সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০০৯

দর্শক-ক্রেতাদের দৃষ্টিতে ডিজিটাল বাংলাদশে



মাত্র দু’দিন আগে শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) আয়োজিত ডিজিটাল এক্সপো। এবারের মেলায় গতবারের মতো ছিল না কোন রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা। তাই স্বভাবতই মেলা শুরু হয়েছিল একেবারেই নিজস্ব আমেজ নিয়ে। শুরু থেকেই মেলায় দর্শক ও ক্রেতা সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ ঘুরে ঘুরে মেলা দেখে বাড়ি ফিরেছেন, কেউ আবার পছন্দের পণ্যটি হাতের নাগালে পেয়ে সেটি কিনেই ফিরেছেন। মেলায় আসা এরকম অনেকেরই সঙ্গে কথা হয় এবারের ডিজিটাল এক্সপোর বিভিন্ন দিক নিয়ে। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্র সাব্বির আহমেদ এবারেই প্রথম এসেছেন মেলায়। এর আগে কোন মেলায় না আসার কারণে সবকিছুই তার কাছে নতুন নতুন লেগেছে। মেলার প্রায় প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেছেন। এবারের মেলা সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেলায় আইটি সামগ্রীর দাম অনেক কম হওয়ায় সবার জন্য ভালো হয়েছে। আর যে আশা নিয়ে তিনি মেলায় এসেছিলেন তা পূরণ হয়েছে বলে তিনি জানান। পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র মাহবুব আলম ঢাকায় বেড়াতে এসেছেন। আর সেই সময়ে ডিজিটাল এক্সপো হয়ে যাওয়াতে তিনি সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেননি। শুধুমাত্র কী-বোর্ড আর মাউস কিনলেও ঘুরে দেখেছেন ল্যাপটপের সব স্টল। অবিশ্বাস্য মূল্যহ্রাস দেখে তিনি তো রীতিমতো অবাক। মেলার সার্বিক দিক বিবেচনা করে তিনি মেলাকে একটি সফল মেলা হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

অনেকেই মেলায় এসেছিলেন
বন্ধু-বান্ধবদের বিশাল গ্র“প নিয়ে। মেলায় গিয়ে এরকম একটি গ্র“প পাওয়া যায়, যারা সবাই বন্ধু হলেও একেকজন পড়ছেন একেক প্রতিষ্ঠানে। তাদেরই একজন আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটির ছাত্র হাসান মোহাম্মদ ফেরদৌস। তিনিও মেলাকে সার্বিক দিক দিয়ে সফল মেলা হিসেবে আখ্যা দিলেন। কিন্তু তারই সঙ্গে আসা ঢাকা টেক্সটাইলের ছাত্র মাহমুদুজ্জামান জানালেন, একেবারেই ভিন্ন কথা। তিনি জানান, এবারের মেলায় এসে তিনি রীতিমতো হতাশ হয়েছেন। মেলার নাম ডিজিটাল এক্সপো হলেও নাকি তিনি এতে তার ন্যূনতম প্রতিচ্ছবিও দেখতে পাননি। তিনি একটি ডিজিটাল ডায়েরি কিনবেন বলে এসেছিলেন, কিন্তু সেটা মেলায় তিনি সাধ্যের মধ্যে কোথাও খুঁজে পাননি। মাহমুদুজ্জামানের সঙ্গে সুর মেলালেন তার অন্য দুই বন্ধু নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাজহারুল ইসলাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুল ইসলাম। আবার চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর দুই ছাত্র বেলাল হোসাইন ও অনিক সমদ্দার জানান, তারা মেলার সব কিছুতেই সন্তুষ্ট। ল্যাপটপ থেকে শুরু করে সব পণ্যসামগ্রীর দাম কম হওয়াতে তারা দু’জনেই দারুণ খুশি। সঙ্গে সঙ্গে তারা আশাবাদী, এরকম মেলাই ভবিষ্যতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রধান সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। - হিমু

কোন মন্তব্য নেই: