মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০০৯

বাংলাদেশের আইটি শিল্পে প্রিন্ট মিডিয়ার বর্তমান ভূমিকা

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৩:৫০ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

মোজাহেদুল ইসলাম বিভাগীয় সম্পাদক তথ্যপ্রযুক্তি, দৈনিক ইত্তেফাক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক , ই-বিজ, জেনারেল সেক্রেটারি, বাংলাদেশ আইসিটি জেনারেল ফোরাম (এটিএন বাংলার আইটি জোন অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হবে আগামী কাল বুধবার, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। ইন্টারভিউ-এর সারসংপে)
বাংলাদেশের আইটি শিল্পে প্রিন্ট মিডিয়ার বর্তমান ভূমিকা কি রকম? এেেত্র ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছে দেশের আইসিটি শিল্পে। এর সব চেয়ে বড় দাবীদার মাসিক আইটি ম্যাগাজিনগুলো। গত প্রায় দুই দশক ধরে এই আইটি প্রকাশনাগুলো তাদের লেখালেখিতে দেশে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রেখে চলেছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প যখন ভালভাবে গড়েও উঠেনি তখনও অনেকেই নিজ উদ্যোগে এগুলো প্রকাশ করে মানুষকে জানান দিয়েছে আইটির বার্তা। কোনরকম ব্যবসায়িক সফলতা ছাড়াও অনেক সাংবাদপত্র শুধু আইটি’র জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ রেখেছে। কারণ এর পাঠক প্রিয়তা অনেক বেশি। বিশেষ করে তরুণ সমাজ তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে জানতে আগ্রহী।
প্রিন্ট মিডিয়া বাংলাদেশের আইটি সমৃদ্ধির জন্য কিভাবে এবং কি কাজ করছে?ঠেকে ঠেকে শেখা, হাতের অন্দাজে পথ খোঁজা কোনো বুদ্ধিমান জাতির কাজ নয়। আমাদের জনগণ যা বোঝেন তা যদি নীতিনির্ধারকদের বুঝতে সাত-আট বছর লেগে যায়, তাহলে এই জাতির কাছে হতাশা ছাড়া আর কিছুই রইবে না। ১৯৯৩ সালে প্রথম যখন ইমেইল সার্ভিস শুরু হয় তখন দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে বলে এটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঠিক যেমনি ফটোকপিয়ার মেশিন আমদানির বিষয়েও একই অজুহাত দেখিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশের পথ দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে ফাগ নামে বিশ্ব সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ইনফরমেশন সুপার হাইওয়েতে প্রবেশ করতে পারতো কিন্তু বাংলাদেশ এতে অংশ না নিলেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ঠিকই যুক্ত হয়। সেই বছরই ২৪ হাজার কোটি টাকার ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে ফিরে যায়। বাংলাদেশ বঞ্চিত হয় হাজার কোটি টাকার আউটসোর্সিং কাজের সম্ভাবনা থেকে। এরপর অনেক চড়াইউৎরাই পার হয়ে ২০০৬ সালে প্রায় ১২ বছর পর বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হয়। ৮০ দশক থেকে বাংলাদেশে কম্পিউটার আমদানি হলেও তার মধ্যে আমদানি শুল্ক ছিল। যার কারণে দেশের কম্পিউটারে ব্যবহার প্রসারিত হয়নি। দেশের প্রিন্ট মিডিয়াগুলো এই বিষয়ে বার বার তাদের লেখনির মাধ্যমে কম্পিউটার শুল্ক মুক্ত করার জন্য দাবী জানায়। ’৯০-এর দশকেও যদি শুল্কমুক্ত কম্পিউটার বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কাছে আসতো তাহলে আজ ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের গ্লোবাল ইনফরমেশন টেকনোলজি রিপোর্টের নেটওয়ার্ক রেডিন্যাস ১২৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তে নামতো না। ১৯৯৮ সালে দেরি করে হলেও প্রিন্ট মিডিয়ার বদৌলতে শুল্কমুক্ত কম্পিউটার বাজারে আসে। দেশের ডাটা এন্ট্রি, মেডিকেল ট্রান্সস্ক্রিপশন, আউটসোর্সিং, ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, তারবিহীন ইন্টারনেট, মোবাইল ব্রডব্যান্ড বা থ্রিজি, সফটওয়্যার শিল্প, অনলাইন আউটসোর্সিং এসব বিষয়ে জনগণের আশা আকাঙ্খা নীতিনির্ধারকদের কাছে তথা সরকারের কাছে দেশের মিডিয়া গুলো তুলে ধরেছে প্রয়োজন মাফিক। স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উপল্েয ২০১১ সালে ৪০ হাজার টেলিসেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সফটওয়্যার পাইরেসি রোধে কপি রাইট আইন প্রণয়ন করা হয়। এই বছর তথ্য প্রযুক্তি খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে আইসিটি বাজেট দেয়া হয় মাত্র ২২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ১৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়। জুলাই ২০০৫ সালে বাজেটে ১০শতাংশ হারে কর প্রস্তাব করা হয়। যদিও এটি পরে বাতিল হয়।
আইটি সাংবাদিকতা পেশাটি এখন সাংবাদিকতার অবস্থানের মাপকাঠিতে কোন অবস্থায় আছে?
গত দুই দশকে আইটি সাংবাদিকতা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। তার পরেও এখনো এই সাংবাদিকতা অন্য সাংবাদিকদের চেয়ে একটু ভিন্ন। গতানুগতিক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে অনেক সাংবাদিক আইটিতে রিপোর্ট করলেও প্রযুক্তিগত বিষয়ে অনেক ভুলভ্রান্তি দেখা যায়। আবার আইটি সাংবাদিকরা প্রযুক্তিগত বিষয়ে ভাল ধারণা থাকলেও রিপোর্টিংয়ের বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরতে অনেক সময় পারে না। এই বিষয়গুলো আমরা নজরে রেখেই আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠন ‘বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম’-এর প থেকে বিভিন্ন সময়ে পিআইবিসহ বিভিন্ন ইনস্টিটিউটে প্রশিণের ব্যবস্থা করি পেশাগত দতা বাড়ানোর জন্য। তথ্যপ্রযুক্তি সংবাদিকতায় যেহেতু তরুণরাই বেশি কাজ করে তাই অনেক সময় অন্য তথ্যপ্রযুক্তি পেশার দিকে তারা ধাবিত হয়।
Source: http://ebiz.com.bd/atn.php

