং সঠিক, কার্যকর ও ফলপ্রসুভাবে বাস্তবায়নের েেত্র প্রধান বাধা হয়ে দাড়াতে পারে। এই দুর্নীতিগ্রস্ত অংশটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নামে বিপুল পরিমাণ সরকারী অর্থের অপচয় ও লোপাট করার চেষ্টা করতে পারে। এছাড়াও, সরকার যদি ডিজিটাল বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য অল্পসুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে পারে, সেেেত্র একদিকে যেমন ল রাখা প্রয়োজন যাতে সঠিক উদ্যোক্তারা বঞ্চিত বা ভোগান্তির শিকার না হয়, অন্যদিকে ভূয়া প্রকল্প নিয়ে কেও যেন অর্থের অপচয় ও লোপাট করতে না পারে, সেব্যপারেও সতর্ক দৃুষ্টি রাখতে হবে। এইসব বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
শেষকথা: ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হোক, উন্নয়ণের ছোয়া লাগুক তথ্য-প্রযুক্তিতে অনগ্রসর এই দেশটিতে। দূর্নীতিতে নয়, তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বাবহারেও আমাদের দেশ যেন শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে থাকতে পারে, এরকম একটি সুন্দর সকালের জন্য আমাদের সকলের অপো।
----------------
০৮/০৩/২০০৯, রাজশাহী।
ড: শামীম আহমদ
সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক
কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
technorati
del.icio.us
digg
yahoo
google
reddit
blinklists
blogmarks
facebook
twitter
ইউটিউব, মিডিয়াফায়ার, ইস্নিপ্স এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ
উত্তরমুছুনগত কয়েকদিন ধরে ইউটিউব, ইস্নিপ্স, মিডিয়াফায়ার সাইটগুলো বাংলাদেশে access বন্ধ রয়েছে সরকারী আদেশের কারণে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত চারিদিকে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যারা সর্বক্ষণ ইন্টারনেট এর মাধ্যমে কম্পিউটারে নানারকম কাজ করে থাকেন তাদের বেশীরভাগের কাছেই এই সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। এসব গুরুত্বপূর্ণ সাইট বন্ধ করার প্রভাব কি হতে পারে, তা জানার আগে আসুন দেখি এসব সাইট আমাদের জন্য কেন দরকারীঃ
ইউটিউবঃ ইউটিউব নেটাসক্তদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সাইট। এই সাইটের মাধ্যমে যে-কেউ তার পছন্দের ভিডিওটি খুঁজে পেতে পারেন এবং সফটওয়্যার দিয়ে সেসব ভিডিও ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে পারেন।
মিডিয়াফায়ার/ইস্নিপ্সঃ এই দুটি সাইটের কাজ প্রায় একই। যে-কেউ এই সাইট দুটির যেকোন একটিতে দরকারী ফাইল আপলোড করতে পারেন, এবং আপলোডকৃত ফাইলের লিংক অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। কম্পিউটারে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক দরকারী সফটওয়্যার বা গান, গেমস –এসবের দরকার হয়, যেগুলো সবসময় আমাদের হাতের কাছে থাকেনা। তখন অন্যদের কাছ থেকে মিডিয়াফায়ার, ইস্নিপ্স লিংক এর মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো সংগ্রহ করি।
সাইটগুলোর কু-প্রভাবঃ এসব সাইটগুলো যে শুধু প্রয়োজনীয় ফাইল খুঁজে দেয় তা কিন্তু নয়, অনেক সময় দেখা যায় এসমস্ত সাইটের মাধ্যমে অনেকে নিষিদ্ধ অনেক ভিডিও,অডিও বা অন্যান্য ফাইল সংগ্রহ করে থাকেন, যা মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটায়।
বর্তমান সরকার যে কারণে সাইটগুলোর access বাংলাদেশে বন্ধ করেছে, সে কারণটি হচ্ছে, বিডিআর হত্যাকান্ডের পর প্রধানমন্ত্রী সেনাকুঞ্জে সেনাকর্মকর্তাদের সাথে মিটিং করেছিলেন, সেই মিটিং-এ সেনাকর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে উচ্চস্বরে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন, সেই মিটিং এর অডিও ক্লিপিংস পাওয়া গেছে এসব সাইটে। সে কারণে সরকার সাইটগুলোর access বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে। এটিকে স্বাধীন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক আঘাত হিসেবেই মানছেন সচেতন মহল। কারণ, যেকোন কিছুরই খারাপ দিক, ভাল দিক – দুটি দিকই আছে; এখানে ব্যক্তিবিশেষের মনোভাবের ব্যাপার কে কিভাবে এগুলোকে ব্যবহার করছেন। সাইটগুলো খারাপ উদ্দ্যেশ্যে যেমন ব্যবহার করা যায়, তেমনি খারাপ উদ্দ্যেশ্যেও ব্যবহার করা যায়, তাই বলে সাইট বন্ধ করে দেয়াটা কোন সুস্থবুদ্ধির চিন্তার পরিচায়ক হতে পারেনা। আরেকটি বিষয় এখানে লক্ষ্যনীয় যে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ডিজিটাল বাংলাদেশ এর কথা বলে আসছিলেন, ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ এ পরিণত করার প্রত্যয় জানিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু এভাবে যদি তথ্যপ্রবাহের গতিরোধ করে দেয়া হয়, তাহলে কি সেটি তাদের সেই প্রত্যয়কে উপহাস করছেনা? সাইটগুলো বন্ধ করে দেয়ার পর থেকেই অনেকেই অডিও ক্লিপিংসগুলো বিকল্প উপায়ে সংগ্রহ করেছেন, কারণ নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ অনিবার্য একটি সত্য। সরকার যদি সাইটগুলো নিষিদ্ধ না করতো, তাহলে ক্লিপিংসগুলোর খবর অনেকেই জানতে পারতো না। সাইটগুলো বন্ধ করে দেয়ার ফলে এই ক্লিপিংসগুলোর ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে।
সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের কাছে সচেতন মহলের আজ তাই একটিই প্রশ্ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এর স্বপ্ন কি আপনারা সত্যিই দেখেন, নাকি সেটাও ছিল অন্যান্য অনেক কিছুর মত শুধমাত্র একটি নির্বাচনী মূলা? সরকারের এটা মাথায় রাখা উচিৎ যে, মত প্রকাশের মাধ্যমের গতিরোধ করলে তাতে ক্ষতি ছাড়া লাভ হয়না, মাথা ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলে দেয়াটা কোন যুক্তিযুক্ত সমাধান নয়। স্বাধীন কথাবার্তা গণতন্ত্রের উপকার করে, এর কন্ঠরোধ করা কারো জন্যই কাম্য নয়।
তারেক