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০০৯

আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্টের জন্য ন্যাশনাল কংগ্রেস আয়োজনে বিজ্ঞান প্রতিমন্ত্রীর সহায়তার আশ্বাস

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৬:০৬ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

বিজিডব্লিউসিআইডি প্রতিনিধি দলের সাাৎ

বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্র“প ফর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্টের (বিজিডব্লিউসিআইডি) উপদেষ্টা সংসদ সদস্য আকরাম হোসেন চৌধুরী ২৩ মার্চ এক প্রতিনিধি দল নিয়ে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সাথে বৈঠক করেছেন। আকরাম হোসেন মন্ত্রীকে ডব্লিউসিআইডি এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্র“প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। বিজিডব্লিউসিআইডি’র পে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতার হোসেন চীনে আগামী ২-৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ডব্লিউসিআইডি ২০০৯ বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং ওয়ার্কিং গ্র“প গঠন এবং উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। এসময় তিনি চীনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশী অংশগ্রহনকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য মন্ত্রীকে আহবান জানান। প্রতিনিধি দলের প থেকে ডব্লিউসিআইডি ২০০৯-এ অংশ নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের নিবিড় সহযোগিতায় ন্যাশনাল কংগ্রেসের আয়োজন করতে মন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়।
ইয়াফেস ওসমান এ ব্যাপারে তার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বিজিডব্লিউসিআইডি’র কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবহিত বলে জানান। তিনি তার মন্ত্রণালয়ের প থেকে এ ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। ন্যাশনাল কংগ্রেস আয়োজনেও তার সর্বাত্মক সহায়তা থাকবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
বাংলাদেশ এনজিও’স নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিএনএনআরসি) সিইও এএইচএম বজলুর রহমান এবং মাসিক কমপিউটার জগৎ-এর সহকারি সম্পাদক এম. এ. হক অনু এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্র“পের অপর সদস্যরা হলেন আপলোড ইয়োর সেলফ লিমিটেডের সিইও এবং চেয়ারপার্সন ফারহানা এ রহমান ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক এ এ মুনির হাসান।

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০০৯

টেলিমেডিসিনের জন্য ৮শ পয়েন্টে ওয়ারলেস ইন্টারনেট দেয়া হবে

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৬:১২ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

টেলিমেডিসিনের জন্য ৮শ পয়েন্টে ওয়ারলেস ইন্টারনেট দেয়া হবে

ঢাকা, ২৯ মার্চ (মিডিয়া ফর মিডিয়া)- চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে টেলিমেডিসিনের কথা সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এজন্য আগামী মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্য খাতের প্রায় ৮শ’টি পয়েন্টে ওয়ারলেস ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হবে।

সংযোগের আওতায় আসবে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্প বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অফিস, সিভিল সার্জন অফিস, সকল মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ, সকল মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, সকল ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, সকল ম্যাটস ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির দু’দিনব্যাপী ২২তম বৈজ্ঞানিক কংগ্রেসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা জনানা।

তিনি বলেছেন, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা ও জীবনের গতিময়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতা চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তাই অর্থোপেডিক ও ট্রমা চিকিৎসা এবং অর্থোপেডিক সার্জারি চিকিৎসা সুবিধার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ের বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসক ও চিকিৎসা খাতের ব্যবস্থাপকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, ইতোমধ্যে সকল জেলা সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সাধারণ সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও চিকিৎসকদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক ও সচেষ্ট। চিকিৎসকদের প্রতিটি পদোন্নতির জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মুখোমুখী হতে হয়, অন্য সার্ভিসের কর্মকর্তাদের তেমনটি করতে হয় না, এটি বড় ধরনের বৈষম্য। এ বৈষম্য নিরসনের জন্য সক্রিয়ভাবে চিন্তা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক শেখ নূরুল আলম এবং সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বক্তৃতা করেন ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তিন'শ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৬:১০ AM 0 মন্তব্য(গুলি)

বৃহষ্পতিবার প্রায় তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে ন্যাশনাল আইপি ব্যাকবন তৈরির লক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিক সমূহের মধ্যে রয়েছে নতুন অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিদ্যমান অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করে উচ্চমতা সম্পন্ন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে আইপি ভিত্তিক বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য একসেস নেটওয়ার্ক স্থাপন।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট একসেস স্পিড ২৫৬ কেবিপিএস বা তার অধিক থাকবে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিপিএন, পয়েন্ট টু মালটি পয়েন্ট ট্রিপল প্লে বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট আইপি ফোন, আইপিটি ভুক্ত এবং ভবিষ্যতে আইপি ভিত্তিক যেকোন সেবা সুবিধা পাওয়া যাবে।

মেসার্স কেটি কর্পোরেশন কোরিয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রকল্পবাস্তবায়নকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেটি কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।সরকারের পক্ষে বিটিসিএল এমডি এসএম খাবিরুজ্জামান এবং মেসার্স কে টি কর্পোরেশন, কোরিয়ার পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাং সু হো চুক্তি স্বাক্ষর করেন।ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বলেছেন, দেশের ৬টি বিভাগীয় শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে ইন্টারনেট ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে আরো একধাপ অগ্রগতি সূচিত হলো।

তিনি ঢাকায় টেলিযোগাযোগ ভবন সম্মেলন কক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীল কান্তি বোস, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ, বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সুক বাম পার্ক এবং বিটিসিএল এর এমডি এস এম খাবিরুজ্জামান বক্তৃতা করেন।মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইন্টারনেট ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক এক্সপানশন (ইনফোবাহন) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে তথ্য প্রযুক্তি বিকাশে এক যুগান্তকারী ইতিহাসের সূচনা হবে। ছাত্র ছাত্রীরা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞান বিকাশের অবারিত সুযোগ পাবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কোরীয় সহযোগিতা কামনা

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৬:০৩ AM 1 মন্তব্য(গুলি)
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কোরীয় সহযোগিতা চেয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সুক বাম পার্ক আজ সোমবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাত করতে এলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহায়তাসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কোরীয় সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে কোরীয় ইপিজেড, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা ছাড়াও বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কের বিস্তারিত দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ডাঃ দীপু মনি বাংলাদেশের চামড়া শিল্প, পর্যটন, শিক্ষা, সার, কম্পোজিট টেক্সটাইল, পাট ও পাটভিত্তিক শিল্প, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতে কোরীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ইপিএস এর আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ হতে জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টি দ্রুততর করার জন্য তিনি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ট, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতার সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন। উলে¬খ করা যেতে পারে বৈদেশিক বিনিয়োগকারী হিসেবে ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোরীয় দূত বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় ডাঃ দীপু মনিকে অভিনন্দন জানান। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক কোন সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন তবে তার সরকার ও সেদেশের জনগণ অধিকতর খুশি হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৫:৪১ AM 1 মন্তব্য(গুলি)
একটি সকাল: “কলিংবেলের শব্দে একটু আলসেমি নিয়েই ঘুম থেকে উঠল পুলক, গতকাল সারাদিন খুব ব্যস্ততার মধ্যে সময় কেটেছে, সারাদিন ধরে আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে আসা ইলেকট্রনিক রিপোর্টগুলোর সারসংপে তৈরী করে সেটা নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত হেড অফিসের সাথে ভিডিও কন্ফারেন্সিং শেষ করার পর ঘুমুতে যেতে পেরেছে। যা হোক, দরজা খুলতেই পুলক দেখতে পেল যে গতকাল অন্লাইনে অর্ডার দেয়া শাড়িটি সুন্দরভাবে প্যাকেট করে হাসিমুখে ডেলিভারীম্যান আনিস ভাই দাঁড়িয়ে আছে। আচ্ছা, প্যাকেটের উপরের স্বচ্ছ অংশ দিয়ে দেখে শাড়ির রংটা বেশ গাঢ় গোলাপী মনে হচ্ছে কেন! অথচ ওদের ওয়েবসাইটে তো শাড়িটির রং সুন্দর হালকা গোলাপী মনে হয়েছিল! অন্লাইনে জিনিসপত্র কেনার এই এক সমস্যা। লতাকে মানাবে তো এই গাঢ় রং! আসলে পুলকের পছন্দ হয়েছিল অন্য একটি সাইটের হালকা নীল রংয়ের শাড়িটি, যদিও ওটার দাম সামান্যই বেশী ছিল, কিন্তু গতকালই বাসার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলগুলো পুলকের ক্রেডিট কার্ড থেকে অটোমেটিক্যালি কেটে নেওয়ায় কার্ডে ব্যালান্স বেশী ছিল না। কি আর করা! যা হোক, তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে বাড়ী যাবার জন্য ট্রেন ধরতে যেতে হবে। এই ট্রেনে এত ভীড় হয় আজকাল যে টিকেট পাওয়াই মুশকিল! ভাগ্যিস পরশু রাতেই পুলক ঘুমুতে যাবার আগে ইন্টারনেটে ‘সিল্কসিটি ইন্টারসিটির’ রিজার্ভেশনটা করে রেখেছে। ... .. .. ” - এটিই হচ্ছে আমাদের স্বপ্নের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ একটি খন্ডিত চিত্র।

ভূমিকা: আমরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ডিজিটাল প্রোডাক্টের নাম শুনে থাকি, যেমন, ডিজিটাল ক্যামেরা, ডিজিটাল ঘড়ি, ডিজিটাল ফোন, ইত্যাদি, ইত্যাদি। এরই সাথে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে
আরেকটি নাম, “ডিজিটাল বাংলাদেশ”, সন্দেহ নেই যে এই নতুন নামটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে! এই ডিজিটাল বাংলাদেশ ও এটি বাস্তবায়নের েেত্র প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহের ব্যপারে একটি ছোট ও সাধারণ ধারণা দেয়াটাই এই লেখাটির ুদ্র প্রয়াস।

প্রাথমিক ধারণা: প্রথমে ডিজিটাল সিস্টেম সম্পর্কে একটি ধারণা নেয়া যাক। ডিজিটাল সিস্টেম হচ্ছে এমন একটা সিস্টেম যেখানে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত ধেকে শুরু করে যে কোন ধরনের একটা ডকুমেন্ট কিংবা ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিসমূকে গাণিতিকভাবে ‘১’ ও ‘০’ দিয়ে প্রকাশ করা হয় ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাপনায় সংরণ করা হয়,
যাদের বলা হয় “ডিজিটাল ডাটা’। একটা উদহারণ দেয়া যাক, ‘ক’ কে যদি ‘০১০০’ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তেমনি ‘ল’ ও ‘ম’ কে যদি যথাক্রমে ‘০১০১’ ও ‘০১১০’ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাহলে, ‘কলম’ কে প্রকাশ করা হবে ’০১০০০১০১০১১০’ দিয়ে। এই ডিজিটাল ডাটার প্রধান সুবিধা হল যে ডিজিটাল ডাটাকে যে কোন প্রয়োজন অনুসারে অনেক সহজে প্রক্রিয়াকরণ করা যায়। তা ছাড়াও, ডিজিটাল ডাটার এক স্থান হতে অন্য স্থানে আদান-প্রদান পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনাও অনেক বেশী নির্ভরযোগ্য ও ত্র“টিমুক্ত। এই কারণেই আজকাল মোবাইল ফোনসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডিজিটাল ডাটা ব্যবহার করা হয়।
আগেই বলেছি যে ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি নতুন শব্দ, একটি নতুন ধারণা, একটি নতুন স্বপ্ন। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আমি যেটা বুঝেছি তা হল, বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী অফিস, শিা, গবেষণা ও সেবামূলক এবং বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ে দাপ্তরিক, শিা-গবেষণামূলক, সেবামূলক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজন অনুসারে যাবতীয় তথ্য, উপাত্ত, ডকুমেন্ট, ইত্যাদি সংগ্রহ, সংরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও আদান-প্রদান ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হবে। কম্পিউটার ও কম্পিউটারের সহযোগী যন্ত্রপাতিসমূহ, যেমন, স্ক্যানার, প্রিন্টার, ক্যামেরা, ইত্যাদি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাদি ও সর্বোপরি ইন্টারনেট ও সাপোর্টিং সফট্ওয়্যার হচ্ছে এই ডিজিটাল বাংাদেশ গড়ে তোলার জন্য মূল কারিগরি ভিত্তি।

প্রায়োগিক ত্রে: ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাকে প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, ইলেকট্রনিক-প্রশাসন বা সরকারী েেত্র এটাকে ইলেকট্রনিক-গভর্ণমেন্ট বলা যেতে পারে, ইলেকট্রনিক-সেবা এবং ইলেকট্রনিক-ব্যবসা-বাণিজ্য। এই তিনটিরই ত্রে অনেক ব্যাপক হওয়ায় এসব নিয়ে এই স্বল্পপরিসরে সম্পূর্ণ আলোচনা করা অসম্ভব, সেজন্য আমি দূু-একটি বিষয়ের উপর সামান্য আলোকপাত করার চেষ্টা করব।
আনন্দের কথা এই যে এই ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ, বাংলাদেশের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের একটি ডাটাবেস প্রস্তুতকরণ, গত জাতীয় নির্বচনের পূর্বে সম্পন্ন করা হয়েছে - যেটা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।

ইলেকট্রনিক-গভর্ণমেন্ট হচ্ছে এমন এক ব্যবস্থা যেখানে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের, সরকারের সাথে সাধারণ নাগরিকের, সরকারের সাথে সরকারী-বেসরকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ও সরকারের সাথে তার নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগাযোগ, তথ্য ও নির্দেশনা সংগ্রহ ও আদান-প্রদানসহ যাবতীয় কর্মকান্ড ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে করা হবে। যেমন, একজন নাগরিক তার পাসপোর্ট, নাগরিক সনদপত্র, সরকারী চাকুরী, পেনশন ইত্যাদির জন্য ঘরে বসেই ইন্টারনেট বা কোন কোন েেত্র এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে। আবার যেমন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশের সকল থানা সমূহকে কম্পিউটারাইজ্ড করণপূর্বক সেটাকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে, থানার সকল কাজকর্ম, অপরাধের ধরন ও অপরাধীদের ছবি ও তথ্যসহ সকল বিষয় কম্পিউটারে সংরণ করে এমন একটা ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যেখানে বালাদেশের যেকোন স্থান থেকেই ঐ সংরতি তথ্য সমূহ দেখা ও ব্যবহার করা যাবে, এমনকি স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বা আইজিপি নিজেই নিজ কার্যালয়ে বসেই এ সকল কাজকর্ম পর্যবেণ করতে পারবেন, সবার সাথে মিটিং করতে পারবেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবেন। এর ফলে কাজকর্মের গতিও যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি দতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। একইভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন আঞ্চলিক ও স্থানীয় দপ্তর থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কৃষি উৎপাদন, কৃষি উপকরণ, কৃষি-বাজার ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য, উপাত্ত, সমস্যা ও পরামর্শ প্রণয়ন সমূহ ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে। তবে ত্রেবিশেষে কিছু বিষয় ল্য রাখতে হবে, যেমন, উত্তরবঙ্গ মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা, তাই ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনা চালু করলে এই এলাকা উপকৃত হবে বেশী তাতে সন্দেহ নেই। তবে যেহেতু এই এলাকার মাথাপিছু আয় দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় কম এবং এখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেশ কম, তাই ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনাটা সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ভিত্তিক করার চাইতে, মোবাইল ফোন বা এসএমএস ভিত্তিক করতে পারলে এই এলাকার মানুয়ের হাতে হাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল বেশী পৌছাবে ।
যা হোক, একইভাবে শিা মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল দপ্তরসমূহের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা ও কর্মকান্ড পর্যবেণ, নির্দেশনা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরকরণ ছাড়াও বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিা ও গবেষণামূলক তথ্য, উপাত্ত, ইলেকট্রনিক-বই সমূহ আদানপ্রদানও ডিজিটাল ব্যবস্থার অধীন হতে পারে। এইভাবে বাংলাদেশের প্রতিটা মন্ত্রণালয়ই ডিজিটাল বাংলাদেশের একেকটি অংশ হতে পারে।

টেলি-মেডিসিন এবং অনলাইনে আইনী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ইলেকট্রনিক-সেবা প্রদানের আরো কয়েকটি উদহারণ। এই টেলি-মেডিসিনে দূরবর্তী চিকিৎসকের পরামর্শ ও সেবা নেওয়া সম্ভব। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পৌছে দেয়া সম্ভব হবে। এছাড়াও সরকারী ও বেসরকারকারী সেবাখাতসমূহের বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধাও যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি সময় ও অর্থেরও সাশ্রয় হবে।

ইলেকট্রনিক-ব্যবসা বা ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা হচ্ছে এই সময়ের সবচেয়ে অগ্রসরমাণ ব্যবসা পদ্ধতি। ইন্টারনেট ভিত্তিক এই বাজারের পরিধি আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ঘরে বসে ২৪ ঘন্টাই যেকোন পণ্যের অর্ডার দেয়া যেতে পারে ও অনেক ব্যবসায়িক কাজকর্ম করা যেতে পারে। এইসব পণ্যের তালিকায় বাস-ট্রেনের টিকেট থেকে শুরু করে গান, সিনেমা, বই, জামা-কাপড়, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, গাড়ী, বাড়ি, জমি সবই হতে পারে। ব্যবসায়িক কাজকর্মের মধ্যে ঘরে বসে ২৪ ঘন্টাই ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন থেকে শুরু করে শেয়ার কেনাবেচা, নিলামে অংশগ্রহণ সবই হতে পারে। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা করা যায়।

মৌলিক শর্তাবলী: প্রথমেই দেখা যাক যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটি বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত ও কার্যকরী পদপেগুলো কি ধরণের হতে পারে।
যেহেতু ডিজিটাল পদ্ধতির প্রধান কারিগরি উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার ও কম্পিউটারের সহযোগী যন্ত্রপাতিসমূহ, টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান সংক্রান্ত অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থাসমূহ, সুতরাং শুরুতেই বলা যায় যে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবস্থাপনা ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শর্ত। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ, এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ২০ শতাংশ মানুষও এই সুবিধার আওতায় নেই। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ, লো-ভোল্টেজ ছাড়াও লোডশেডিং মাঝে মধ্যে দিনে ১০ ঘন্টারও বেশী হয়। সুতরাং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবস্থাপনার এই মৌলিক শর্তটি পূরণ না করে সার্থক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্নটি শেষপর্যন্ত একটি দিবাস্বপ্ন হয়ে যেতে পারে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান সংক্রান্ত উন্নত ও দ্রুতগতিসম্পন্ন যোগাযোগ কাঠামো নিশ্চিত করা, এই যোগাযোগ কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানত “ফাইবার অপটিক” ব্যবহার করা হয়, এবং এটা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা ছাড়াও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যবস্যা গড়ে তোলার জন্য অন্যতম প্রধান কারিগরি পূর্বশর্ত। বর্তমানে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হলেও, আভ্যন্তরিক-দ্রুতগতিসম্পন্ন তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার অভাবে এই সংযোগের পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে, এখন দরকার, দেশের আভ্যন্তরিক-দ্রুতগতিসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতে বড় বড় কর্পোরেট থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়েও দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা যায়। এটা ব্রডব্যান্ড হতে পারে কিংবা অপটিক ফাইবার হতে পারে কিংবা ওয়াই-ম্যাক্সও হতে পারে। বেসরকারকারী টেলি-অপারেটরদের নিজস্ব অপটিক ফাইবারের নেটওয়ার্ক যদিও দেশের অনেকটা জুড়ে রয়েছে, কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন যে সেটা খুবই ব্যয়বহুল, বলতে গেলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে, ফলে এটা ব্যাপকভিত্তিক জনগণের জন্যে বা বানিজ্যিক পর্যায়ে ব্যবহারের উপোযোগী নয়। অন্যদিকে সরকারী প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের এইধরনের যোগাযোগ কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যদিও রয়েছে, তবে তার বাস্তবায়নের হার খুবই ধীরগতিসম্পন্ন । সুতরাং দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে তা হল সস্তায় সাধারণ মানুষের হাতে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সুবিধাদি পৌছে দেয়া।

তৃতীয়ত যে বিষয়টা ল রাখা যেতে পারে সেটা হল, যেহেতু বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ও ব্যবহার করার সামর্থ্য এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পৌছে নাই, তারচেয়ে বরং মোবাইল ফোন সাধারণ মানুয়ের অনেক কাছাকছি পৌছেছে, সেই কারণে ডিজিটাল বাংলদেশের বাস্তবায়নের সময় এটাকে ইন্টারনেট ভিত্তিক করার পাশাপাশি, যতটুকু সম্ভব, এসএমএস ভিত্তিক করার চেষ্টা করতে হবে যাতে এটা সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যেতে পারে।

আইনী কাঠামো: ডিজিটাল ডকুমেন্টগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা আইনী দৃষ্টিকোণ থেকে নিশ্চিত করতে হবে। উদহারণ দেয়া যাক, দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য হার্ডকপি ছাড়াই কোন্ কোন্ ধরণের ইলেক্ট্রনিক ডকুমেন্ট প্রহণ করা হবে বা হবে না, কোন্ কোন্ অপরাধকে সাইবার অপরাধ বলা হবে ও তার জন্যে শাস্তির বিধান কেমন হবে, ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদির গ্রহণযোগ্যতা কোন্্ কোন্ েেত্র থাকবে বা থাকবে না, এইসব বআপারে সুনির্দিষ্ট আইনী কাঠামো থাকা প্রয়োজন। এই আইনী কাঠামো কিভাবে নির্ধারিত হচ্ছে তার উপর নির্ভর করবে ডিজিটাল বাংলাদেশে ব্র্যপ্তি কতটুকু হবে।

পূনর্বাসনকরণ: ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার অর্থই হবে যে অফিস, আদালত, ব্যাংক ইত্যাদিতে অনেক অল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অনেক দভাবে কাজকর্ম পরিচালনা করা সম্ভব হবে, ফলে এইসব স্থানে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের হার কমে যাবে, তেমনি অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন পড়বে। এইকারণে এই ব্যাপারে আগে থেকেই পূনর্বাসন পরিকল্পনা হাতে নেয়া উচিৎ যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সময় সাধারণ জনগণের মনে এই নিয়ে কোন ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরীর অবকাশ না থাকে।

সাধারণ কারিগরি কাঠামো: বাংলাদেশের সকল সরকারী ও বেসরকারকারী প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক-প্রশাসন চালুর েেত্র একটি কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডার্ড থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই অনেক সরকারী ও বেসরকারকারী প্রতিষ্ঠানে আংশিকভাব নিজস্ব ইলেকট্রনিক-প্রশাসন চালু করেছে বা চালুর প্রক্রিয়াধীন আছে। এইসব প্রতিষ্ঠানে চালুকৃত এই ইলেকট্রনিক-প্রশাসন যদি একটি কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে যখন এইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আ:ন্তযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, সেইসময় গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এইজন্যে ডিডিটাল বাংলাদেশ তৈরীর শুরুতেই এই কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডার্ড নির্দিষ্ট করে দেয়া উচিং।

বানিজ্যিক সম্ভাবনা: আসল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজটি ভীষণ ব্যাপক । এর জন্য প্রয়োজন পড়বে নতুন নতুন অনেক সফটওয়্যার ও অনেক হার্ডওয়্যার স্থাপনকরণ, আর স্থানীয়ভাবে এগুলো ডেভেলপ করতে চাইলে, সেটা হবে একটা বিশাল কর্মত্রে ও বিশাল বাজার, এরজন্য যেমন দরকার ব্যাপক বিনিয়োগের, তেমনি দরকার পড়বে দ পেশাজীবী ও জনশক্তির। এদুটোই বর্তমানে চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পড়বে নতুন নতুন আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপন, এছাড়াও ব্যবহারকারীদের প্রশিণ দেয়া ও রনাবেণ কাজের প্রয়োজনে দ জনশক্তি তৈরীর জন্য দরকার পড়বে অনেক প্রশিণ কেন্দ্রের। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় এই চাহিদা মেটানোর জন্য আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপন করা হলে, সেখানে কর্মরত পেশাজীবীদের পেশাগত দতা যখন দৃদ্ধি পাবে, তখন একসময় তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আস্থা অর্জন ও তাদের আকৃষ্ট করতে সম হবে বা আন্তর্জাতিক আইটি বাজারে সফটওয়্যার রপ্তানীর সুযোগ করে দিতে পারে।

বাংলা-ভাষাভিত্তিক সফটওয়্যার: সাধালণ মানুষের হাতে বাংলাদেশের সুফল কার্য়কর ও ফলপ্রসুভাবে পৌছে দিতে চাইলে কম্পিউটারের সফট্ওয়্যার ও মোবাইল ফোনের মেন্যূগুলো বাংলা ভায়ায় রুপান্তর করতে হবে। উন্নতবিশ্বে, যেমন, জাপান, কোরিয়া, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশে তাদের নিজস্ব ভাষায় কম্পিউটারের সফট্ওয়্যার ও মোবাইল ফোনের মেন্যূগুলো রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ বা অল্পশিতি মানুষের পে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার আয়ত্ব করা বেশ সহজসাধ্য হয়েছে, এইকারণে সেইসব দেশে দৈনন্দিন নাগরিক জীবনে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়াও এর ব্যাপক বানিজ্যিক ব্যবহারও রয়েছে। তাই আমাদেরকেও বাংলা ভাষাভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরীর ব্যাপারে অবশ্যই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

আইটি-ভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা: ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সময় সম্ভাবনাময় যে বিশাল বাজারের কথা বলা হয়েছে, সেই বাজার যেন দেশীয় আইটি ভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ত্বে থাকতে পারে সেজন্যে তাদের যথাযত: প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। এইজন্য তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্য-প্রযুক্তিতে দ পেশাজীবীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ছাড়াও সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তেরীর জন্য স্বীকৃত ও মানসম্মত নিয়মপদ্ধতি অনুসরণ করার অনুশীলন করা উচিং, যেটা এখন পর্যন্ত অধিকাংশ সফটওয়্যার ডেভেলপকারী কোম্পানীগুলোতে অনুপস্থিত। এই সীমাবদ্ধতা এখন থেকেই কাটিয়ে উঠতে না পারলে, এই বিশাল বাজার বিদেশী কোম্পানীগুগোর নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, এতে একদিকে যেমন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হবে, অন্যদিকে তথ্য-প্রযুক্তিতে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও দপেশাজীবী তৈরীর সুযোগ হারানো হবে। এছাড়াও আরেকটা ব্যাপার হল, স্বীকৃত ও মানসম্মত নিয়মপদ্ধতি অনুসরণ করে, একবার ব্যবহারিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরী করতে পারলে সেটা পেশাগত দতাকে প্রমাণ করবে যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরকেও আকৃষ্ট করতে পারে, ফলে এই েেত্র আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরী হবে। আসলে আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলো সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরীর কাজ দেবার আগে যাচাই করে দেখতে চায় যে এইসব তৈরীর ব্যপারে কোম্পনীগুলোর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা কতটুকু আছে। আর স্থানীয় বাজার তৈরী ও সেখানে কাজ করা ব্যতিরেক এই ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও কম থাকে।

বিশ্ববিদ্যায়গুলোর ভূমিকা: উন্নত প্রতিটি দেশে যেকোন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের সময় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় থাকে বা যৌথ উদ্যোগও থাকে, যেটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদেশে অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে বিদেশী প্রতিষ্টানের উপর থেকে যেমন নির্ভশীলতা কমে যায়, তেমনি ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রজীবন থেকেই পেশাগত দতা অর্জনের সুযোগ পায়। এইসব কারণে বিদেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যৌথ গবেষণাপ্রকল্প বাস্তবায়ন কিংবা, সরকারের নিজস্ব কোন প্রকল্প সরকারী সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা ছাড়াও, সরকালী দপ্তর ও সরকারী-বেসকোরী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম কাশ নিয়ে থাকেন। এর ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাবহারিক ও গবেষণামুলক কর্মকান্ডের প্রসার ঘটে, অন্যদিকে তেমনি ছাত্র-ছাত্রীরা ছাত্রজীবন থেকেই ব্যাবহারিক ও পেশাগত জীবনের প্রস্তুতি নিতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের েেত্র এদেশের বিশ্ববিদ্যায়লগুলো প্রয়োজনীয় দ মানবসম্পদ ও পেশাজীবী তৈরী করা ছাড়াও, বাস্তবায়নের সময় যেসব ব্যবহারিক সমস্যা তৈরী হতে পারে, সেসব সমস্যার ব্যপারে গবেষণাপূর্বক সমাধান দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। এছাড়াও কমন কারিগরি কাঠামো বা ষ্ট্যান্ডাড তৈরী, বা বাংলা ভাষাভিত্তিক সফট্ওয়্যার তৈরীর মত মৌলিক েেত্র বিশ্ববিদ্যালয়গুরো অবদান রাখতে পারে।

প্রশিণ: শুধু দ পেশাজীবী তৈরীর ব্যাপারেই নজর দিলে হবে না, ডিজিটাল বাংালাদেশের সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এর ব্যবহারকারীরা। তবে বাস্তবতা এই যে, এদেশ এখনও তথ্য-প্রযুক্তিতে অনগ্রসর, দেশের অধিকাংশ মানুষই স্বল্পশিতি বা অশিতি, তথ্য-প্রযুক্তির উপকারিতা ও ব্যবহার সম্পর্কে তাদের সামান্যই জ্ঞান রয়েছে, এবং তাদের ব্যাপক অংশকে এই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা ও ব্যবহার করার েেত্রর সাথে সম্পৃক্ত করার উপরই নির্ভর করবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মূল সার্থকতা। এই ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারনা ও ব্যবহারিক দিকের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য যথাযত প্রশিণের ব্যবস্থা এবং কমপে নিম্নমাধ্যমিক স্তর থেকে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক পাঠ্যক্রম বাধ্যতামূলক করা দরকার, এই লে এইসব শিাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিকের নিয়োগের ব্যবস্থাকরণ ছাড়াও বর্তমান শিকদের প্রশিণের ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি এই ব্যাপারে এনজিও-গুলোও ভূমিকা রাখেতে পারে।

জনরাধারণের প্রস্তুতি: ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধাগুলো যারা ফলপ্রসুভাবে পেতে চাইবেন, অথবা অন্য কথায়, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধাগুলো বাংলাদেশের দ্বারে দ্বারে পৌছে দিতে চাইলে, সকল নাগরিকের ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা দরকার। বাংলাদেশে বর্তমানে সারতার ৪৫ শতাংশ, ইংরেজী ভাষার উপর ন্যূনতম জ্ঞান আছে এমন নাগরিকের সংখ্যা খুবই কম, ফলে যেহেতু কম্পিউটারের অধিকাংশ সফট্ওয়্যার ও মোবাইল ফোনের মেন্যূগুলো ইংরেজীতে লেখা, সেহেতু এই ধরনের অল্পশিতি নাগরিকদের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল কার্য়কর ও ফলপ্রসুভাবে পৌছে দেয়া প্রায় অসম্ভব। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল কার্য়কর ও ফলপ্রসুভাবে পেতে নাগরিকদের ন্যূনতম শিতি ও প্রশিতি হওয়ার চেষ্টা করতে হবে এক্ষং এব্যাপারে সরকারকেও উদ্যোগী হতে হবে।
আঞ্চলিক উন্নয়ন: বাংলদেশের উন্নয়নের েেত্র যেসব আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে, বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসংস্থান তৈরীর েেত্র, যেখানে অনেকেেত্র কাচামাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলার কারণে ভারী বা মাঝারী শিল্পস্থাপন বাস্তবসম্মতও হয়না, সেইসব অঞ্চলে এই আইটি ভিত্তিক শিল্পষ্থাপন করা যেতে পারে। যেমন, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরের মত অঞ্চল, যেগুলো মূলত বেশ শান্ত শহর। তবে, প্রাকৃতিক গ্যাসের অভাব ও সামুদ্রিক বন্দর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় কারণে এবং স্থানীয় চাহিদা বা বাজারের পরিধি বেশ ছোট হওয়ায়, ভারী ও মাঝারী শিল্পস্থাপনা এখানে খুব একটা লাভজনক হয়না। কিন্তু আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপনার জন্য গ্যাসও লাগেনা, স্থানীয় বাজারের পরিধি কতটা, তাতেও তেমন যায় আসেনা, ট্রাকে বা ট্রেনে সামুদ্রিক বন্দরে মালামাল পৌছাতে কত খরচ পড়বে বা সময় লাগবে, সেটাও ভাবতে হয়না। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রাথমিক শর্তপূরণ করলেই রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরে আইটি নির্ভর শিল্প গড়ে তোলা লাভজনক হবে, কেননা, এসব শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় রাজধানী ঢাকার তুলনায় অনেক কম, ফলে ঢাকার চেয়ে অর্ধেক আয় করেও তা দিয়ে সবাই বেশ স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারে, এইসব কারণে এখানে সাশ্রয়ী পারিশ্রমিকে ডেভেলপার পাওয়া যাবে, যারফলে উৎপাদন ব্যয়ও কমে যাবে। আবার, বাংলদেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এইসব অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেক বেশী। ভৌগলিকভাবে এইসব অঞ্চল কিছুটা উচুভূমির হওয়ায় কারণে এইসব অঞ্চলে বন্যার প্রাদূর্ভাবও তুলনামূলক ভাবে কম। ফলে এখানে শিল্প উৎপাদনও ব্যাহত হবে কম। এইভাবে সরকারী উদ্যোগে এইসব অঞ্চলে আইটি ভিত্তিক শিল্পস্থাপনের মাধ্যমে দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।

বিসিএস আইটি সার্ভিস ক্যাডার: সরকারী কর্মকান্ডে ও দপ্তরসমূহে তথ্য-প্রযুক্তিতে সত্যিকারের দ মানবসস্পদ ও পেশাজীবী নিশ্চিত করতে চাইলে স্বতন্ত্র বিসিএস সার্ভিস ক্যাডার বা তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির সার্ভিস চালূ করা প্রয়োজন। এটা চালু করা হলে দেশের তরুণ সমাজ যেমন এই পেশায় ক্যারিয়ার তৈরী করতে আগ্রহী হবে, ফলে দেশে এই পেশায় দ মানবসস্পদ ও পেশাজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, আবার অন্যদিকে তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নও সহজ হবে, ডেপুটেশনে অন্য বিষয়ের বিশেষজ্ঞ দিয়ে তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দরকার পড়বেনা বা সুযোগও থাকবেনা।

সতর্কীকরণ: ডিজিটাল বাংলাদেশ মানেই একদিকে যেমন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, নাগরিক সেবা উন্নতকরণ ও বৃদ্ধিকরণ, অন্যদিকে তেমন, দূনীতির রাস্তাগুলো বন্ধকরণ। এই কারনেই, আমাদের অভিজ্ঞতা এটাই বলে যে দেশের রাজনীতিবিদ ও সরকারী আমলাদের দুর্নীতিগ্রস্ত অংশটি এই্ ডিজিটার বাংলাদেশ তেরী এবং সঠিক, কার্যকর ও ফলপ্রসুভাবে বাস্তবায়নের েেত্র প্রধান বাধা হয়ে দাড়াতে পারে। এই দুর্নীতিগ্রস্ত অংশটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নামে বিপুল পরিমাণ সরকারী অর্থের অপচয় ও লোপাট করার চেষ্টা করতে পারে। এছাড়াও, সরকার যদি ডিজিটাল বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য অল্পসুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে পারে, সেেেত্র একদিকে যেমন ল রাখা প্রয়োজন যাতে সঠিক উদ্যোক্তারা বঞ্চিত বা ভোগান্তির শিকার না হয়, অন্যদিকে ভূয়া প্রকল্প নিয়ে কেও যেন অর্থের অপচয় ও লোপাট করতে না পারে, সেব্যপারেও সতর্ক দৃুষ্টি রাখতে হবে। এইসব বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

শেষকথা: ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হোক, উন্নয়ণের ছোয়া লাগুক তথ্য-প্রযুক্তিতে অনগ্রসর এই দেশটিতে। দূর্নীতিতে নয়, তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বাবহারেও আমাদের দেশ যেন শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে থাকতে পারে, এরকম একটি সুন্দর সকালের জন্য আমাদের সকলের অপো।


----------------
০৮/০৩/২০০৯, রাজশাহী।

ড: শামীম আহমদ
সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক
কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

'Telephone ladies' connect Bangladesh

এর দ্বারা পোস্ট করা Digital Bangladesh এই সময়ে ৫:১৫ AM 0 মন্তব্য(গুলি)
The Commonwealth Heads of Government are meeting this weekend in Malta.
One of the issues they will be discussing is how to bridge the so-called digital divide - the gap between those in the industrialised world who have access to information technology, and those in the developing world who do not.

Mobile phones are seen as key in countries with poor landline networks, but the question is how to get them into the hands of the poor.

One pioneering scheme in Bangladesh has become famous for its "telephone ladies".

Kalimajani is a typical Bangladeshi village.

It is surrounded by paddy fields and the only way to get here is by walking along pathways. People live in huts made of corrugated iron.



Like much of rural Bangladesh there's no fixed line telephone service. In fact, the country has one of the world's least developed networks.

So Kalimajani was largely cut off from the world.

Until, that is, Roshinara Begum got her mobile phone.

Selling calls

She was helped to buy it by Grameen bank. It has long been a leader in micro credit, giving small loans to help the poor set up businesses.

Now it is bringing technology to rural areas. Roshinara Begum sells calls. She's become one of Bangladesh's telephone ladies.

"Before I got the phone nobody respected me," she said as she sat in the tin hut she uses as her office, clutching the phone that has changed her life.

"Now I've been given a loan from Grameen bank, even the chairman and the members of the local council know me and respect me."

Roshinara Begum makes a good living selling calls, earning $60 to $70 a month.

Recently she was able to buy her son a bicycle to ride to school.

Some of Roshinara Begum's customers use the service to keep in touch with loved ones far away.

Many have to leave rural areas in search of work, going to one of Bangladesh's big cities or further afield to countries in the Middle East.

Others, though, are farmers like Mohammed Abul Kashem. He runs a fish farm of 10 man-made ponds.

He uses the phone service to order food and other supplies from the capital.

"If the phone wasn't here then I'd have to travel to Dhaka," he says. "It's a very long and unpleasant journey.

"Now I can use the phone I am saving time and it makes my business more competitive."

'Win-win'

Grameen has given loans to 180,000 telephone ladies so far, and 10,000 more are being signed up each month.

The key to the success of the scheme is that it is not charity - every month Grameen gets $10m in revenue.

"This is a good business, for the Grameen phone and a good business for the rural women, poor women, Grameen bank borrowers," says Dipal Chandra Barua, the deputy managing director of Grameen bank.

"At the same time customers are also benefiting because, even though they don't have a phone, they are getting a phone service at cost price, at a market price.

"So this is good - a win-win situation for the broader customer, our telephone ladies and Grameen phone also."

Grameen is now hoping to bring the web to rural areas too.

It has given loans to set up three experimental internet cafes, connected wirelessly.

If successful, they will be expanded nationwide. Thanks to innovative finance, Bangladesh's villages are joining the digital age.
By Roland Buerk
BBC News, Dhaka
Source:http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/4471348.stm